মুহাম্মদ দিদার হোসাইন, বাঁশখালী:
বাঁশখালী উপজেলাধীন ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামের হাজি কালামিয়া পাড়ার পূর্বপাশে যে বিলটি আছে, এই বিলের ঐতিহাসিক নাম হচ্ছে ” দরগাহঘোনা” প্রায় দেড়শো বছরের প্রাচীনতম ওই দরগাভিটায় মানুষ রূপী শকুনের নজর পড়েছে। প্রায় দেড়শো বছর থেকে এখানে একটি দরগাহভিটা থাকার কারণে এই বিলটিকে দরগাহঘোনা হিসেবে সম্বোধন করা হয়।
জনশ্রুতি রয়েছে এই দরগাভিটায়, কোন একজন আল্লাহর মকবুল বান্দার কবর রয়েছে। দরগাভিটার বর্তমান অবস্থান যেখানে, সেটি একসময় ছিল পুরো চর এলাকা। বাঁশখালীর জলকদর খাল হয়ে দরগাহভিটের পাশের চরে নৌকা চম্পান এসে নোঙর করত। তখন এই চরাঞ্চল দিয়ে মালামাল পণ্যের উঠানামা হতো। এটি ছিল একটি জংশন এলাকা। কোন একসময় এই জংশনে একজন লোক মারা যাওয়ার পর তাঁকে এই দরগাভিটায় দাফন করা হয়। তখন থেকে এটি দরগাভিটা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো ঐতিহাসিক দরগাহভিটেটি সেই ছোটকালে আমরা যেভাবে দেখেছিলাম গত কয়েকদিন আগেও ঠিক সেভাবে দেখেছি। এটি বছরের পর বছর অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকে। কেউ এটার সংরক্ষণের জন্য এগিয়ে আসেনি। তবে প্রায় দেড়শো বছর পেরিয়ে গেলেও এটি তার আসল রূপ থেকে মুছে যায়নি।
ঐতিহাসিকভাবে এই দরগাহভিটে সম্পর্কে এলাকার আশির্ধো প্রবীণ মুরব্বিদের কাছ থেকে অনেক ঘটনা জানতে পেরেছি।
এলাকার মুরব্বিদের অনুরোধে বিগত ২০১৬ সালে উপকূলীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সাংবাদিক আনোয়ারুল আজিম সাঈফী এবং তাঁর ফুফাতো ভাই জাহাঙ্গীর ও জামাল সহ মিলে চারপাশে মাটি ভরাট করে সুন্দরভাবে ঘেরাও করে দিয়ে রক্ষনাবেক্ষন ও দেখাশুনা করেন। কিন্তু সাম্প্রতিকসময়ে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ঘেরাওটি ভেঙে যায়। এরপর থেকেই দরগাহভিটেটি এক সংস্কার বিহীন অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এরইমধ্যে গত কয়েকদিন আগে দেখি এই দরগাহভিটায় মানুষ কতেক শকূনের নজর পড়ে যায়। যার কারণে এই শকুনের দল ওই দরগাভিটার মাটিগুলো কেটে জমিনের সাথে মিশে দেয়। তারা সেখানে দেড়শো বছরের পুরনো দরগাহভিটের কোন চিহ্ন সেখানে অবশিষ্ট রাখেনি। যারা এই কাজটি করেছে তাদের বাপ দাদার জন্মের বহু আগেই এই দরগাভিটার জন্ম। তাঁদের ক্ষমতা এতই বেড়ে গেছে যে, শেষমেশ তারা দেড়শো বছরের পুরনো দরগাভিটা কাটতেও দ্বিধাবোধ করেনি। স্থানীয়রা ওইসব ভূমিদস্যু মানুষ রূপী শকুনের আক্রমণাত্বক নজর থেকে প্রাচীনতম দরগাভিটাটি রক্ষা করতে প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এমন জঘন্য কর্মকান্ডের ফলে ওই এলাকার এলাকার মানুষের মধ্যে একটি চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
ওই দরগাভিটার চিন্থটি মুছে দিতে যারা উঠে পড়ে লেগেছে তাদের সেই স্বপ্ন এলাকার একদল শিক্ষিত তরুণ চুরমার করে দিয়েছে বলেও জানা যায়।ওই এলাকার শিক্ষিত তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুনরায় সে দরগাভিটায় মাটি ভরাট করে আগের রূপ ফিরিয়ে এনেছে মর্মে পরিদর্শনে দেখা যায়।
এইজন্য স্থানীয়রা জামাল সাত্তার, জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদুল ইসলাম,মোহাম্মদ কায়েস, মোহাম্মদ রফিক, বেলাল, শাহিন, নেছার, ইছহাকসহ আরো যারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন দরগাভিটা রক্ষার উদ্যোগে শামিল হয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তরুণ সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে ওই দরগাভিটা পুনরায় ভরাট করা।
দেড়শো বছরের পুরনো ওই পবিত্র দরগাহভিটা কেয়ামত পর্যন্ত অক্ষত রাখা এবং ভূমিদস্যুরা যাতে আর কোন ক্ষতি করতে না পারে সেই জন্যে সর্বাস্থায় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।