Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ বাঁশখালীর জনকণ্ঠ প্রতিনিধিকে হত্যার হুমকি দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

বাঁশখালীর জনকণ্ঠ প্রতিনিধিকে হত্যার হুমকি দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

বাঁশখালীর জনকণ্ঠ প্রতিনিধিকে হত্যার হুমকি দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের ফলে ডাকাতের আস্তানায় র‍্যাব-৭ এর অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে ৩ ডাকাত নিহত হওয়ায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশঃ
নিজস্ব সংবাদদাতা বাঁশখালী, ৬ মার্চঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হকের ব্যক্তিগত মুঠোফোন (০১৭১২৯৮০০৮৪) হতে জনকন্ঠের নিজস্ব সংবাদদাতা জোবাইর চৌধুরীকে প্রাননাশের হুমকি প্রদানের ঘটনা ঘটেছে |

রবিবার সন্ধ্যা ৬ঃ৩৮ মিনিটে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার থেকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এলাকায় দেখামাত্র নাজেহাল পূর্বক প্রানে মেরে ফেলার এ হুমকি দেন তিনি | তাছাড়া আমাদের সংবাদদাতার পরিবার কেও দেখে নিবে বলে এইসময় উল্লেখ করেছেন |

চেয়ারম্যান কতৃক ওই সংবাদকর্মীর মুঠোফোন (০১৭১৯৩৮১৮৬৮) নাম্বারে হুমকি প্রদানের অডিও বার্তা সংগৃহীত রয়েছে | এ ঘটনায় জনকণ্ঠ প্রতিনিধি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভোগছেন| চেয়ারম্যান মুজিব কতৃক প্রাননাশের হুমকির বিষয়টি বাঁশখালী থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার কে অবহিত করেন আমাদের সংবাদদাতা| জনকণ্ঠ প্রতিনিধি জোবাইর চৌধুরী সোমবার (৬ এপ্রিল) জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন|

ঘটনার সুত্রে জানাযায়, গত ২০১৯ সালে বাঁশখালীর চাম্বল ইউপির পূর্ব চাম্বল ছডারকুল পাহাডি এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদল আস্তানা গডে তোলে | প্রথমে অবৈধ অস্ত্রধারী ডাকাতদল বনরক্ষীদে জিন্মী করে পাহাড়ের গাছ কর্তন শুরু করে | ডাকাতদলের বেপরোয়া গাছ কাটার ফলে চাম্বলের পাহাড় অনেকটা উজাড হয়ে পডেছিলো| গাছ কেটে পাহাড় উজাড করেও ডাকাতদলের তান্ডব থামেনি | ধীরে ধীরে পাহাড়ের মাটি কাটা, সরকারি পিএফ জায়গা দখল করে বিক্রি করাসহ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের ঘর-বাড়িতেও হানা দিয়ে সর্বোত্র লুটপাট চালাতো|সাহস করে ডাকাতদলের সদস্যদের সাথে কোন মানুষ প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হতে হয় তাদের হাতে | ডাকাতদলের অস্ত্রের মহডায় পূর্ব চাম্বলবাসী এক প্রকার জিন্মী হয়ে পড়ে ছিলো |

তাছাড়া ডাকাদলের ওই আস্তানায় স্থানীয় ওই চেয়ারম্যানের ডানহাত খ্যাত একাধিক মামলার পলাতক আসামি নুরুল কাদের নামের দূর্ধষ ডাকাতের মাধ্যমে মহেশখালী হতে অস্ত্র তৈরির কারিগর এনে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রস্তুত করা হতো | আর এইসব অপরাধের নেপথ্যে গডফাদার হিসেবে চেয়ারম্যান মুজিব সরাসরি জড়িত থাকায় ভয়ে দীর্ঘদিন মানুষ মুখ খুলতে পারেনি | তবে ওই এলাকায় বসবাসকারী কিছু শিক্ষিত ও সাহসী লোকজন পাহাড়ে সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাতদল ও তাদের মদদদাতা হিসেবে চেয়ারম্যান মুজিবের নাম উল্লেখ করে র‍্যাব-৭, পুলিশ সদরদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বন অধিদপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন |

এরই প্রেক্ষিতে জনকন্ঠের অনলাইনে ও দৈনিকে পত্রিকায় পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতদলের আস্তানা ও বনজ সম্পদ উজাড় এবং অস্ত্রের মহডা দিয়ে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিন্মী করে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা সংগঠিত করার ধারবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয়| স্থানীয়দের অভিযোগ ও জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদ কে নজরে এনে ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই র‍্যাব-৭ বহদ্দারহাট ক্যাম্পের এ,এসপি কাজী মোঃ তারিক আজিজ এর নেতৃত্ব কৌশল অবলম্বন করে কয়েকটি টিম ওই পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতদলের আস্তানায় ভিন্ন ভিন্ন পথ দিয়ে প্রথম অভিযান পরিচালনা করে| র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে | র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাত সদস্যরা পিছু হটে পালিয়ে যায় |

পরে ঘটনাস্থলে জাকের আহমদ নামে এক ডাকাতের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে র‍্যাব সদস্যরা |তাছাড়া ডাকাতদের আস্তানা হতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে র‍্যাব | এ ঘটনার মাস না পেরুতেই একই এলাকায় ফের অভিযানে নামে র‍্যাব-৭ এর চৌকস দল| সেই অভি্যানেও র‍্যাব সদস্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে|ঘটনাস্থল হতে ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মোঃ ইরান নামে এক ডাকাতের মৃতদেহসহ বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে র‍্যাব |

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩য় দফা অভিযানে নামে র‍্যাব-৭ এর সদস্যরা | এ অভিযানেও ওই চেয়ারম্যান মুজিবের বাম হাত খ্যাত ৩১ জেলে হত্যাসহ ২৮ মামলার দুর্ধষ ডাকাত মোরশেদ বাহিনীর সাথেও র‍্যাব সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে | বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ডাকাতদলের বাকি সদস্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল হতে মোরশেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহসহ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে র‍্যাব সদস্যরা|র‍্যাব-৭ এর কয়েকদফা অভিযানের ফলে ডাকাত সদস্যরা গা ঢাকা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে |

র‍্যাব-৭ এর এই অভিযানের ফলে চাম্বল পাহাডি এলাকায় শান্তি ফিরে পেয়েছে ওই এলাকার মানুষরা| অভিযান ফলপ্রসূ হওয়ায় র‍্যাব-৭ কে ফুলেল শুভেচছা জানিয়ে তাদের গাড়ি বহরে ফুলের বৃষ্টি ছড়িয়ে দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিলো এলাকাবাসী | তবে ওই ডাকাতদলের গডফাদার খ্যাত চেয়ারম্যান মুজিব কে আইনের আওতায় না নেয়ায় পুনরায় ডাকাত সদস্যরা সুসংগঠিত হতে পারে এমন শংকায় শংকিত।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুক এ “Ahmed Hridoye ” নামে একটি আইডি হতে চাম্বলের মাঠে ঘাটে চলছে জুয়ার আসর লিখে ছবিসহ আপলোড দেন| সেই স্ট্যাটাসে জনকণ্ঠ প্রতিনিধি জোবাইর চৌধুরী চাম্বলের বাস্তব চিত্র ও সাধারণ মানুষের মন্তব্যর ভাব প্রকাশ করে কমেন্ট করেন| তাও আবার চেয়ারম্যান মুজিব সংশ্লিষ্ট কোন আইডি বা পেইজে নয়|

রবিবার হটাৎ সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে চেয়ারম্যান মুজিব তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন হতে জনকন্ঠের প্রতিনিধি জোবাইর চৌধুরী কে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রানে মারার হুমকি প্রদান করে |তৎক্ষণাৎ বিষয়টি বাঁশখালী থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার কে অবহিত করা হয়| তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জনকন্ঠ প্রতিনিধি কে আশ্বাস প্রদান করেছেন |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here