মিরসরাই প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যিক শহর বারইয়ারহাট। ব্যবসা বানিজ্যের পাশাপাশি নাগরিকদের চিকিৎসা সেবার নামে এখানে ব্যাঙের ছাতার মতো দিয়ে গড়ে উঠেছে বাহারি নামের হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রোগ নির্নয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকলেও লোভনীয় অফার দিয়ে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে ভুয়া রোগ নির্নয়ের রিপোর্ট। অসাধু চিকিৎসক সে রিপোর্ট প্রতি কমিশন নিয়ে লিখে দিচ্ছে ঔষুধ। সামর্থবান রোগীরা শহরে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে সুুস্থ্য হয়ে নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছেন। ভুক্তভোগী অসহায় রোগী ও তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে জানাগেছে নানা অভিযোগ। অসহায় মানুষের এসব অভিযোগ শোনার, দেখার ও ব্যবস্থা নেওয়ার যেন কেউ নেই।
একজন অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ্য হয়ে উঠেন একজন চিকিৎসকের সঠিক রোগ নির্নয় ও ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে। সেবা আর খ্যাতির পরিবর্তে এই মহান পেশার ডাক্তার এখন অর্থ উপার্জনের যন্ত্রে পরিনত হয়েছে টাকার নেশায়।
বারইয়ারহাট পৌরসভায় গড়ে উঠা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে প্রতি বৃৃহষ্পতিবার ও শুক্রবার চেম্বার করেন ঢাকা, চট্টগ্রামের অতিথি চিকিৎসকরা। তাদের ছাড়া এসব হাসপাতাল সপ্তাহে ৬দিন থাকে রুগ্ন। শুধু সিজার অপারেশনের জন্য টিকে আছে হাসপাতাল গুলো। সাধারণ রোগী আসলে পর্যাপ্ত না থাকায় পাঠিয়ে দেন সরকারি হাসপাতালে । জরুরী চিকিৎসা দেওয়ার ডাক্তার না থাকলেও গর্ভবতী মায়ের সিজারের জন্য প্রস্তুত থাকেন তারা। তাদের আয়ের অন্যতম ভরসা সিজার। কিন্তু সেবার কথা বলে লাগামহীন ভিজিট নেয়ার অভিযোগ রয়েছে লোভী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে।
কথা হয় সেবা নিতে আসা মঞ্জুরুল ইসলামের সাথে। পেশায় ছোটখাটো একজন চাকুরীজীবী। তার বোন অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসেন বারৈয়ারহাট নাইটিঙ্গেল ডায়াগনস্টিক ল্যাবে। লিভার ও পরিপাকতন্ত্র রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নসিম নবীকে দেখান। তিনি প্রথম ভিজিট নেন ৮০০ টাকা। ঢাকা-হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সাবেক এই ডাক্তার রোগী দেখে অনেক গুলো পরিক্ষা নিরিক্ষা দিয়ে পরের সাপ্তাহে রিপোর্ট গুলো নিয়ে দেখাতে বলেন। মঞ্জুরুল পরের সাপ্তাহে রিপোর্ট দেখাতে গেলে গুনতে হয আবার ৫০০ টাকা ভিজিট।
অপর ভুক্তভোগী আবুল কালাম পেশায় একজন কৃষক। তিনিও অসুস্থ্য হয়ে বারৈয়ারহাট নাইটেঙ্গেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসে দেখান চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের নিইরো মেডিসিন, বাত ব্যথা, ব্রেইন ও প্যারালাইসিস বিশেষজ্ঞ ডা. অসীম কুমার চৌধুরীকে। তাকে ৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে দেখানোর পর পরিক্ষা দেন। পরের সাপ্তাহে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে গেলে আবার দিতে হয় ৩০০ টাকা ভিজিট।
বারৈয়ারহাট মেডিকেল সেন্টারেও চলে শুক্রবারের জমজমাট রোগী ব্যবসা। অভিযোগ উঠে অনেক রোগীর স্বজনদের মুখে নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে। এখানে চেম্বার করেন ডা. জোবায়ের। বেশি রোগী দেখেন তিনি। প্রথমে ৬০০ টাকা ভিজিট নেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে পরের সাপ্তাহে রিপোট দেখাতে আবার গুনতে হয় ৩০০ টাকা ভিজিট।
ডাক্তারদের রোগী ব্যবসা, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিক্ষা ব্যবসা, হাসপাতালের সিজার ব্যবসা, ওষুধ কোম্পানি গুলোর সেম্পল ব্যবসা। সেবার আড়ালে এদের ব্যবসার ভীড়ে পৃষ্ট হয়ে অতিষ্ঠ হচ্ছেন রোগীরা।
ভুক্তভোগী মঞ্জুরুল বলেন, এই সার্টিফিকেট নামধারী ডাক্তার গুলো গ্রামের মানুষগুলোর সরলতার সুযোগ নিয়ে রক্তচোষার মত প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
সাধারণ মানুষের আক্ষেপ সপ্তাহে দুই দিনের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো গরিব মানুষের জন্য কসাইখানা বড়লোকদের আবাসিক হোটেলের মত সুবিধা দিচ্ছে। এদের নিয়ন্ত্রনে আনা জরুরী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে আইন, নীতিমালা বা গাইডলাইনও নেই। তাই তাদের এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলাও যাচ্ছে না।