মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ১৫ বসতবাড়ি!

আপডেট:

ফাহিম শাহরিয়ার, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়ার মল্লাপাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দিনগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আগুনে পুড়েছে ১৫ পরিবারের সাজানো সংসার।

এদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ পরিবারের বসতঘর পুড়ে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক ১৫ জনের মালিকানাধীন ১৫ টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আগুনে যাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো- মাহাবুল আলম, শহিদুল, জাকারিয়া, মো. আবু, রশিদ আহমেদ, নুর আমিন, রোস্তম আলী, আবুল কাশেম, জসিম উদ্দিন, আবদুল মোতালেব, আবদুল জলিল, আবদুল জব্বার, শাহেদা আকতার, আবদুস সালাম, মো. রনি, লেদা বাচা।

পুড়ে যাওয়া বসতঘরের মালিক মাহাবুল আলম জানান,রাতে ঘুমানোর পর গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পেলে হইহট্টগোল তৈরী হয়। পরে পরিবারের সকলকে নিয়ে কোনরকমে ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ি। টিনের ছাউনি হওয়ায় আগুন দ্রততার সাথে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সকলে পড়নের কাপর ছাড়া কিচ্ছু বের করতে সক্ষম হইনি। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে, সব নিয়ে গেছে আগুনে, কিচ্ছু রাখে নাই। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠবো কিভাবে জানিনা।

বিজ্ঞাপন

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আবুল কাশেম জানান,ঘুমের মধ্যে চারিদিকে আগুন আগুন শব্দ শুনতে পেলে ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখি আকাশ লালচে হয়ে গেছে আর ধানের খড়ের মতো করে ছাই উড়তেছে। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আমাদের সব তচনচ হয়ে গেছে। আল্লাহ আমাদের সাথে এমন কেন করলো জানিনা। এখন আমরা কোথায় যাবো, কোথায় খাবো, কোথায় বউ বাচ্চা নিয়ে থাকবো।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমন বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমরা আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে আগুনের লিলা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘ ২ ঘন্টার প্রচেষ্টায় আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনয়ে সক্ষম হই। তাঁদের ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পরিবার দাবী করছে। তবে আমরা ধারণা করছি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জানতে চায়লে চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিচ আজগর বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই রাতেই আমি ঘটনাস্থলে চলে যায়। এবং সার্বক্ষণিক এলাকাবাসীদের সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আমি আজ সকালে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ঘর পরিদর্শন কর‍তে যায়। এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ এমপি’র পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পরিবার গুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সামগ্রী চাল, ডাল, তেল, শাড়ি, লুঙ্গি এসব দিয়ে আসি।

তিনি আরও বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর পাশে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ এবং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষতি এড়িয়ে যাওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত