অন্ধকারে প্রজন্মের আলো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২০ ৩২৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, রঙিখালীঃ
আমরা অনেকে বাংলা বইয়ের মধ্যে পড়েছি কৃতিমানের মৃত্যু নেই গল্পটি। আসলে কি তাই কৃতি মানের মৃত্যু নেই। একজন মানুষ দুনিয়াতে আসার পর বড় হয়ে সমাজ, দেশ, এবং জাতির জন্য অনেক কিছু করতে চাই। মানুষ তো আর বেশি দিন বাঁচতে পারে না। যার যতটুকু হায়াত তা দিয়ে সেই দেশ বা সমাজের জন্য অনেক কিছু করতে চাই। ক’ জনে পারে এই রকম সফলতা এনে দিতে? একটি অন্ধকার রাত কে যেমন মহান আল্লাহ চাঁদের আলো দিয়ে আলোকিত করে রাখেন, ঠিক তেমনি একটি গ্রাম বা সমাজকে একজন মানুষ আলোয় আলোকিত করতে পারেন। আগে বলেছিলাম কৃতিমানের মৃত্যু নেই, যেমন ড. গাজী কামরুল ইসলাম একজন ব্যক্তি শুদুর বরিশাল থেকে পাড়ি জামান টেকনাফের এক অজপড়া গায়ে। ছিল না এক চিলতে আলো, কোন সভ্যতা ও।

চারপাশে ছিল পশুপাখির মিলন মেলা। ছিল না কোন আলোকিত রাত , চাঁদের আলোতে ও ছিল অন্ধকার। একটি চাঁদ ছাড়া রাত যেমন অন্ধকার তেমনি গ্রামটা ছিল আলোহীন। হঠাৎ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই একজন কৃতিমান পুরুষের আবির্ভাব হয়েছিল এই রঙিখালীতে। যিনি বরিশাল থেকে এসে পাড়ি জমান টেকনাফের রঙিখালীতে যার নাম ড. গাজী কামরুল ইসলাম। রঙিখালী গ্রামের পাহাড়ে রাত্রি যাপন করতেন তিনি পাহাড়ে অবস্থান করতেন বলে তাকে জংগলি ফকির বলা হতো। প্রতিষ্ঠা করেন রঙিখালী দারুল উলুম কামিল বর্তমানে (মাস্টার্স ) মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠা করেন রঙিখালী খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মহিলা মাদ্রাসা। হেফজখানা, ইসলামী সেন্টার, ফোরকানিয়া সহ আরো অনেক। তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান রঙিখালী দারুল উলুম কামিল (মাস্টার্স) মাদ্রাসা 2004 সালে রাষ্ট্রপতি কতৃক কক্সবাজার জেলার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হিসেবে গৌরব অর্জন করেন। তিনি ছিলেন এই গ্রামের জন্য এক গৌরবময় অভিভাবক। তিনি তার গৌরব অর্জন করে বলতেন রঙিখালী নয়’কো’ তুমি রংগে ইলাহী। কিন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমানে এই কৃতি পুরুষ আমাদের কাছে সুদীর্ঘ আঠার বছর যাবত নেই। হয়তো এলাকার কিছু অকৃতজ্ঞ মানুষদের জন্য আমাদের কাজ থেকে চলে গেছেন। আমি প্রথমে বলেছিলাম কৃতিমানের মৃত্যু নেই আসলে তাই, মানুষের হায়াত শেষ হলে মৃত্যু অনিবার্য তাতে কোন সন্দেহ নেই। মানুষের যখন মৃত্যু হয় তাকে ক’ জনে স্মরণ করে – আর যদি বা সেই তার কৃতকর্মের ফল মানুষ সারাজীবন মনে রাখে। আর একজন মানুষ দুনিয়াতে আসার পর যা করে – ভাল কিংবা মন্দ সেটার উপর নির্ভর করে সেই দুনিয়াতে কি করে মৃত্যু বরণ করেছেন। আপনি ইতিহাস পড়তে গেলে দেখতে পাবেন, কিছু কৃতিমান তার দেশ বা জাতির জন্য ভালো কাজ করে গেছেন। যাকে সেই দেশের মানুষ কতটা শ্রদ্ধা করে। আপনি দেখেন রঙিখালী দারুল উলুম কামিল বর্তমানে (মাস্টার্স) মাদ্রাসা থেকে পড়ালেখা করে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানে দেশ এবং জাতির সেবা করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন হচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের সহকারী আরবী অধ্যাপক জনাব ড. আমির হোসাইন, রঙিখালীর কৃতি সন্তান ড. মফিজুর রহমান আল মাদানী সাতকানিয়া কেরানিহাট জামেউল ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ভিপি, চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মমতাজ উদ্দিন কাদেরী, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও হ্নীলা শাহ মজিদিয়ার অধ্যক্ষ জনাব নুর আহমেদ আনোয়ারী, চট্টগ্রাম কলেজ এরকম ইংরেজী প্রভাষক কামাল উদ্দিন মহিউসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক সৈয়দ হোসেন, বাহারছড়ার শওকত চেয়ারম্যান, বাহারছড়া শীলখালীর তাফহিমুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান পেন্সিপাল মুস্তাক আহমেদ।

এছাড়াও রঙিখালী গ্রামের জন্য অবদান রেখে গেছেন জামায়েত ইসলামীর আমীর মীর কাশেম আলী, যেমন তার অনবদ্য অবদানের ফলে রঙিখালী দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার তিন তলা বিশিষ্ট ভবন গড়ে উঠেছিল। আর উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তৎকালীন সময়ে পানি চলাচলের জন্য মহিলা মাদ্রাসায় ব্রিজ তৈরি করে দিয়েছিলেন। আর এলাকার মানুষ হিসেবে অবদান রেখেছিলেন আব্দু শুক্কুর মাদবর সাবেক সভাপতি অত্র মাদ্রাসা যার মাধ্যমে শুরু হয় রঙিখালী মাদ্রাসার সংস্করণ। তখনকার সময়ে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন আলহাজ্ব মরহুম কাদির হোছাইন সহ এলাকার সর্বস্তরের গণ্যমান্য ব্যাক্তিগণ। তো এবার মূল কথায় চলি আসলে মানুষ তার জগতে সবসময়ই ভালো দিক টা চিন্তা করে। আর যারা এই অন্ধকার জগত কে আলোর মশাল জালিয়ে আলোকিত করেছেন যুগ যুগ ধরে তাদের অবদান এই গ্রামের মানুষ স্মরণ করবেন। আর যারা রঙিখালী গ্রামের জন্য অবদান রেখেছেন তাদের জন্য আল্লাহ্‌ পাক এর কাছে দোয়া কামনা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অন্ধকারে প্রজন্মের আলো

আপডেট সময় : ০৬:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২০

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, রঙিখালীঃ
আমরা অনেকে বাংলা বইয়ের মধ্যে পড়েছি কৃতিমানের মৃত্যু নেই গল্পটি। আসলে কি তাই কৃতি মানের মৃত্যু নেই। একজন মানুষ দুনিয়াতে আসার পর বড় হয়ে সমাজ, দেশ, এবং জাতির জন্য অনেক কিছু করতে চাই। মানুষ তো আর বেশি দিন বাঁচতে পারে না। যার যতটুকু হায়াত তা দিয়ে সেই দেশ বা সমাজের জন্য অনেক কিছু করতে চাই। ক’ জনে পারে এই রকম সফলতা এনে দিতে? একটি অন্ধকার রাত কে যেমন মহান আল্লাহ চাঁদের আলো দিয়ে আলোকিত করে রাখেন, ঠিক তেমনি একটি গ্রাম বা সমাজকে একজন মানুষ আলোয় আলোকিত করতে পারেন। আগে বলেছিলাম কৃতিমানের মৃত্যু নেই, যেমন ড. গাজী কামরুল ইসলাম একজন ব্যক্তি শুদুর বরিশাল থেকে পাড়ি জামান টেকনাফের এক অজপড়া গায়ে। ছিল না এক চিলতে আলো, কোন সভ্যতা ও।

চারপাশে ছিল পশুপাখির মিলন মেলা। ছিল না কোন আলোকিত রাত , চাঁদের আলোতে ও ছিল অন্ধকার। একটি চাঁদ ছাড়া রাত যেমন অন্ধকার তেমনি গ্রামটা ছিল আলোহীন। হঠাৎ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই একজন কৃতিমান পুরুষের আবির্ভাব হয়েছিল এই রঙিখালীতে। যিনি বরিশাল থেকে এসে পাড়ি জমান টেকনাফের রঙিখালীতে যার নাম ড. গাজী কামরুল ইসলাম। রঙিখালী গ্রামের পাহাড়ে রাত্রি যাপন করতেন তিনি পাহাড়ে অবস্থান করতেন বলে তাকে জংগলি ফকির বলা হতো। প্রতিষ্ঠা করেন রঙিখালী দারুল উলুম কামিল বর্তমানে (মাস্টার্স ) মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠা করেন রঙিখালী খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মহিলা মাদ্রাসা। হেফজখানা, ইসলামী সেন্টার, ফোরকানিয়া সহ আরো অনেক। তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান রঙিখালী দারুল উলুম কামিল (মাস্টার্স) মাদ্রাসা 2004 সালে রাষ্ট্রপতি কতৃক কক্সবাজার জেলার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হিসেবে গৌরব অর্জন করেন। তিনি ছিলেন এই গ্রামের জন্য এক গৌরবময় অভিভাবক। তিনি তার গৌরব অর্জন করে বলতেন রঙিখালী নয়’কো’ তুমি রংগে ইলাহী। কিন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমানে এই কৃতি পুরুষ আমাদের কাছে সুদীর্ঘ আঠার বছর যাবত নেই। হয়তো এলাকার কিছু অকৃতজ্ঞ মানুষদের জন্য আমাদের কাজ থেকে চলে গেছেন। আমি প্রথমে বলেছিলাম কৃতিমানের মৃত্যু নেই আসলে তাই, মানুষের হায়াত শেষ হলে মৃত্যু অনিবার্য তাতে কোন সন্দেহ নেই। মানুষের যখন মৃত্যু হয় তাকে ক’ জনে স্মরণ করে – আর যদি বা সেই তার কৃতকর্মের ফল মানুষ সারাজীবন মনে রাখে। আর একজন মানুষ দুনিয়াতে আসার পর যা করে – ভাল কিংবা মন্দ সেটার উপর নির্ভর করে সেই দুনিয়াতে কি করে মৃত্যু বরণ করেছেন। আপনি ইতিহাস পড়তে গেলে দেখতে পাবেন, কিছু কৃতিমান তার দেশ বা জাতির জন্য ভালো কাজ করে গেছেন। যাকে সেই দেশের মানুষ কতটা শ্রদ্ধা করে। আপনি দেখেন রঙিখালী দারুল উলুম কামিল বর্তমানে (মাস্টার্স) মাদ্রাসা থেকে পড়ালেখা করে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানে দেশ এবং জাতির সেবা করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন হচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের সহকারী আরবী অধ্যাপক জনাব ড. আমির হোসাইন, রঙিখালীর কৃতি সন্তান ড. মফিজুর রহমান আল মাদানী সাতকানিয়া কেরানিহাট জামেউল ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ভিপি, চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মমতাজ উদ্দিন কাদেরী, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও হ্নীলা শাহ মজিদিয়ার অধ্যক্ষ জনাব নুর আহমেদ আনোয়ারী, চট্টগ্রাম কলেজ এরকম ইংরেজী প্রভাষক কামাল উদ্দিন মহিউসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক সৈয়দ হোসেন, বাহারছড়ার শওকত চেয়ারম্যান, বাহারছড়া শীলখালীর তাফহিমুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান পেন্সিপাল মুস্তাক আহমেদ।

এছাড়াও রঙিখালী গ্রামের জন্য অবদান রেখে গেছেন জামায়েত ইসলামীর আমীর মীর কাশেম আলী, যেমন তার অনবদ্য অবদানের ফলে রঙিখালী দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার তিন তলা বিশিষ্ট ভবন গড়ে উঠেছিল। আর উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তৎকালীন সময়ে পানি চলাচলের জন্য মহিলা মাদ্রাসায় ব্রিজ তৈরি করে দিয়েছিলেন। আর এলাকার মানুষ হিসেবে অবদান রেখেছিলেন আব্দু শুক্কুর মাদবর সাবেক সভাপতি অত্র মাদ্রাসা যার মাধ্যমে শুরু হয় রঙিখালী মাদ্রাসার সংস্করণ। তখনকার সময়ে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন আলহাজ্ব মরহুম কাদির হোছাইন সহ এলাকার সর্বস্তরের গণ্যমান্য ব্যাক্তিগণ। তো এবার মূল কথায় চলি আসলে মানুষ তার জগতে সবসময়ই ভালো দিক টা চিন্তা করে। আর যারা এই অন্ধকার জগত কে আলোর মশাল জালিয়ে আলোকিত করেছেন যুগ যুগ ধরে তাদের অবদান এই গ্রামের মানুষ স্মরণ করবেন। আর যারা রঙিখালী গ্রামের জন্য অবদান রেখেছেন তাদের জন্য আল্লাহ্‌ পাক এর কাছে দোয়া কামনা করছি।