অপরাধীর শাস্তি হোক কঠোর এবং দ্রুত।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯ ১০৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অপরাধীর শাস্তি হোক কঠোর এবং দ্রুত

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

একটি নৃশংস ঘটনা ঘটে।সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ঠেকে।কিছুদিন যাওয়ার পর নীরবতা নেমে আসে।আবার আরেকটি নৃশংসতা, পাশবিকতা।এভাবেই চলছে।থামছেইনা অপরাধ।ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অনেক অপরাধী।ধরা পড়লেও নানা চাপের মুখে থাকতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।অথবা, সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সংশয়ে থাকতে হয় নিয়ত।থাকতে হয় নিরাপত্তা শংকায়।

অতি সম্প্রতি বরগুনা কলেজের সামনে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীর কোপে স্ত্রীর সামনে রিফাত নামে এক স্বামীর নিহত হওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গোটা দেশে তোলপাড় চলছে।ঝড় বয়ে যাচ্ছে সমালোচনার।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সর্বত্র এনিয়ে আলোচনার অন্ত নেই।এর আগে ফেনির নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার দাগ এখনো শুকায়নি।এর মাঝে এই ঘটনা।রিফাত হত্যার সাথে জড়িত খুনিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, হত্যাকান্ডের সময় পাশে থাকা মানুষগুলোর নিরবতা দেখে।প্রতিবাদের সাহস কি লোপ পেয়েছে নাকি ধৈর্য্যের সক্ষমতা অর্জন হয়েছে ! মানা যায় ?
হত্যা,হত্যা প্রচেষ্টা সহ সারাদেশে সহিংসতা ও
নৃশংসতার ঘটনাগুলো বেড়ে চলেছে।বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধীরা।পত্রিকার পাতা খুললেই
কোন না কোন স্থানের পাশবিকতা আর নিষ্ঠুরতার খবর চোখে পড়ে। এসব অপরাধের খবর যখন পড়ি তখন গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। শংকিত হয়ে পড়ি। দিন দিন কেন জানি মানুষ অধঃপতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।উন্মত্ততার সাথে উল্লাস আর যন্ত্রণায় কাতর মানুষটিকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে ভিডিও এবং সেলফি
তোলার দৃশ্যগুলো হার মানাচ্ছে অন্ধকার যুগকেও! ভাবাচ্ছে সব সচেতন মানুষকে।
নৈতিকতা, সভ্যতা, আন্তরিকতা, ভালোবাসা,
সহমর্মিতা, মানবিক মূল্যবোধ ইত্যাদি গুণ
হারিয়ে যেতে বসেছে।সেখানে জেঁকে বসেছে হিংস্রতা, পাশবিকতা, অনৈতিকতা সহ আর সব খারাপ বৈশিষ্ট্য

কবে হবে এসবের অবসান তা যেন জানা নেই কারো।কখন মানুষ নিরাপদ ও শান্তিতে ঘুমোবে বলা মুশকিল।‘অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে,
মানুষ মনুষ্যত্ব ফিরে পাবে’ – এ আশায় দিন গুনে নিরীহ ও অসহায় মানুষগুলো।কেন এই সহিংসতা, নৃশংসতা কিংবা পাশবিক মনোবৃত্তি তার কারণ আমাদের খুঁজে বের করা দরকার।অপরাধ প্রতিরোধ কিংবা সমূলে নির্মূলে কী সল্যুশন বা পন্থা থাকতে পারে তা বের করতে হবে।কেননা বেড়ে চলা এই অপরাধ রোধ করতে না পারলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের।সমাজ ও রাষ্ট্রের কিংবা রাজনৈতিক সব নেতৃত্বকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।দায় এড়াতে পারেন না কেউ।
রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অনেক সময় বড় অপরাধীও পার পেয়ে যেতে পারে অনায়াসে।
কেন এই অস্থিরতা? আমরা কি পারি না আমাদের এই দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে? অপরাধ থেকে উত্তরণে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যায়-মানুষের মাঝে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সামাজিক সংগঠনকে কাজে লাগানো যেতে পারে।বেকার সমস্যা সমাধানে দ্রুততর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।।

পাঠ্যপুস্তকে চরিত্র গঠন উপযোগী পাঠ সংযুক্তকরণ।নাটক, সিনেমা ইত্যাদিতে সামাজিক ও নানা বাস্তব ঘটনাকে তুলে ধরা এবং সমাধানের উপায় বের করা। অপরাধীকে রাজনৈতিক প্রশ্রয় না দেওয়া, প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেওয়া, বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করা ও মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া নিশ্চিত করা, শিশু ও নারীর নিরাপত্তা বিধান করা ইত্যাদি। যুবসমাজকে মাদক ও যাবতীয় নেশা থেকে দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, তথ্য প্রযুক্তিকে অপরাধ নির্মূলে কাজে লাগানো সহ আরো যা যা করা যায় তা করা।কঠোর শাস্তি হোক অপরাধীর। গড়ে ওঠুক অপরাধ মুক্ত একটি বাংলাদেশ-এই প্রত্যাশা রইল।

★লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অপরাধীর শাস্তি হোক কঠোর এবং দ্রুত।

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯

অপরাধীর শাস্তি হোক কঠোর এবং দ্রুত

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

একটি নৃশংস ঘটনা ঘটে।সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ঠেকে।কিছুদিন যাওয়ার পর নীরবতা নেমে আসে।আবার আরেকটি নৃশংসতা, পাশবিকতা।এভাবেই চলছে।থামছেইনা অপরাধ।ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অনেক অপরাধী।ধরা পড়লেও নানা চাপের মুখে থাকতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।অথবা, সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সংশয়ে থাকতে হয় নিয়ত।থাকতে হয় নিরাপত্তা শংকায়।

অতি সম্প্রতি বরগুনা কলেজের সামনে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীর কোপে স্ত্রীর সামনে রিফাত নামে এক স্বামীর নিহত হওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গোটা দেশে তোলপাড় চলছে।ঝড় বয়ে যাচ্ছে সমালোচনার।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সর্বত্র এনিয়ে আলোচনার অন্ত নেই।এর আগে ফেনির নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার দাগ এখনো শুকায়নি।এর মাঝে এই ঘটনা।রিফাত হত্যার সাথে জড়িত খুনিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, হত্যাকান্ডের সময় পাশে থাকা মানুষগুলোর নিরবতা দেখে।প্রতিবাদের সাহস কি লোপ পেয়েছে নাকি ধৈর্য্যের সক্ষমতা অর্জন হয়েছে ! মানা যায় ?
হত্যা,হত্যা প্রচেষ্টা সহ সারাদেশে সহিংসতা ও
নৃশংসতার ঘটনাগুলো বেড়ে চলেছে।বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধীরা।পত্রিকার পাতা খুললেই
কোন না কোন স্থানের পাশবিকতা আর নিষ্ঠুরতার খবর চোখে পড়ে। এসব অপরাধের খবর যখন পড়ি তখন গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। শংকিত হয়ে পড়ি। দিন দিন কেন জানি মানুষ অধঃপতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।উন্মত্ততার সাথে উল্লাস আর যন্ত্রণায় কাতর মানুষটিকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে ভিডিও এবং সেলফি
তোলার দৃশ্যগুলো হার মানাচ্ছে অন্ধকার যুগকেও! ভাবাচ্ছে সব সচেতন মানুষকে।
নৈতিকতা, সভ্যতা, আন্তরিকতা, ভালোবাসা,
সহমর্মিতা, মানবিক মূল্যবোধ ইত্যাদি গুণ
হারিয়ে যেতে বসেছে।সেখানে জেঁকে বসেছে হিংস্রতা, পাশবিকতা, অনৈতিকতা সহ আর সব খারাপ বৈশিষ্ট্য

কবে হবে এসবের অবসান তা যেন জানা নেই কারো।কখন মানুষ নিরাপদ ও শান্তিতে ঘুমোবে বলা মুশকিল।‘অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে,
মানুষ মনুষ্যত্ব ফিরে পাবে’ – এ আশায় দিন গুনে নিরীহ ও অসহায় মানুষগুলো।কেন এই সহিংসতা, নৃশংসতা কিংবা পাশবিক মনোবৃত্তি তার কারণ আমাদের খুঁজে বের করা দরকার।অপরাধ প্রতিরোধ কিংবা সমূলে নির্মূলে কী সল্যুশন বা পন্থা থাকতে পারে তা বের করতে হবে।কেননা বেড়ে চলা এই অপরাধ রোধ করতে না পারলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের।সমাজ ও রাষ্ট্রের কিংবা রাজনৈতিক সব নেতৃত্বকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।দায় এড়াতে পারেন না কেউ।
রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অনেক সময় বড় অপরাধীও পার পেয়ে যেতে পারে অনায়াসে।
কেন এই অস্থিরতা? আমরা কি পারি না আমাদের এই দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে? অপরাধ থেকে উত্তরণে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যায়-মানুষের মাঝে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সামাজিক সংগঠনকে কাজে লাগানো যেতে পারে।বেকার সমস্যা সমাধানে দ্রুততর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।।

পাঠ্যপুস্তকে চরিত্র গঠন উপযোগী পাঠ সংযুক্তকরণ।নাটক, সিনেমা ইত্যাদিতে সামাজিক ও নানা বাস্তব ঘটনাকে তুলে ধরা এবং সমাধানের উপায় বের করা। অপরাধীকে রাজনৈতিক প্রশ্রয় না দেওয়া, প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেওয়া, বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করা ও মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া নিশ্চিত করা, শিশু ও নারীর নিরাপত্তা বিধান করা ইত্যাদি। যুবসমাজকে মাদক ও যাবতীয় নেশা থেকে দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, তথ্য প্রযুক্তিকে অপরাধ নির্মূলে কাজে লাগানো সহ আরো যা যা করা যায় তা করা।কঠোর শাস্তি হোক অপরাধীর। গড়ে ওঠুক অপরাধ মুক্ত একটি বাংলাদেশ-এই প্রত্যাশা রইল।

★লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক