অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিশ্চুপ রেল প্রশাসন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২০ ৯১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক,
চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের বেশীরভাগ জায়গা গত কয়েক যুগ ধরে অবৈধ ভাবে দখল করে রাখলেও সেসব জায়গা উদ্ধার করে রেল কতৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যেন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে!

বিগত সরকার গুলোর আমলে সারাদেশে দখল হওয়া রেলওয়ের এসব জায়গা উদ্ধার করতে সরকারি মোটা অংকের বরাদ্দ দেওয়া হলেও তার কোন সুফলই পাচ্ছেনা বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এসব রেলওয়ের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে সেমিপাকা, বস্তিঘর ও মার্কেট গড়ে তুলেছে একটি অসাধু চক্র!

বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের এসব জায়গা উদ্ধার অভিযানের নামে রেলওয়ে কতৃপক্ষ।

কিন্ত বিভিন্ন সময় মিডিয়া আইওয়াশ করতে অভিযানে নেমে দখল হওয়া কিছু জায়গা উদ্ধার করলেও তা সংরক্ষিত না করার কারনে আবারও চলে যায় দখলবাজদের নিয়ন্ত্রণে!

গত বছরের ৫,ই নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কতৃপক্ষ বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কিছু জায়গা উদ্ধার করলেও সেসব উদ্ধার করা জায়গা গুলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবারও চলে যায় দখলবাজদের হাতে!

রেলওয়ের বেদখল হয়ে যাওয়া এসব জায়গায় বস্তি ঘর তুলে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দখলকারী অসাধু চক্রটি।

আবার এসব বস্তিঘরে বসবাস করা লোকজনের উড়তি বয়সের বেশীরভাগ কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে খুন চিনতাই মারামারি সহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে!

এসব এলাকার কিছু দখলদার নিজেদের এসব অবৈধ জায়গা দখলে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে গড়ে তুলেছে বস্তিতে বসবাসকারী কিশোরদের দিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী।

বস্তির এসব কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রায় সময় হামলা লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও রেলওয়ের চাকুরীজীবি রেল শ্রমিকরা।

রেলওেয়ের দখল করা এসব বস্তিঘরের দখলদারদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের।

যার কারনে এসব এলাকায় কোন অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটলে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের কারনে ব্যাবস্থা নিতে পারেনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের মুল কারন হচ্ছে রাজনৈতিক দল গুলোর রাজপথে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে লোকজনের প্রয়োজন হলে এসব দখলবাজরা বস্তির লোকজন দিয়ে নেতাদের সহযোগিতা করা।

দখলদারদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে রেলওয়ের এসব জায়গায় বস্তি ঘরের পাশাপাশি পাকা দেয়াল করে নিজে থাকার আবাসন ও মার্কেট গড়ে তুলেছে।

বিভিন্ন সময় রেল কতৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার পর সেসব জায়গায় রেল প্রশাসনের নজরধারীর অভাবে দখলবাজরা আবারও দোকানপাট সহ গড়ে তোলে বস্তি ঘর!

গত জুন মাসে একটি জাতীয় দৈনিকে আবারও রেলওয়ের জায়গা বেদখল ‘শিরোনামে, একটি সংবাদ প্রকাশের পর ২৫ জুন থেকে রেল কতৃপক্ষ সেসব জায়গায় বাউন্ডারি দেয়ার কাজে নামলেও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে!

দখল করা জায়গা উদ্ধার জন্য বাউন্ডারি না দিয়ে রেল কতৃপক্ষ রেল শ্রমিকদের আবাসনের সামনে ৩ ফুট পর পর লোহার পিলার স্থাপন করে শ্রমিকদের বসবাস করা বাসার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
রেল প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে গত জুন মাসের ২৯ তারিখে স্মারক লিপি ও দিয়েছেন রেলওয়ে এলাকায় বসবাসরত রেল শ্রমিকরা।

রেল শ্রমিকদের কয়েকজন শ্রমিক রেলওয়ের বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধারে রেল কতৃপক্ষের ভুমিকা নিয়ে চট্টগ্রাম ট্রিবিউনকে জানান, রেল কতৃপক্ষ অবৈধভাবে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার না করে শ্রমিকদের আবাসনের সামনে তার কাটার দিয়ে সীমানা নিয়ন্ত্রণ করা নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।
শুধু মাত্র সরকারি টাকা অপচয় করা।

বর্তমানে রেল শ্রমিকদের আবাসনের সামনে সীমানা নিয়ন্ত্রণে রাখতে লোহার পিলার গেড়ে রেললাইনের লোহার বিট দিয়ে কাজ অব্যাহত রাখলেও অবৈধ ভাবে দখল করে রাখা জায়গায় রেলওয়ে কতৃপক্ষের নজরই পড়ছেনা!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিশ্চুপ রেল প্রশাসন!

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক,
চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের বেশীরভাগ জায়গা গত কয়েক যুগ ধরে অবৈধ ভাবে দখল করে রাখলেও সেসব জায়গা উদ্ধার করে রেল কতৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যেন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে!

বিগত সরকার গুলোর আমলে সারাদেশে দখল হওয়া রেলওয়ের এসব জায়গা উদ্ধার করতে সরকারি মোটা অংকের বরাদ্দ দেওয়া হলেও তার কোন সুফলই পাচ্ছেনা বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এসব রেলওয়ের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে সেমিপাকা, বস্তিঘর ও মার্কেট গড়ে তুলেছে একটি অসাধু চক্র!

বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের এসব জায়গা উদ্ধার অভিযানের নামে রেলওয়ে কতৃপক্ষ।

কিন্ত বিভিন্ন সময় মিডিয়া আইওয়াশ করতে অভিযানে নেমে দখল হওয়া কিছু জায়গা উদ্ধার করলেও তা সংরক্ষিত না করার কারনে আবারও চলে যায় দখলবাজদের নিয়ন্ত্রণে!

গত বছরের ৫,ই নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কতৃপক্ষ বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কিছু জায়গা উদ্ধার করলেও সেসব উদ্ধার করা জায়গা গুলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবারও চলে যায় দখলবাজদের হাতে!

রেলওয়ের বেদখল হয়ে যাওয়া এসব জায়গায় বস্তি ঘর তুলে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দখলকারী অসাধু চক্রটি।

আবার এসব বস্তিঘরে বসবাস করা লোকজনের উড়তি বয়সের বেশীরভাগ কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে খুন চিনতাই মারামারি সহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে!

এসব এলাকার কিছু দখলদার নিজেদের এসব অবৈধ জায়গা দখলে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে গড়ে তুলেছে বস্তিতে বসবাসকারী কিশোরদের দিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী।

বস্তির এসব কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রায় সময় হামলা লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও রেলওয়ের চাকুরীজীবি রেল শ্রমিকরা।

রেলওেয়ের দখল করা এসব বস্তিঘরের দখলদারদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের।

যার কারনে এসব এলাকায় কোন অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটলে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের কারনে ব্যাবস্থা নিতে পারেনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের মুল কারন হচ্ছে রাজনৈতিক দল গুলোর রাজপথে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে লোকজনের প্রয়োজন হলে এসব দখলবাজরা বস্তির লোকজন দিয়ে নেতাদের সহযোগিতা করা।

দখলদারদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে রেলওয়ের এসব জায়গায় বস্তি ঘরের পাশাপাশি পাকা দেয়াল করে নিজে থাকার আবাসন ও মার্কেট গড়ে তুলেছে।

বিভিন্ন সময় রেল কতৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার পর সেসব জায়গায় রেল প্রশাসনের নজরধারীর অভাবে দখলবাজরা আবারও দোকানপাট সহ গড়ে তোলে বস্তি ঘর!

গত জুন মাসে একটি জাতীয় দৈনিকে আবারও রেলওয়ের জায়গা বেদখল ‘শিরোনামে, একটি সংবাদ প্রকাশের পর ২৫ জুন থেকে রেল কতৃপক্ষ সেসব জায়গায় বাউন্ডারি দেয়ার কাজে নামলেও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে!

দখল করা জায়গা উদ্ধার জন্য বাউন্ডারি না দিয়ে রেল কতৃপক্ষ রেল শ্রমিকদের আবাসনের সামনে ৩ ফুট পর পর লোহার পিলার স্থাপন করে শ্রমিকদের বসবাস করা বাসার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
রেল প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে গত জুন মাসের ২৯ তারিখে স্মারক লিপি ও দিয়েছেন রেলওয়ে এলাকায় বসবাসরত রেল শ্রমিকরা।

রেল শ্রমিকদের কয়েকজন শ্রমিক রেলওয়ের বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধারে রেল কতৃপক্ষের ভুমিকা নিয়ে চট্টগ্রাম ট্রিবিউনকে জানান, রেল কতৃপক্ষ অবৈধভাবে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার না করে শ্রমিকদের আবাসনের সামনে তার কাটার দিয়ে সীমানা নিয়ন্ত্রণ করা নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।
শুধু মাত্র সরকারি টাকা অপচয় করা।

বর্তমানে রেল শ্রমিকদের আবাসনের সামনে সীমানা নিয়ন্ত্রণে রাখতে লোহার পিলার গেড়ে রেললাইনের লোহার বিট দিয়ে কাজ অব্যাহত রাখলেও অবৈধ ভাবে দখল করে রাখা জায়গায় রেলওয়ে কতৃপক্ষের নজরই পড়ছেনা!