অভিনব কায়দায় এটিএম থেকে টাকা চুরি, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২০ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:
অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের এটিএম বুথের সিস্টেম হ্যাকিং করে টাকা তোলার দায়ে মূলহোতাসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার দুই আসামি হলো- মেহেরপুর জেলার গাংনি থানার হেমায়েতপুর এলাকার ইয়াছ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম (৩৪) ও রাউজান থানার নোয়াপাড়া এলাকার হাজী মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন মনির (৩০)। এদের শরীফুল ইসলাম এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি চক্রের মূলহোতা।

এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি করা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতারের পর বুধবার (২৪ জু্লাই) দুপুরে ডবলমুরিং থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মো. ফারুক উল হক জানান, দুটি মডেলের মেশিন যেসব এটিএম বুথে রয়েছে সেসব এটিএম বুথকে টার্গেট করে অনলাইন থেকে মেশিনগুলোর চাবি সংগ্রহ করে। পরে ম্যালওয়ার সফটওয়্যার সমৃদ্ধ পেনড্রাইভ সংযুক্ত ইউএসবি হাবপোর্ট এটিএম মেশিনে প্রবেশ করানো হয়।ম্যালওয়ার সফটওয়্যারটি উইন্ডোজে দেখা গেলে বাহির থেকে ওয়ারলেস মিনি কিবোর্ডের মাধ্যমে সুপারভাইজার প্যানেলকে নিয়ন্ত্রণ করে কমান্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার আগ্রাবাদ মিডল্যান্ড ব্যাংকের সামনে থেকে ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেনের নেতৃত্বে এসআই অর্নব বড়ুয়াসহ একটি টিম দুইজনকে আটক করে।তাদের কাছ থেকে পেনড্রাইভ, কিবোর্ড, সেন্সরযুক্ত ইউএসবি হ্যাব, মোবাইল ফোন, ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ সংযুক্ত এটিএম ক্লোন কার্ড, অস্ত্রসহ বেশকিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চাবিসহ আরও বেশ কিছু এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেন বলেন, শরীফুল ইসলাম শুরুতে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করতেন। পরে তিনি এটিএম কার্ড জালিয়াতি করেন। সবশেষ তিনি বুথে কন্ট্রোল নেওয়ার মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন। শরীফুল ইসলাম ২০১৩ সালে সিআইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০১৮ সালেও তিনি একই অপরাধে গ্রেফতার হন। গ্রেফতার হলেও তিনি জামিনে বের হয়ে একই কাজ করে আসছিলেন এতদিন ধরে।ডবলমুরিং থানায় ব্রিফিংয়ে সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) শ্রীমা চাকমা, ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অভিনব কায়দায় এটিএম থেকে টাকা চুরি, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:
অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের এটিএম বুথের সিস্টেম হ্যাকিং করে টাকা তোলার দায়ে মূলহোতাসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার দুই আসামি হলো- মেহেরপুর জেলার গাংনি থানার হেমায়েতপুর এলাকার ইয়াছ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম (৩৪) ও রাউজান থানার নোয়াপাড়া এলাকার হাজী মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন মনির (৩০)। এদের শরীফুল ইসলাম এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি চক্রের মূলহোতা।

এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি করা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতারের পর বুধবার (২৪ জু্লাই) দুপুরে ডবলমুরিং থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মো. ফারুক উল হক জানান, দুটি মডেলের মেশিন যেসব এটিএম বুথে রয়েছে সেসব এটিএম বুথকে টার্গেট করে অনলাইন থেকে মেশিনগুলোর চাবি সংগ্রহ করে। পরে ম্যালওয়ার সফটওয়্যার সমৃদ্ধ পেনড্রাইভ সংযুক্ত ইউএসবি হাবপোর্ট এটিএম মেশিনে প্রবেশ করানো হয়।ম্যালওয়ার সফটওয়্যারটি উইন্ডোজে দেখা গেলে বাহির থেকে ওয়ারলেস মিনি কিবোর্ডের মাধ্যমে সুপারভাইজার প্যানেলকে নিয়ন্ত্রণ করে কমান্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার আগ্রাবাদ মিডল্যান্ড ব্যাংকের সামনে থেকে ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেনের নেতৃত্বে এসআই অর্নব বড়ুয়াসহ একটি টিম দুইজনকে আটক করে।তাদের কাছ থেকে পেনড্রাইভ, কিবোর্ড, সেন্সরযুক্ত ইউএসবি হ্যাব, মোবাইল ফোন, ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ সংযুক্ত এটিএম ক্লোন কার্ড, অস্ত্রসহ বেশকিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চাবিসহ আরও বেশ কিছু এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেন বলেন, শরীফুল ইসলাম শুরুতে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করতেন। পরে তিনি এটিএম কার্ড জালিয়াতি করেন। সবশেষ তিনি বুথে কন্ট্রোল নেওয়ার মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন। শরীফুল ইসলাম ২০১৩ সালে সিআইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০১৮ সালেও তিনি একই অপরাধে গ্রেফতার হন। গ্রেফতার হলেও তিনি জামিনে বের হয়ে একই কাজ করে আসছিলেন এতদিন ধরে।ডবলমুরিং থানায় ব্রিফিংয়ে সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) শ্রীমা চাকমা, ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।