আনোয়ারায় বিদ্যুৎপৃষ্ঠে শ্রমিকের মৃত্যু, ভবন নির্মাণে মানা হয়নি স্থাপনা আইন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২ ৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিধি,
আনোয়ারা ১নং বৈরাগ ইউনিয়নে উত্তর বন্দর এলাকায় আরব খাঁন ভবন নির্মাণে সরকারি নীতিমালা অমান্য করেই গড়ে তুলছে তিন তলা ভবন।

বিদ্যুৎ তারের নীচে তিন তলা ভবনের ছাদ ঢালায় এর কাজে ভবনে উঠে নির্মাণ শ্রমিক ইমরান উদ্দীন(৫০) বিদ্যুৎ তারে পৃষ্ঠ হয়ে মারা যান।

আজ বুধবার ( ১৯ জানুয়ারি) সকাল সাতটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভবন মালিককে দুষছেন ঠিকাদার রুহুল আমিন মাঝি।

নিহত ইমরান উদ্দীন নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলা চরবিরি এলাকার মৃত রবিউল হকের ছেলে। সেই একই এলাকার ঠিকাদার রুহুল আমিন মাঝির সাথে আনোয়ারা শাহাদাত নগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।

এই বিষয়ে আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ জোনের ডিজিএম আব্দুল মুহিত বলেন, ভবন মালিক আরব খাঁন আমাদের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতি নেয় নাই।একমাস আগে একটা দরখাস্ত করছে বিদ্যুৎ তারে কভার লাগানোর জন্য।আমরা ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাকে বলেছিলাম কভার দিলে হবে না এটা বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে হবে। আপনি এই বিষয়ে আবেদন করেন। পরে ওনি আর আসেনি।

এই বিষয়ে ভবন মালিক আরব খাঁনের বাড়িতে গেলেও সে সাংবাদিকদের সামনে আসতে অপরাগত প্রকাশ করেন। পরে মুঠোফোনে এ একাধিক বার চেষ্টা করেও ফোনে সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

ঠিকাদার রুহুল আমিন মাঝি বলেন, আমার সাথে ভবন মালিক আরব খাঁনের সাথে একটি ভবনের তিন তলার কাজের চুক্তি হয়।চুক্তির আগেই ভবন মালিককে আমি বলছি বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে হবে। ভবন মালিক বলল সরিয়ে নিবে। সর্বশেষ আজ ছাদ ঢালায় এর জন্য ভবন মালিক এক প্রকার জোর করে।আমি বেশি লাভের আশায় কাজ করতে গিয়ে একজন আপন মানুষ বোনের স্বামীকে হারালাম।আমি নিজেও একজন নির্মাণ শ্রমিক। ছোট খাটো এসব কাজ কন্ট্রাক নিয়ে করি।

এই বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা কর্ণফুলী থানাধীন বন্দর ফাঁড়ির সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ৯৯৯ ফোন পেয়ে সকাল সাড়ে সাতটায় আমরা ঘটনাস্থলেআসি।পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় লাশ নিচে নামিয়ে নিয়ে আসি।

ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ অভিযোগ দিলে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ আল মাহমুদ জানান,কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে ঘটনাস্থলে এসে মৃত লাশটি সুরহতাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আনোয়ারায় বিদ্যুৎপৃষ্ঠে শ্রমিকের মৃত্যু, ভবন নির্মাণে মানা হয়নি স্থাপনা আইন!

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২

নিজস্ব প্রতিনিধি,
আনোয়ারা ১নং বৈরাগ ইউনিয়নে উত্তর বন্দর এলাকায় আরব খাঁন ভবন নির্মাণে সরকারি নীতিমালা অমান্য করেই গড়ে তুলছে তিন তলা ভবন।

বিদ্যুৎ তারের নীচে তিন তলা ভবনের ছাদ ঢালায় এর কাজে ভবনে উঠে নির্মাণ শ্রমিক ইমরান উদ্দীন(৫০) বিদ্যুৎ তারে পৃষ্ঠ হয়ে মারা যান।

আজ বুধবার ( ১৯ জানুয়ারি) সকাল সাতটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভবন মালিককে দুষছেন ঠিকাদার রুহুল আমিন মাঝি।

নিহত ইমরান উদ্দীন নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলা চরবিরি এলাকার মৃত রবিউল হকের ছেলে। সেই একই এলাকার ঠিকাদার রুহুল আমিন মাঝির সাথে আনোয়ারা শাহাদাত নগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।

এই বিষয়ে আনোয়ারা পল্লী বিদ্যুৎ জোনের ডিজিএম আব্দুল মুহিত বলেন, ভবন মালিক আরব খাঁন আমাদের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতি নেয় নাই।একমাস আগে একটা দরখাস্ত করছে বিদ্যুৎ তারে কভার লাগানোর জন্য।আমরা ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাকে বলেছিলাম কভার দিলে হবে না এটা বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে হবে। আপনি এই বিষয়ে আবেদন করেন। পরে ওনি আর আসেনি।

এই বিষয়ে ভবন মালিক আরব খাঁনের বাড়িতে গেলেও সে সাংবাদিকদের সামনে আসতে অপরাগত প্রকাশ করেন। পরে মুঠোফোনে এ একাধিক বার চেষ্টা করেও ফোনে সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

ঠিকাদার রুহুল আমিন মাঝি বলেন, আমার সাথে ভবন মালিক আরব খাঁনের সাথে একটি ভবনের তিন তলার কাজের চুক্তি হয়।চুক্তির আগেই ভবন মালিককে আমি বলছি বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে হবে। ভবন মালিক বলল সরিয়ে নিবে। সর্বশেষ আজ ছাদ ঢালায় এর জন্য ভবন মালিক এক প্রকার জোর করে।আমি বেশি লাভের আশায় কাজ করতে গিয়ে একজন আপন মানুষ বোনের স্বামীকে হারালাম।আমি নিজেও একজন নির্মাণ শ্রমিক। ছোট খাটো এসব কাজ কন্ট্রাক নিয়ে করি।

এই বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা কর্ণফুলী থানাধীন বন্দর ফাঁড়ির সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ৯৯৯ ফোন পেয়ে সকাল সাড়ে সাতটায় আমরা ঘটনাস্থলেআসি।পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় লাশ নিচে নামিয়ে নিয়ে আসি।

ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ অভিযোগ দিলে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ আল মাহমুদ জানান,কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে ঘটনাস্থলে এসে মৃত লাশটি সুরহতাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।