Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ আনোয়ারায় সাগরপথে ইয়াবা ও বিদেশী মদের ব্যবসায় তিনটি মাদক সিন্ডিকেট জড়িত

আনোয়ারায় সাগরপথে ইয়াবা ও বিদেশী মদের ব্যবসায় তিনটি মাদক সিন্ডিকেট জড়িত

আনোয়ারায় সাগরপথে ইয়াবা ও বিদেশী মদের ব্যবসায় তিনটি মাদক সিন্ডিকেট জড়িত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেও গোপনভাবে ইয়াবা এবং বিদেশী মদের ব্যবসা নিয়ে আবোরো সক্রিয় হয়ে উঠেছে তিনটি মাদক সিন্ডিকেট দল ৷ যাদের মাধ্যমে কিছুদিন আগে আনোয়ারা উপকূলীয় সাগরপাড়ে একটি মাদকের চালান খালাসের ঘটনা ঘটেছে।

যারা আগে ইয়াবার ব্যবসায় সফল হয়েছিল এবং বর্তমানে তারা প্রশাসনিক কঠোর নিরাপত্তা থাকায় ইয়াবা পাচারে তেমন সফলতা না পেয়ে মদের ব্যবসায় জড়িত হয়েছে৷ বড় ধরণের সিন্ডিকেট করে বর্তমানে রাতের আধাঁরে সাগরপথে মদের চালান খালাস করে রাতে রাতে কোটি টাকার অবৈধ মালিক বনে যাচ্ছে।

গত দুই মাসে আগে দুটি বিদেশি মদের চালান এবং ১১শত লিটার দেশীয় চোলাই মদ আনোয়ারা থানা পুলিশ টিম হাতেনাতে জব্দ করে এবং এক মাদক সিন্ডিকেট সদস্যকে আটক করে৷বর্তমানে সেই সিন্ডিকেট সদস্যের ভাইয়েরা তার অবর্তমানে এই অবৈধ ব্যবসা দেখাশোনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন সাগর উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সবজি বহনকারি বোট (ইঞ্জিন চালিত ট্রলার) নিয়ে সবজি ব্যবসার নাম দিয়ে বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে অবস্থান করা কিছু বিদেশী জাহাজ থেকে বিদেশী ডলারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্রান্ডের তৈরি বিদেশী মদ ক্রয় করে এনে বিভিন্ন জায়গায় চালান গুলো খালাস করতেছে বলে এলাকাজুড়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মাদক সিন্ডিকেটের মধ্যে যারা জড়িত তারা হলেন ৩নং রায়পুরের ১.জাহাঙ্গীর আলম(ফডি জাহাঙ্গীর)পিং মৃত নুর হোসেন,৭নং ওয়ার্ড, সাং খোর্দ্দ গহিরা,২.মো: কালু (ইয়াবা ও বিদেশী মদ ব্যবসায়ী)পিং আবুল হোসেন,সাং দোভাষী বাজার,৩.কামাল (মদ ব্যবসায়ী)পিং আবদুল হাকীম,সাং ৬নং ওয়ার্ড,পশ্চিম রায়পুর।৪.সেলিম পিং মৃত বশির আহমদ,সাং খোর্দ্দ গহিরা,বদ মেম্বার ঘাট,৫.ইসমাইল সওদাগর সাং চিপাতলী ঘাট,খোর্দ্দ গহিরা।

পরুয়াপাড়া সিন্ডিকেটঃ ১.হাচন মাঝি (উত্তর পরুয়াপাড়া) ২.মোঃ সাবের (হাচান মাঝির ভাই) ৩.আহমদ নবী (দক্ষিন পরুয়াপাড়া)৪.সুরুত ইব্রাহিম (পরুয়াপাড়া)।

পারকী সিন্ডিকেটঃ ১.মোঃ জামাল উদ্দীন,পিতা দলিলুর রহমান যিনি বিগত ২৭ অক্টোবর ভোরে আনোয়ারা থানা পুলিশের হাতে বিপুল মদসহ আটক হয়ে জেলহাজতে (বর্তমানে তার ভাইয়েরা ব্যবসার দেখাশোনা করে) ২.মোঃ ইব্রাহিম প্রকাশ টাউট ইব্রাহীম (পারকী) ৩.আমির হোসেন (অবৈধ ডলার ব্যবসায়ী) ৩.ইসমাইল(পারকী)৪.লেদু(পারকী)৫.মোঃ ইউচুপ প্রকাশ মায়ানমার ইউসুপ, পারকী,৬.আইয়ুব (পারকী) ৭.মোঃ আলমগীর, পিতা আমিন শরীফ(বারশত) গত ১০ ডিসেম্বর আনোয়ারা থানা পুলিশ আলমগীরের মাদকের আস্তানা থেকে প্রায় ২৩ বস্তা দেশীয় চোলাই মদ জব্দ করেন,বটতলী রুস্তমহাট গরুবাজার সংলগ্ন লাবিয়া বর ভাড়ার ঘরের ভাড়াটিয়া রহমান (প্রকাশ উকিল রহমাইন্নে) সহ আরো অনেকে, যারা বিগতকালে মাদকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে জামিনে এসে আবারো সক্রিয় হয়েছে।

বিশেষ করে তারা উপকূলীয় রায়পুরের নজু মিয়া খাল,বাচামিয়া মাঝির ঘাট,ছিপাতলী ঘাট,গলাকাটার ঘাট,পরুয়াপাড়া বাতিঘর, পিচের মাথা সহ রাংগাদিয়া ১৫নং ঘাট, চর পাড়া,পারকী ঝাউবাগান,বাঁশখালীর কাটখালী ইত্যাদি এলাকাতে মদের চালানগুলো খালাস করে বলে এলাকাসুত্রে জানা যায়।

মদের চালানগুলো খালাস করে মিনি পিকআপ এবং মাইক্রো করে চট্টগ্রাম শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গাতে পাচার করে ৷সেখান থেকে খুচরা ও পাইকারি দামে বিক্রি করেন মাদক ব্যবসায়ীরা,বিশেষ করে উপকূলীয় পারকি বিচ,দুধকুমড়া গ্রাম,জুইঁদন্ডীর ইউনিয়নের ভরাচর,বারশতের বোয়ালিয়া গ্রামের নিমতল,বটতলী রুস্তমহাট সহ বিভিন্ন পয়েন্টে গোপনে হেফাজত করে রাখেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য গত ৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম র‍্যাব-৭ এর এএসপি মোঃ তারেকের নেতৃত্বে সিভিল ড্রেসে র‍্যাবের একটি টিম পারকি বিচে অভিযান করতে গেলে কিছু বিদেশী মদ ও বিয়ার সহ হাতেনাতে দুইজন খুচরা মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছিল৷ এরা হলেন পারকির বাসিন্দা মোঃ নছিম এবং নাছির দু’জনেই সহোদর।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম র‍্যাব-৭ এর এএসপি মোঃ তারেকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা গত ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরবেলা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাবের একটি টিম নিয়ে পারকি বিচে অভিযান চালায়,এতে দুজন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করি৷ আমরা প্রায় চার ঘন্টা যাবত অভিযান চালায়, এতে বিচের ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়৷ তিনি বলেন বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে, তাই এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান৷

এ ব্যাপারে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দুলাল মাহমুদ বলেন কিছুদিন আগে আমরা মাদক ব্যবসায়ী আলমগীরের বারশত নিমতল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১শত লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করি এবং গত দুই মাসে আমরা আনোয়ারা থানা পুলিশ দুটি বিদেশি মদের চালান জব্দ করি,আমরা শুনেছি বিগত কয়েক সপ্তাহ আগে একটি মদের চালান খালাস হয়েছে,আমরা আনোয়ারা থানা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে,অতএব মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক আমরা কাউকে ছাড় দিব না এবং সকল মাদক ব্যবসায়ীদের কে গ্রেফতার করতে স্থানীয় সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here