আবারো আলোচনায় হিরো আলম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০ ৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিনোদন ডেস্ক:

ফেসবুক ও ইউটিউবের আলোচিত মুখ আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। তবে এ পর্যন্ত তাকে নিয়ে আলোচনার চেয়ে বিতর্ক আর সমালোচনাই বেশি হয়েছে। তিনি যখন যেখানে যা করতে গিয়েছেন, সবখানেই উঠেছে বিতর্ক। শুরুটা হয়েছিল ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত অর্থায়নে কিছু ফানি ও মিউজিক ভিডিও বানিয়ে এসব মাধ্যমে পোস্ট করে দেশব্যাপী পরিচিতি পান তিনি।

কিন্তু হিরো আলমের আগ্রহটাকে সবাই সাধুবাদ জানালেও তার চেহারা, গায়ের রং, কথা বলার ভাষা-ভঙ্গি এবং অভিনয়শৈলীটাকে মানতে পারেননি বেশিরভাগ নেটিজেন। সমালোচনা ও বিতর্কের শুরু তাই গোড়া থেকেই। তারই মাঝে হিরো আলম নাম লেখান চলচ্চিত্রেও। কাজ করেন ‘মার ছক্কা’ শিরোনামের একটি ছবিতে। কিন্তু ছবিটি ফ্লপ হয়। ব্যবসা করতে পারেনি।

বড় পর্দায়ও হিরো আলমকে ভালো ভাবে নেননি দর্শক। এমন গায়ের রং, ফিগার আর অভিনয় নিয়ে হিরো আলম কীভাবে সিনেমার নায়ক হন- এমন প্রশ্নই ওঠে বার বার। কিন্তু কোনো সমালোচনাকেই পাত্তা দেননি হিরো আলম। সম্প্রতি তিনি নিজ প্রযোজনাতেই একটি সিনেমা বানিয়েছেন। নাম ‘সাহসী হিরো আলম’। এর মাধ্যমে তিনি প্রযোজক হিসেবেও আবির্ভূত হন। সেখানে তিনি নাম ভূমিকায় অভিনয়ও করেন।

কিন্তু চলেনি এই ছবিও। অভিনেতা থেকে প্রযোজক বনে যাওয়া হিরো আলম সেই কারণেই বোধহয় এবার নতুন আরেকটি পরিচয়ে সামনে এলেন। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ‘বাবু খাইছো’ শিরোনামে একটি গান বেশ জনপ্রিয়তা পায় তরুণদের মাঝে। ফেসবুক ও ইউটিউবে অল্প সময়েই গানটি ভাইরাল হয়। এবার একই শিরোনামে গান গেয়েছেন হিরো আলমও। যা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

কিন্তু বরাবরের মতো এবারের সমালোচনাকেও পাত্তা দিচ্ছেন না হিরো আলম। তার কথায়, ‘জীবনে অনেক কিছুই হয়েছি। এবার ট্রাই করলাম শিল্পী হওয়ার। দেখলাম আমি শিল্পী হতে পারবো কি না। প্রথমবারের মতো গান গাইলাম। কোনো প্রস্তুতি না নিয়েই গেয়েছি। কেউ ভালো বলছে, কেউ খারাপ বলছে। কাজ করতে গেলে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাও থাকবে। তবে আমি সমালোচনা নিয়ে মাথা ঘামাই না।’

গান নিয়ে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে হিরো আলম বলেন, ‘প্রথম গানে ভালো সাড়া পেয়েছি। অনেকে আমাকে ফোন করে প্রশংসা করেছেন। আমি চেষ্টা করছি শিল্পী হওয়ার। মনে হয় আমি পারবো। অন্তত মানুষজন আমাকে তাই বলছে। সামনে আমার আরো গান আসবে। এই গানের মিউজিক ভিডিও করবো। সামনে যেসব গান আসবে সেসবের মিউজিক ভিডিওতে আমিই থাকবো। একটা অ্যালবাম করারও প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তবে শুধু বিনোদন দুনিয়ায় নয়, হিরো আলমকে নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে রাজনীতির জগতেও। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৪ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। না পেয়ে অবশেষে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন। সে সময় তার মনোনয়নপত্র কেনা থেকে শুরু করে ভোটের প্রচার এবং লড়াই- সবকিছু নিয়েই হয় সমালোচনা।

যদিও শেষ পর্যন্ত সে সমালোচনার জবাব দিতে পারেননি বগুড়ার ক্যাবল ব্যবসায়ী এবং বর্তমানের অভিনেতা-প্রযোজক হিরো আলম। কারণ ওই নির্বাচনে তিনি বড় ব্যবধানে হেরে যান। এবার গান গেয়েও সমালোচনার মুখে। তবে সব সমালোচনাকে ছাপিয়ে হিরো আলম নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আবারো আলোচনায় হিরো আলম

আপডেট সময় : ১১:৪৫:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

বিনোদন ডেস্ক:

ফেসবুক ও ইউটিউবের আলোচিত মুখ আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। তবে এ পর্যন্ত তাকে নিয়ে আলোচনার চেয়ে বিতর্ক আর সমালোচনাই বেশি হয়েছে। তিনি যখন যেখানে যা করতে গিয়েছেন, সবখানেই উঠেছে বিতর্ক। শুরুটা হয়েছিল ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত অর্থায়নে কিছু ফানি ও মিউজিক ভিডিও বানিয়ে এসব মাধ্যমে পোস্ট করে দেশব্যাপী পরিচিতি পান তিনি।

কিন্তু হিরো আলমের আগ্রহটাকে সবাই সাধুবাদ জানালেও তার চেহারা, গায়ের রং, কথা বলার ভাষা-ভঙ্গি এবং অভিনয়শৈলীটাকে মানতে পারেননি বেশিরভাগ নেটিজেন। সমালোচনা ও বিতর্কের শুরু তাই গোড়া থেকেই। তারই মাঝে হিরো আলম নাম লেখান চলচ্চিত্রেও। কাজ করেন ‘মার ছক্কা’ শিরোনামের একটি ছবিতে। কিন্তু ছবিটি ফ্লপ হয়। ব্যবসা করতে পারেনি।

বড় পর্দায়ও হিরো আলমকে ভালো ভাবে নেননি দর্শক। এমন গায়ের রং, ফিগার আর অভিনয় নিয়ে হিরো আলম কীভাবে সিনেমার নায়ক হন- এমন প্রশ্নই ওঠে বার বার। কিন্তু কোনো সমালোচনাকেই পাত্তা দেননি হিরো আলম। সম্প্রতি তিনি নিজ প্রযোজনাতেই একটি সিনেমা বানিয়েছেন। নাম ‘সাহসী হিরো আলম’। এর মাধ্যমে তিনি প্রযোজক হিসেবেও আবির্ভূত হন। সেখানে তিনি নাম ভূমিকায় অভিনয়ও করেন।

কিন্তু চলেনি এই ছবিও। অভিনেতা থেকে প্রযোজক বনে যাওয়া হিরো আলম সেই কারণেই বোধহয় এবার নতুন আরেকটি পরিচয়ে সামনে এলেন। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ‘বাবু খাইছো’ শিরোনামে একটি গান বেশ জনপ্রিয়তা পায় তরুণদের মাঝে। ফেসবুক ও ইউটিউবে অল্প সময়েই গানটি ভাইরাল হয়। এবার একই শিরোনামে গান গেয়েছেন হিরো আলমও। যা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

কিন্তু বরাবরের মতো এবারের সমালোচনাকেও পাত্তা দিচ্ছেন না হিরো আলম। তার কথায়, ‘জীবনে অনেক কিছুই হয়েছি। এবার ট্রাই করলাম শিল্পী হওয়ার। দেখলাম আমি শিল্পী হতে পারবো কি না। প্রথমবারের মতো গান গাইলাম। কোনো প্রস্তুতি না নিয়েই গেয়েছি। কেউ ভালো বলছে, কেউ খারাপ বলছে। কাজ করতে গেলে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাও থাকবে। তবে আমি সমালোচনা নিয়ে মাথা ঘামাই না।’

গান নিয়ে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে হিরো আলম বলেন, ‘প্রথম গানে ভালো সাড়া পেয়েছি। অনেকে আমাকে ফোন করে প্রশংসা করেছেন। আমি চেষ্টা করছি শিল্পী হওয়ার। মনে হয় আমি পারবো। অন্তত মানুষজন আমাকে তাই বলছে। সামনে আমার আরো গান আসবে। এই গানের মিউজিক ভিডিও করবো। সামনে যেসব গান আসবে সেসবের মিউজিক ভিডিওতে আমিই থাকবো। একটা অ্যালবাম করারও প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তবে শুধু বিনোদন দুনিয়ায় নয়, হিরো আলমকে নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে রাজনীতির জগতেও। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৪ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। না পেয়ে অবশেষে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন। সে সময় তার মনোনয়নপত্র কেনা থেকে শুরু করে ভোটের প্রচার এবং লড়াই- সবকিছু নিয়েই হয় সমালোচনা।

যদিও শেষ পর্যন্ত সে সমালোচনার জবাব দিতে পারেননি বগুড়ার ক্যাবল ব্যবসায়ী এবং বর্তমানের অভিনেতা-প্রযোজক হিরো আলম। কারণ ওই নির্বাচনে তিনি বড় ব্যবধানে হেরে যান। এবার গান গেয়েও সমালোচনার মুখে। তবে সব সমালোচনাকে ছাপিয়ে হিরো আলম নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।