ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর বিজয় দিবস ও অভিবাসী দিবস উদযাপন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ ৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাকিব উদ্দিন,
বাংলাদেশের ৪৯ তম বিজয় দিবস উদযাপনে তারুন্যের নেটওয়ার্ক ইয়াং বাংলার সাথে যুক্ত হয়ে ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, বিজয় দিবস এর সাথে একযোগে ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২০ পালন করা হয়েছে।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাইপাসে রাস্তার পাশে প্লাস্টিকের ছাউনি ঘরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করে অসংখ্য যাযাবর; যাদের জাতীয়তা বাংলাদেশি। পেশায় সাপুড়ে হলেও অন্য অনেক কাজের সাথেও তারা জড়িত। তাদের জীবনযাপন খুবই সাধারণ। পড়ালেখার সুযোগ না থাকায় তারা জানে না জীবনের মানে কি। লেখাপড়া করার অদম্য ইচ্ছে থাকলেও দারিদ্র্যতার কারণে সম্ভব হয়ে উঠে না। তারা জানে না স্বাধীনতার মানে কি, বোঝে না বিজয়ের আনন্দ। তাদেরকে নিয়েই ছিল ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবস উদযাপন।

বাইপাসেরই প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু-কিশোরদের সাথে নিয়ে ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ বিজয় দিবস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২০ উপলক্ষ্যে আয়োজন করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ – বিজয়ের আনন্দে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত বেদে শিশুদের সাথে নিয়ে বিজয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া ও তাদের মুখে হাসি ফোটানো।

ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দের বেশ কয়েকজন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, স্বাধীনতার কাহিনী, বিজয়ের গল্পসহ বাংলাদেশকে শিশু-কিশোরদের সামনে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলে।

ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী রফিকুল ইসলাম সাঈদী বেদে শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদেরকে এই পরিবেশ হতে বের হয়ে আসতে হবে। তোমাদের পিতা-মাতা যে পেশায় আছে তা হতে বের হয়ে তোমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, তোমাদের পিতা-মাতার মুখে হাসি ফোটাতে হবে। দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

নির্বাহী সদস্য তাহিয়ান কামাল বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।’

বিজয়ের চেতনা জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করানো হয়। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে তাদের সকলকে বেলুন প্রদান করা হয়; তবে জাতীয় পতাকার সাথে মিল রেখে সমান অনুপাতে লাল ও সবুজ রঙের বেলুন বিতরণ করা হয়। বেদে শিশুদের মধ্যে দুইজন গান ও একজন জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করায় তাদের তিনজনকেই পুরস্কৃত করা হয়।

ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর এই আয়োজনে শিশু-কিশোররা অত্যন্ত খুশি হয় এবং তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠে। পাশাপাশি তাদের পিতা-মাতারাও খুশি হয়। এসময় অর্ধশতাধিক শিশু-কিশোরের পাশাপাশি আরও প্রায় অর্ধশতাধিক অভিভাবক আজকের আয়োজনে যুক্ত ছিল দর্শক ও বিশ্লেষক হিসেবে।

ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রিমন বড়ুয়া বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার রয়েছে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তোমাদের জীবনমান উন্নত করতে হবে। জীবনযাপনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ও কাজ করতে হবে আমাদের সকলকে। আমরা চেষ্টা করবো ভবিষ্যতে তোমাদের জন্য আরও নতুন ও প্রয়োজনমূলক কিছু নিয়ে পুনরায় আসার।’ এসময় আরও উপস্থিত ছিল সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সজীব বড়ুয়া, তামান্না আলম সহ আরও অনেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর বিজয় দিবস ও অভিবাসী দিবস উদযাপন

আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

রাকিব উদ্দিন,
বাংলাদেশের ৪৯ তম বিজয় দিবস উদযাপনে তারুন্যের নেটওয়ার্ক ইয়াং বাংলার সাথে যুক্ত হয়ে ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, বিজয় দিবস এর সাথে একযোগে ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২০ পালন করা হয়েছে।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাইপাসে রাস্তার পাশে প্লাস্টিকের ছাউনি ঘরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করে অসংখ্য যাযাবর; যাদের জাতীয়তা বাংলাদেশি। পেশায় সাপুড়ে হলেও অন্য অনেক কাজের সাথেও তারা জড়িত। তাদের জীবনযাপন খুবই সাধারণ। পড়ালেখার সুযোগ না থাকায় তারা জানে না জীবনের মানে কি। লেখাপড়া করার অদম্য ইচ্ছে থাকলেও দারিদ্র্যতার কারণে সম্ভব হয়ে উঠে না। তারা জানে না স্বাধীনতার মানে কি, বোঝে না বিজয়ের আনন্দ। তাদেরকে নিয়েই ছিল ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবস উদযাপন।

বাইপাসেরই প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু-কিশোরদের সাথে নিয়ে ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ বিজয় দিবস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২০ উপলক্ষ্যে আয়োজন করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ – বিজয়ের আনন্দে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত বেদে শিশুদের সাথে নিয়ে বিজয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া ও তাদের মুখে হাসি ফোটানো।

ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দের বেশ কয়েকজন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, স্বাধীনতার কাহিনী, বিজয়ের গল্পসহ বাংলাদেশকে শিশু-কিশোরদের সামনে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলে।

ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী রফিকুল ইসলাম সাঈদী বেদে শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদেরকে এই পরিবেশ হতে বের হয়ে আসতে হবে। তোমাদের পিতা-মাতা যে পেশায় আছে তা হতে বের হয়ে তোমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, তোমাদের পিতা-মাতার মুখে হাসি ফোটাতে হবে। দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

নির্বাহী সদস্য তাহিয়ান কামাল বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।’

বিজয়ের চেতনা জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করানো হয়। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে তাদের সকলকে বেলুন প্রদান করা হয়; তবে জাতীয় পতাকার সাথে মিল রেখে সমান অনুপাতে লাল ও সবুজ রঙের বেলুন বিতরণ করা হয়। বেদে শিশুদের মধ্যে দুইজন গান ও একজন জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করায় তাদের তিনজনকেই পুরস্কৃত করা হয়।

ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর এই আয়োজনে শিশু-কিশোররা অত্যন্ত খুশি হয় এবং তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠে। পাশাপাশি তাদের পিতা-মাতারাও খুশি হয়। এসময় অর্ধশতাধিক শিশু-কিশোরের পাশাপাশি আরও প্রায় অর্ধশতাধিক অভিভাবক আজকের আয়োজনে যুক্ত ছিল দর্শক ও বিশ্লেষক হিসেবে।

ইয়ুথ পজিশন বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রিমন বড়ুয়া বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার রয়েছে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তোমাদের জীবনমান উন্নত করতে হবে। জীবনযাপনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ও কাজ করতে হবে আমাদের সকলকে। আমরা চেষ্টা করবো ভবিষ্যতে তোমাদের জন্য আরও নতুন ও প্রয়োজনমূলক কিছু নিয়ে পুনরায় আসার।’ এসময় আরও উপস্থিত ছিল সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সজীব বড়ুয়া, তামান্না আলম সহ আরও অনেকে।