উখিয়ায় প্রথম দিনে কঠোরতা, আদালতের জরিমানা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২০ ১৭৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি:
দ্বিতীয় বারের মতো সোমবার থেকে ১৪ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে উখিয়ায়।বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের মহামারি আকার ধারণ করায় এবার লকডাউনের সাথে কিছু এলাকাকে রেড জোন ঘোষণার প্রথম দিনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল কঠোর অবস্থানে। এবারের লকডাউনে রেড জোনভূক্ত এলাকার লোকজনদেরও স্বতস্ফুর্ত ভাবে সাড়া দিতে দেখা যায়।

রেড জোন ঘোষিত এলাকায় সব ধরনের গণ পরিবহন, মার্কেট, দোকান ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকতে দেখা যায়। উখিয়া সদরের রাজাপালং, পালংখালী ও রত্নাপালং ইউনিয়নের রেড জোন এলাকায় ওষুধের দোকান ছাড়া সব রকমের দোকানপাট বন্ধ ছিল। জরুরী প্রয়োজনে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কেউ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারেননি। খাদ্য সহায়তা ও স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত এনজিও কর্মীরা অবাধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকেছেন।

তবে যে সব এলাকা রেড জোনের আওতায় নয়, সে সব এলাকায় গণপরিবহনের অভাবে অনেককে হেটে চলাচল করতে দেখা গেছে। উখিয়া থেকে বালুখালী ও পালংখালী এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াতকারী এনজিও কর্মীদের যানবাহনের অভাবে দুর্ভোগ পড়তে দেখা যায়। সীমিত আকারে কিছু রিক্সা টমটম ও সিএনজি চলাচল করতে দেখা গেছে।

তবে রেড জোন ঘোষিত এলাকার লোকজনদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে লকডাউনের সমর্থনে সাড়া দিতে দেখা যায়। তারা নিজেরা উদ্যেগী হয়ে স্ব স্ব পাড়া মহল্লায় বহিরাগত লোকজনদের অপ্রয়োজনে চলাচলে বাধা প্রদান করতে দেখা গেছে। রাজাপালং ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল হক বলেন, করোনা যেভাবে সংক্রমণ হচ্ছে তাতে মানুষের জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই লোকজন বুঝতে পেরে নিজেরা সরকারের ঘোষণায় লকডাউন পালনে পাহারা দিচ্ছে।

লকডাউনের শুরুতে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মানুষদের সচেতন করতে কিছুটা নমনীয় দেখা যায়। তবে বেলা বাড়ার সাথে তাদের কঠোর অবস্থানে যেতে দেখা যায়।

সকাল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আমিমুল এহসান রেড জোন ঘোষিত এলাকায় পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত রেড জোন ঘোষিত এলাকায় প্রচারিত নির্দেশনা লংঘন করে মাস্ক বিহীন অহেতুক ঘোরাঘুরি করা, দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ায় ১১ জনকে জরিমানা করা হয়। উখিয়া সদর, কোটবাজার,কুতুপালং, বালুখালী ও থাইংখালীতে ১১ জনের কাছ থেকে ৩৯ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

উখিয়া ইউএনও ও উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উখিয়ায় ক্রমান্বয়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা সংক্রমণ। এ অবস্থায় যেসব এলাকায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকাকে রেড জোনের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলা কোভিড -১৯ প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার রেড জোন এলাকায় মুদির দোকান ও কাঁচাবাজার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সেই সঙ্গে সপ্তাহের এ দুদিন খোলা থাকবে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া লকডাউনের এ সময়ে নিত্যপণ্য বহনকারী হালকা ও ভারি যানবাহন শুধু রাত ৮ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত রেড জোন এলাকায় চলাচল করতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উখিয়ায় প্রথম দিনে কঠোরতা, আদালতের জরিমানা

আপডেট সময় : ০১:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২০

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি:
দ্বিতীয় বারের মতো সোমবার থেকে ১৪ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে উখিয়ায়।বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের মহামারি আকার ধারণ করায় এবার লকডাউনের সাথে কিছু এলাকাকে রেড জোন ঘোষণার প্রথম দিনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল কঠোর অবস্থানে। এবারের লকডাউনে রেড জোনভূক্ত এলাকার লোকজনদেরও স্বতস্ফুর্ত ভাবে সাড়া দিতে দেখা যায়।

রেড জোন ঘোষিত এলাকায় সব ধরনের গণ পরিবহন, মার্কেট, দোকান ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকতে দেখা যায়। উখিয়া সদরের রাজাপালং, পালংখালী ও রত্নাপালং ইউনিয়নের রেড জোন এলাকায় ওষুধের দোকান ছাড়া সব রকমের দোকানপাট বন্ধ ছিল। জরুরী প্রয়োজনে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কেউ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারেননি। খাদ্য সহায়তা ও স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত এনজিও কর্মীরা অবাধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকেছেন।

তবে যে সব এলাকা রেড জোনের আওতায় নয়, সে সব এলাকায় গণপরিবহনের অভাবে অনেককে হেটে চলাচল করতে দেখা গেছে। উখিয়া থেকে বালুখালী ও পালংখালী এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াতকারী এনজিও কর্মীদের যানবাহনের অভাবে দুর্ভোগ পড়তে দেখা যায়। সীমিত আকারে কিছু রিক্সা টমটম ও সিএনজি চলাচল করতে দেখা গেছে।

তবে রেড জোন ঘোষিত এলাকার লোকজনদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে লকডাউনের সমর্থনে সাড়া দিতে দেখা যায়। তারা নিজেরা উদ্যেগী হয়ে স্ব স্ব পাড়া মহল্লায় বহিরাগত লোকজনদের অপ্রয়োজনে চলাচলে বাধা প্রদান করতে দেখা গেছে। রাজাপালং ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল হক বলেন, করোনা যেভাবে সংক্রমণ হচ্ছে তাতে মানুষের জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই লোকজন বুঝতে পেরে নিজেরা সরকারের ঘোষণায় লকডাউন পালনে পাহারা দিচ্ছে।

লকডাউনের শুরুতে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মানুষদের সচেতন করতে কিছুটা নমনীয় দেখা যায়। তবে বেলা বাড়ার সাথে তাদের কঠোর অবস্থানে যেতে দেখা যায়।

সকাল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আমিমুল এহসান রেড জোন ঘোষিত এলাকায় পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত রেড জোন ঘোষিত এলাকায় প্রচারিত নির্দেশনা লংঘন করে মাস্ক বিহীন অহেতুক ঘোরাঘুরি করা, দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ায় ১১ জনকে জরিমানা করা হয়। উখিয়া সদর, কোটবাজার,কুতুপালং, বালুখালী ও থাইংখালীতে ১১ জনের কাছ থেকে ৩৯ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

উখিয়া ইউএনও ও উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উখিয়ায় ক্রমান্বয়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা সংক্রমণ। এ অবস্থায় যেসব এলাকায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকাকে রেড জোনের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলা কোভিড -১৯ প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার রেড জোন এলাকায় মুদির দোকান ও কাঁচাবাজার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সেই সঙ্গে সপ্তাহের এ দুদিন খোলা থাকবে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া লকডাউনের এ সময়ে নিত্যপণ্য বহনকারী হালকা ও ভারি যানবাহন শুধু রাত ৮ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত রেড জোন এলাকায় চলাচল করতে পারবে।