কক্সবাজারে অনির্দিষ্টকাল বিপনীবিতান বন্ধের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২০ ১২০ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
পরিশেষে পুনরায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হলো কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। লকডাউন সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কথা চিন্তা করে শর্তসাপেক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছিল প্রশাসন। এরপর কয়েকদিনের কার্যক্রম পরিদর্শন করে দেখা গেছে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা কোন শর্ত মানছেনা। অপর দিকে শপিং সেন্টারসহ রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে। এরমধ্যে আবার কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলায় আজকের হিসাবেও ১৮৪ জনের করোনা টেষ্টে ১জন রোহিঙ্গা সহ ২২ জন পজেটিভ পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস এর লেগাম ধরে রাখতে না পারলে হিতেবিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন অবস্থায় জেলার সাধারণ মানুষের সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং মৃত্যু ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে সদরসহ সকল উপজেলা পর্যায়ে আগামীকাল বিকাল চারটা থেকে দোকানপাট, শপিংমলসমূহ পুনঃরায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

এই সিদ্ধান্ত জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনাপূর্বক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলা সদরসহ সকল উপজেলা পর্যায়ে দোকানপাট/শপিংমলসমূহ বন্ধ রাখতে হবে।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এর গত ৫ মে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর বিস্তার প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সীমিত আকারে জেলার অভ্যন্তরীণ দোকানপাট/শপিংমল শর্ত সাপেক্ষে চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

কিন্তু গত ৫ দিন মার্কেট ও শপিংমলসমূহ সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতীয়মান হয় যে, মার্কেট ও শপিংমলসমূহে মানুষের উপচে পড়া ভীড়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অসচেতনতা এবং আগত ক্রেতা-বিক্রাতগণ কর্তৃক সরকার প্রদত্ত শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সম্পূর্ণ অবহেলা প্রদর্শনের কারণে বর্ণিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না। ফলে এ জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার মারাত্মক আকার ধারণ করছে।

এমতাবস্থায় জনসাধারণ তথা কক্সবাজারবাসীর সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং মৃত্যু ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনাপূর্বক পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলা সদরসহ সকল উপজেলা পর্যায়ে দোকানপাট-শপিংমলসমূহ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এ আদেশ আগামী ১৮ মে সোমবার বিকাল ৪ ঘটিকা হতে কার্যকর হবে।

তবে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট জরুরী সেবা সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। এছাড়াও নিত্য দ্রব্যাদির দোকান, কাঁচাবাজার ও অন্যান্য সরকার ঘোষিত পরিসেবাসমূহ পূর্বে জারীকৃত নির্দেশনানুযায়ী বিকাল ৪ পর্যন্ত খোলা থাকবে।জরুরি কারণ ব্যতিত রিক্স, অটোরিক্স, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ যন্ত্রচালিত সকল যাত্রী পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন চলাচল বিকাল ৪ ঘটিকা পর সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য পণ্য পরিবহন কাজে নিয়োজিত যানবাহন চলাচলে এ আদেশের আওতামূক্ত থাকবে। সতর্ক করে বলেন, জনসাধারণ ও ক্রেতা,বিক্রাতা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে উপর্যুক্ত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হলো। অন্যথায় এ আদেশ ভঙ্গকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কক্সবাজারে অনির্দিষ্টকাল বিপনীবিতান বন্ধের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসক

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২০

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
পরিশেষে পুনরায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হলো কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। লকডাউন সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কথা চিন্তা করে শর্তসাপেক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছিল প্রশাসন। এরপর কয়েকদিনের কার্যক্রম পরিদর্শন করে দেখা গেছে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা কোন শর্ত মানছেনা। অপর দিকে শপিং সেন্টারসহ রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে। এরমধ্যে আবার কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলায় আজকের হিসাবেও ১৮৪ জনের করোনা টেষ্টে ১জন রোহিঙ্গা সহ ২২ জন পজেটিভ পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস এর লেগাম ধরে রাখতে না পারলে হিতেবিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন অবস্থায় জেলার সাধারণ মানুষের সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং মৃত্যু ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে সদরসহ সকল উপজেলা পর্যায়ে আগামীকাল বিকাল চারটা থেকে দোকানপাট, শপিংমলসমূহ পুনঃরায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

এই সিদ্ধান্ত জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনাপূর্বক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলা সদরসহ সকল উপজেলা পর্যায়ে দোকানপাট/শপিংমলসমূহ বন্ধ রাখতে হবে।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এর গত ৫ মে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর বিস্তার প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সীমিত আকারে জেলার অভ্যন্তরীণ দোকানপাট/শপিংমল শর্ত সাপেক্ষে চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

কিন্তু গত ৫ দিন মার্কেট ও শপিংমলসমূহ সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতীয়মান হয় যে, মার্কেট ও শপিংমলসমূহে মানুষের উপচে পড়া ভীড়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অসচেতনতা এবং আগত ক্রেতা-বিক্রাতগণ কর্তৃক সরকার প্রদত্ত শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সম্পূর্ণ অবহেলা প্রদর্শনের কারণে বর্ণিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না। ফলে এ জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার মারাত্মক আকার ধারণ করছে।

এমতাবস্থায় জনসাধারণ তথা কক্সবাজারবাসীর সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং মৃত্যু ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনাপূর্বক পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলা সদরসহ সকল উপজেলা পর্যায়ে দোকানপাট-শপিংমলসমূহ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এ আদেশ আগামী ১৮ মে সোমবার বিকাল ৪ ঘটিকা হতে কার্যকর হবে।

তবে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট জরুরী সেবা সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। এছাড়াও নিত্য দ্রব্যাদির দোকান, কাঁচাবাজার ও অন্যান্য সরকার ঘোষিত পরিসেবাসমূহ পূর্বে জারীকৃত নির্দেশনানুযায়ী বিকাল ৪ পর্যন্ত খোলা থাকবে।জরুরি কারণ ব্যতিত রিক্স, অটোরিক্স, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ যন্ত্রচালিত সকল যাত্রী পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন চলাচল বিকাল ৪ ঘটিকা পর সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য পণ্য পরিবহন কাজে নিয়োজিত যানবাহন চলাচলে এ আদেশের আওতামূক্ত থাকবে। সতর্ক করে বলেন, জনসাধারণ ও ক্রেতা,বিক্রাতা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে উপর্যুক্ত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হলো। অন্যথায় এ আদেশ ভঙ্গকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।