কক্সবাজারে পুলিশ হেফাজতে এক মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড়: ওসি প্রত্যাহার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজার সংবাদদাতা:
কক্সবাজার সদরস্থ খরুলিয়ায় গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবিরকে ক্লোজ করে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার খরুলিয়া বাংলাবাজারের পশ্চিম মুক্তারকুল এলাকার মৃত আব্দুর শুক্কুরের ছেলে নবী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিল। প্রতিবারের মতো সোমবার দুপুরে ইয়াবা বিক্রির সময় তাকে জনতা ধরে বেধড়ক গণধোলাই দেয়। পরে ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয় এবং পুলিশের হাতে তাকে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। এক পর্যায়ে ওই দিন বিকালে তার শারীরিক অবস্থা ভালো হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে সূত্রটি জানায়।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যায় ইয়াবা ব্যবসায়ী নবী হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির জানান, সোমবার খরুলিয়া বাজার এলাকায় দিনেদুপুরে ইয়াবা বিক্রি করার সময় নবী হোসেনকে নগদ টাকা ও ইয়াবাসহ আটক করে জনতা গণধোলাই দিয়ে সদর মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, সোমবার দুপুরে জানতে পারি এলাকার এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে রাখেন স্থানীয় জনতা। পরে আমি এসে পুলিশে খবর দেই। এ সময় ওই মাদক ব্যবসায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকেসহ স্থানীয় উপস্থিত লোকজনকে আঘাত করার চেষ্টা করে পালিয়ে যায়। তখন তার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্থানীয় টমটম চালক সাহাব উদ্দিন আহত হন। পরে তাকে ধাওয়া করে স্থানীয় লোকজন গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশের সূত্র জানায়, গণধোলাইয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। সম্ভবত ওই কারণেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার (সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ী নবী হোসেনকে জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার পর তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক নবী হোসেনকে সুস্থ দাবী করে রিলিজ করে দেন। পুনরায় আবার অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মারা যায়। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহাজান কবিরকে ক্লোজড করে সিলেট বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কক্সবাজারে পুলিশ হেফাজতে এক মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড়: ওসি প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০

কক্সবাজার সংবাদদাতা:
কক্সবাজার সদরস্থ খরুলিয়ায় গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবিরকে ক্লোজ করে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার খরুলিয়া বাংলাবাজারের পশ্চিম মুক্তারকুল এলাকার মৃত আব্দুর শুক্কুরের ছেলে নবী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিল। প্রতিবারের মতো সোমবার দুপুরে ইয়াবা বিক্রির সময় তাকে জনতা ধরে বেধড়ক গণধোলাই দেয়। পরে ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয় এবং পুলিশের হাতে তাকে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। এক পর্যায়ে ওই দিন বিকালে তার শারীরিক অবস্থা ভালো হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে সূত্রটি জানায়।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যায় ইয়াবা ব্যবসায়ী নবী হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির জানান, সোমবার খরুলিয়া বাজার এলাকায় দিনেদুপুরে ইয়াবা বিক্রি করার সময় নবী হোসেনকে নগদ টাকা ও ইয়াবাসহ আটক করে জনতা গণধোলাই দিয়ে সদর মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, সোমবার দুপুরে জানতে পারি এলাকার এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে রাখেন স্থানীয় জনতা। পরে আমি এসে পুলিশে খবর দেই। এ সময় ওই মাদক ব্যবসায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকেসহ স্থানীয় উপস্থিত লোকজনকে আঘাত করার চেষ্টা করে পালিয়ে যায়। তখন তার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্থানীয় টমটম চালক সাহাব উদ্দিন আহত হন। পরে তাকে ধাওয়া করে স্থানীয় লোকজন গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশের সূত্র জানায়, গণধোলাইয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। সম্ভবত ওই কারণেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার (সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ী নবী হোসেনকে জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার পর তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক নবী হোসেনকে সুস্থ দাবী করে রিলিজ করে দেন। পুনরায় আবার অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মারা যায়। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দ আবু মো. শাহাজান কবিরকে ক্লোজড করে সিলেট বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।