কাশ্মীর ইস্যু ও আমরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০১৯ ২৬৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাশ্মীর ইস্যু ও আমরা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে নিবন্ধিত একটি সংগঠন।

জাতিরাষ্ট্র ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থাকে মেনেই আমরা রাজনীতি করি। বৈশ্বিক স্বীকৃত নীতি অনুসারে আমরা জাতিরাষ্ট্রসমুহের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বকে সন্মান করি। সেই মতে কোন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও আমরা বৈশ্বিক স্বীকৃত নীতি মেনে চলি।

একই সাথে আমরা উম্মাহ ধারনা ধারন করি। রাসুল সঃ বলেছেন, মুমিনগন এক দেহের মতো। তার কোন এক অংশ কষ্ট পেলে গোটা বিশ্বের সকল মুমিনই কষ্ট পায়। সেজন্য কাশ্মীরের মুসলমানদের ওপরে চলমান ভারতীয় দখলদারিত্ব আমাদেরকে কষ্ট দেয়।

এছাড়া আমরা বাংলাদেশিরা একটি রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পরাধীনতার কষ্ট আমরা জানি। তাই কাশ্মীরের চলমান পরাধীনতা আমাদেরকেও কষ্ট দেয়।

এই কারনেই কাশ্মীর ইস্যুতে আমরা রাজপথে বিক্ষোভ করছি। বাংলাদেশের রাজপথে ইতিপুর্বে ভিয়েতনাম ইস্যুতেও জোড়ালো বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্বের যেকোন প্রান্তে যেকোন দখলদারীর বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ দেখানো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য।

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার যে, কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতই বিষয়টি উত্থাপন করে এটাকে বহু পাক্ষিক ইস্যু বানিয়েছে। এরই ভিত্তিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজুলেশন ৩৯ ও ৪৭ গৃহীত হয়। রেজুলেশন ৪৭ এর একটি প্রস্তাব ছিলো কাশ্মীরে গনভোটের আয়োজন করা।

এছাড়াও ১৯৭২ ইন্দিরা গান্ধী ও জুলফিকার আলী ভুট্টো স্বাক্ষরিত শিমলা চুক্তিতেও কাশ্মীরকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে মেনে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও কাশ্মির ইস্যুতে মার্কিন রাষ্ট্রপতিরা বারংবারই কথা বলেছে, মধ্যস্ততা করতে চেয়েছে।

ভারতীয় কংগ্রেসের সংসদ দলীয় নেতা অধীর চৌধুরীও কাশ্মীরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয নয় বলে সংসদেই মত প্রকাশ করেছেন।

অতএব কাশ্মীর ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখানো কারো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা নয় বরং একটি বহুপক্ষীয় বিষয়ে ন্যায়সংগত পক্ষ অবলম্বন করা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চলমান বিক্ষোভ জাতিরাষ্ট্রে স্বীকৃত কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনেই সংগঠিত হচ্ছে।

এই বিক্ষোভ কোন দেশ বা জাতির বিরুদ্ধে নয়। বরং মানবিকতা ও মানুষের স্বাধীনতার পক্ষে বাঙ্গালীর চিরন্তন সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।শান্তি, মুক্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশা আল্লাহ।

শেখ ফজলুল করীম মারুফ
শ্রদ্ধেয় কেন্দ্রীয় সভাপতি, ইশা ছাত্র আন্দোলন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাশ্মীর ইস্যু ও আমরা

আপডেট সময় : ১২:২১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০১৯

কাশ্মীর ইস্যু ও আমরা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুসারে নিবন্ধিত একটি সংগঠন।

জাতিরাষ্ট্র ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থাকে মেনেই আমরা রাজনীতি করি। বৈশ্বিক স্বীকৃত নীতি অনুসারে আমরা জাতিরাষ্ট্রসমুহের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বকে সন্মান করি। সেই মতে কোন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও আমরা বৈশ্বিক স্বীকৃত নীতি মেনে চলি।

একই সাথে আমরা উম্মাহ ধারনা ধারন করি। রাসুল সঃ বলেছেন, মুমিনগন এক দেহের মতো। তার কোন এক অংশ কষ্ট পেলে গোটা বিশ্বের সকল মুমিনই কষ্ট পায়। সেজন্য কাশ্মীরের মুসলমানদের ওপরে চলমান ভারতীয় দখলদারিত্ব আমাদেরকে কষ্ট দেয়।

এছাড়া আমরা বাংলাদেশিরা একটি রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পরাধীনতার কষ্ট আমরা জানি। তাই কাশ্মীরের চলমান পরাধীনতা আমাদেরকেও কষ্ট দেয়।

এই কারনেই কাশ্মীর ইস্যুতে আমরা রাজপথে বিক্ষোভ করছি। বাংলাদেশের রাজপথে ইতিপুর্বে ভিয়েতনাম ইস্যুতেও জোড়ালো বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্বের যেকোন প্রান্তে যেকোন দখলদারীর বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ দেখানো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য।

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার যে, কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতই বিষয়টি উত্থাপন করে এটাকে বহু পাক্ষিক ইস্যু বানিয়েছে। এরই ভিত্তিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজুলেশন ৩৯ ও ৪৭ গৃহীত হয়। রেজুলেশন ৪৭ এর একটি প্রস্তাব ছিলো কাশ্মীরে গনভোটের আয়োজন করা।

এছাড়াও ১৯৭২ ইন্দিরা গান্ধী ও জুলফিকার আলী ভুট্টো স্বাক্ষরিত শিমলা চুক্তিতেও কাশ্মীরকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে মেনে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও কাশ্মির ইস্যুতে মার্কিন রাষ্ট্রপতিরা বারংবারই কথা বলেছে, মধ্যস্ততা করতে চেয়েছে।

ভারতীয় কংগ্রেসের সংসদ দলীয় নেতা অধীর চৌধুরীও কাশ্মীরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয নয় বলে সংসদেই মত প্রকাশ করেছেন।

অতএব কাশ্মীর ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখানো কারো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা নয় বরং একটি বহুপক্ষীয় বিষয়ে ন্যায়সংগত পক্ষ অবলম্বন করা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চলমান বিক্ষোভ জাতিরাষ্ট্রে স্বীকৃত কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনেই সংগঠিত হচ্ছে।

এই বিক্ষোভ কোন দেশ বা জাতির বিরুদ্ধে নয়। বরং মানবিকতা ও মানুষের স্বাধীনতার পক্ষে বাঙ্গালীর চিরন্তন সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।শান্তি, মুক্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশা আল্লাহ।

শেখ ফজলুল করীম মারুফ
শ্রদ্ধেয় কেন্দ্রীয় সভাপতি, ইশা ছাত্র আন্দোলন।