“কিশোর গ্যাং” উৎখাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সিএমপির

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০ ২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব সংবাদদাতা,
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় পদচারণা আছে এসব গ্রুপের সদস্যদের। ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং এবং মাদক বিক্রির মতো অপরাধেও তারা জড়িত। খুন-ধর্ষণের ঘটনাও ঘটাচ্ছে তারা। কিশোর গ্যাংয়ের কাছে দেশি অস্ত্রের ছড়াছড়ি। এমনকি অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে কোনো কোনো কিশোর গ্যাং সদস্যের হাতে। এদের অনেকেই রাজনৈতিক ছায়ায় অবস্থান করে। আবার কেউ কেউ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুচর হিসেবে কাজ করছে।

শহর-বন্দরে উঠতি বয়সের ছেলেরা একত্রিত হয়ে গ্যাং তৈরি করে নানা ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন নামে এলাকাভিত্তিক নতুন নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তুলেছে তারা।

পাড়া-মহল্লায় নারীদের উত্ত্যক্ত, কটূক্তি, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দেখানোসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক সেবন ছাড়াও নানা তুচ্ছ ঘটনায় গ্রুপে গ্রুপে চলছে হাতাহাতি-মারামারি। ঝুঁকিপূর্ণ বাইক ও কার রেসিং তাদের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ব্যতিক্রম নয় চট্টগ্রাম নগরীও । ইতিমধ্যে নগরীতে কিশোর গ্যাং এর দ্বারা বেশকিছু অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তাই,তাদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

সিএমপি সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩রা অক্টোবর ,২০২০ (শনিবার) বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত নগরীর ১৭ টি থানার ১৪৫ জন বিট অফিসার তাদের নির্ধারিত বিটে ডিউটিরত থাকবেন, এ সময় তারা অত্র এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং তাদের মদত দাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

এ সময় কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিয়ে কাউকে হয়রানি না করার জন্য সিএমপি’র পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

এর আগে বর্তমান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার জনাব সালেহ মোহাম্মদ তানভীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন ,
চট্টগ্রামে ‘কিশোর গ্যাং’য়ের উৎপাত নিয়ে কোনো অভিযোগ পুলিশ পায়নি , তবুও পুলিশ এ নিয়ে সচেতন আছে।

তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাং শব্দ দুটোই ‘সেনসেটিভ’। কিশোররা খুব স্পর্শকাতর। দেশের আইন অনুযায়ী কিশোরদের শিশু হিসেবে ডিক্লায়ার করা আছে। কিশোরদের শিশুর মতো করে ট্রিট করতে হবে। তাকে প্রথমেই অপরাধী বলে ফেলা হলে সে অপরাধী হয়ে যাবে।”

কিশোর অপরাধীদের চেয়ে এদের পেছনে যারা আছে তারাই পুলিশের মূল লক্ষ্য বলে জানানতিনি।

তিনি আরো যোগ করেন, কিশোরদের মোটর সাইকেল কিংবা প্রাইভেটকার চালানো নিয়ে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

“আমরা চাই অ্যাডভেঞ্চারের নামে কোন শিশু-কিশোর যেন দুর্ঘটনায় না পড়ে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

“কিশোর গ্যাং” উৎখাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সিএমপির

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০

নিজস্ব সংবাদদাতা,
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় পদচারণা আছে এসব গ্রুপের সদস্যদের। ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং এবং মাদক বিক্রির মতো অপরাধেও তারা জড়িত। খুন-ধর্ষণের ঘটনাও ঘটাচ্ছে তারা। কিশোর গ্যাংয়ের কাছে দেশি অস্ত্রের ছড়াছড়ি। এমনকি অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে কোনো কোনো কিশোর গ্যাং সদস্যের হাতে। এদের অনেকেই রাজনৈতিক ছায়ায় অবস্থান করে। আবার কেউ কেউ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুচর হিসেবে কাজ করছে।

শহর-বন্দরে উঠতি বয়সের ছেলেরা একত্রিত হয়ে গ্যাং তৈরি করে নানা ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন নামে এলাকাভিত্তিক নতুন নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তুলেছে তারা।

পাড়া-মহল্লায় নারীদের উত্ত্যক্ত, কটূক্তি, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দেখানোসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক সেবন ছাড়াও নানা তুচ্ছ ঘটনায় গ্রুপে গ্রুপে চলছে হাতাহাতি-মারামারি। ঝুঁকিপূর্ণ বাইক ও কার রেসিং তাদের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ব্যতিক্রম নয় চট্টগ্রাম নগরীও । ইতিমধ্যে নগরীতে কিশোর গ্যাং এর দ্বারা বেশকিছু অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তাই,তাদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

সিএমপি সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩রা অক্টোবর ,২০২০ (শনিবার) বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত নগরীর ১৭ টি থানার ১৪৫ জন বিট অফিসার তাদের নির্ধারিত বিটে ডিউটিরত থাকবেন, এ সময় তারা অত্র এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং তাদের মদত দাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

এ সময় কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিয়ে কাউকে হয়রানি না করার জন্য সিএমপি’র পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

এর আগে বর্তমান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার জনাব সালেহ মোহাম্মদ তানভীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন ,
চট্টগ্রামে ‘কিশোর গ্যাং’য়ের উৎপাত নিয়ে কোনো অভিযোগ পুলিশ পায়নি , তবুও পুলিশ এ নিয়ে সচেতন আছে।

তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাং শব্দ দুটোই ‘সেনসেটিভ’। কিশোররা খুব স্পর্শকাতর। দেশের আইন অনুযায়ী কিশোরদের শিশু হিসেবে ডিক্লায়ার করা আছে। কিশোরদের শিশুর মতো করে ট্রিট করতে হবে। তাকে প্রথমেই অপরাধী বলে ফেলা হলে সে অপরাধী হয়ে যাবে।”

কিশোর অপরাধীদের চেয়ে এদের পেছনে যারা আছে তারাই পুলিশের মূল লক্ষ্য বলে জানানতিনি।

তিনি আরো যোগ করেন, কিশোরদের মোটর সাইকেল কিংবা প্রাইভেটকার চালানো নিয়ে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

“আমরা চাই অ্যাডভেঞ্চারের নামে কোন শিশু-কিশোর যেন দুর্ঘটনায় না পড়ে।”