খুলশীতে ২০০ মানুষের জামাত, ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশের হানা মসজিদে-মাজারে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ ৩৭১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুল করিম, চট্টগ্রামঃ
পবিত্র শবেবরাতের রাতে বিশেষ ইবাদতের জন্য অতিরিক্ত মুসল্লির সমাগম ঘটে চট্টগ্রাম নগরীর মসজিদগুলোতে। এবার করোনা নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব মসজিদে সমাগম হতে দেওয়া হচ্ছে না। নগরের মসজিদে মসজিদে নজরদারি করলেন ম্যাজিস্ট্রেটরা।জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের পাশাপাশি মাজারগুলোতেও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা হানা দিয়েছেন। এতে সহযোগিতা দেয় চট্টগ্রাম নগর পুলিশ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মুসলমানদের জন্য পবিত্র রজনী শবেবরাতের নামাজ ঘরে বসে আদায় করতে বলা হয়েছে। মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ নিয়মিত ওয়াক্তের নামাজে ৫ জন মসজিদে হাজির থাকতে পারবেন। জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন হাজির থাকতে পারবেন।জনসমাগম ঘটিয়ে মুচলেকা দেন জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সোলায়মান এফসিএ।জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ, আমানত শাহ মাজার, গরীবুল্লাহ শাহ মাজার, শাহ সুফি সৈয়দ বদনা শাহ মিয়া মাজারসহ খুলশী, লালখান বাজার, চান্দগাঁও, পাচলাইশ, চকবাজার, নাসিরাবাদ এলাকার মসজিদগুলো পরিদর্শন করেন।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সব মাজার ও মসজিদ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আতুরার ডিপো এলাকায় একটি ঘরে জমায়েত হয়ে নামাজ পড়ছিল কিছু লোক। এটি বড়ই ঝুঁকির কাজ।

করোনাভাইরাস মহামারিতে জমায়েত হওয়া বড়ই বিপদের। আমরা এটা বোঝানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।আমানত শাহ মাজার এলাকায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সিএমপির এডিসি (উত্তর) এবং কোতোয়ালী থানার ওসির নেতৃত্বে সিএমপির বিশেষ টিম কাজ করছে।এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, মাজারে যেন লোকজন জমায়েত হতে না পারে সে জন্য ভক্তদের বুঝিয়েছি। কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ। কারণ বর্তমান সময়ে কঠিন ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম।নগরের মসজিদে মসজিদে ম্যাজিস্ট্রেটের হানা
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার আসরের সময় পশ্চিম খুলশীর জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি মসজিদ থেকে মানুষ নামাজ আদায় করে বের হতে দেখা যায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে দুই শতাধিক মানুষের সমাগম ঘটিয়ে সেখানে জামায়াতে নামাজ আদায় হচ্ছিল বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকার করেন মসজিদের ইমাম মো. ফরহাদ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আদেশ অমান্য করার জন্য জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সোলায়মান এফসিএ এবং ইমাম মো. ফরহাদ মুচলেকা দেন।

আমানত শাহ মাজারের মোতোয়াল্লী শওকত আলী খান শাহীন বলেন, মাজারে মানুষ যেন না আসে সে জন্য কমিটির পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পুলিশ এবং প্রশাসনের বিশেষ তদারকি ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খুলশীতে ২০০ মানুষের জামাত, ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশের হানা মসজিদে-মাজারে

আপডেট সময় : ০৬:২০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

আব্দুল করিম, চট্টগ্রামঃ
পবিত্র শবেবরাতের রাতে বিশেষ ইবাদতের জন্য অতিরিক্ত মুসল্লির সমাগম ঘটে চট্টগ্রাম নগরীর মসজিদগুলোতে। এবার করোনা নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব মসজিদে সমাগম হতে দেওয়া হচ্ছে না। নগরের মসজিদে মসজিদে নজরদারি করলেন ম্যাজিস্ট্রেটরা।জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের পাশাপাশি মাজারগুলোতেও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা হানা দিয়েছেন। এতে সহযোগিতা দেয় চট্টগ্রাম নগর পুলিশ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মুসলমানদের জন্য পবিত্র রজনী শবেবরাতের নামাজ ঘরে বসে আদায় করতে বলা হয়েছে। মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ নিয়মিত ওয়াক্তের নামাজে ৫ জন মসজিদে হাজির থাকতে পারবেন। জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন হাজির থাকতে পারবেন।জনসমাগম ঘটিয়ে মুচলেকা দেন জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সোলায়মান এফসিএ।জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ, আমানত শাহ মাজার, গরীবুল্লাহ শাহ মাজার, শাহ সুফি সৈয়দ বদনা শাহ মিয়া মাজারসহ খুলশী, লালখান বাজার, চান্দগাঁও, পাচলাইশ, চকবাজার, নাসিরাবাদ এলাকার মসজিদগুলো পরিদর্শন করেন।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সব মাজার ও মসজিদ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আতুরার ডিপো এলাকায় একটি ঘরে জমায়েত হয়ে নামাজ পড়ছিল কিছু লোক। এটি বড়ই ঝুঁকির কাজ।

করোনাভাইরাস মহামারিতে জমায়েত হওয়া বড়ই বিপদের। আমরা এটা বোঝানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।আমানত শাহ মাজার এলাকায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সিএমপির এডিসি (উত্তর) এবং কোতোয়ালী থানার ওসির নেতৃত্বে সিএমপির বিশেষ টিম কাজ করছে।এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, মাজারে যেন লোকজন জমায়েত হতে না পারে সে জন্য ভক্তদের বুঝিয়েছি। কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ। কারণ বর্তমান সময়ে কঠিন ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম।নগরের মসজিদে মসজিদে ম্যাজিস্ট্রেটের হানা
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার আসরের সময় পশ্চিম খুলশীর জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি মসজিদ থেকে মানুষ নামাজ আদায় করে বের হতে দেখা যায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে দুই শতাধিক মানুষের সমাগম ঘটিয়ে সেখানে জামায়াতে নামাজ আদায় হচ্ছিল বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকার করেন মসজিদের ইমাম মো. ফরহাদ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আদেশ অমান্য করার জন্য জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সোলায়মান এফসিএ এবং ইমাম মো. ফরহাদ মুচলেকা দেন।

আমানত শাহ মাজারের মোতোয়াল্লী শওকত আলী খান শাহীন বলেন, মাজারে মানুষ যেন না আসে সে জন্য কমিটির পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পুলিশ এবং প্রশাসনের বিশেষ তদারকি ছিল।