“খোদায়ী খুশির কুহুতান”- সিয়াম আহমেদ রাকিব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ ৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খোদায়ী খুশির কুহুতান
<================>

“রমজান এলো আবার
ঐশী খুশির খুশবু নিয়ে
শুষ্ক হৃদয় সতেজ হবে
খোদায়ী প্রেমের সুধা পিয়ে”

বছর ঘুরে আবার এলো, শান্তি সুখের নূরী আলো,
হেদায়েতের এলান নিয়ে,খোদা প্রেমের সুধা নিয়ে, পাষাণ হৃদয়ে ফুল ফোটাতে, পাপীর চোখে অশ্রু ঝড়াতে আসলো আবার মাহে রমজান।

রহমত, নাজাত আর মাগফেরাত, এ যেন রহমতের বারিধারা, স্রষ্টা হতে সৃষ্টির জন্য অমূল্য উপহার, প্রেম প্রেয়সীর প্রেমের সমাহার, গুনাগারের জন্য জান্নাতের সুমধুর নাহার, রহমতে এলাহীর দয়ার বাহার। গুনাহের ওজন কমিয়ে নেক আমলের পাল্লা ভারি করার এটাই মোক্ষম সময়। যে সারা বছর নামায পড়ে না এমন ব্যক্তি ও রমজান মাসে একদিন বা এক ওয়াক্তের জন্য হলেও নামায পড়তে আসে।এটাই রমজান মাসের বিশেষত্ব।

“পাষাণ অন্তর ও গাহে খোদা প্রেমের জয়গান
সুর তুলিল সবে আহলান সাহলান মাহে রামাদান
মুত্তাকীদের দলে যেথে রাখবো ৩০ রোজা
ইবাদত আর নেক আমলে করবো ঈমান তাজা”

রমজান সম্পর্কে আল কোরআনে বলা হয়েছে- হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্যে সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।

(সূরা বাকারা-২:১৮৩)

এ যেন মুত্তাকী( আল্লাহ ভীরু) হওয়ার অনন্য সুযোগ,রবের কাছে পৌছানোর জন্য রবের পক্ষ থেকেই উপহার, কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন যে রমজান আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দিবো।

মানুষের প্রত্যেকটি আমল বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় এ (রমজান) মাসে। একটি নেকী ১০ গুণ থেকে (ক্ষেত্র বিশেষে) ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: কিন্তু রোজার ব্যাপারটি ভিন্ন। কারণ রোজা আমার জন্য। সুতরাং তার প্রতিদান আমি নিজেই প্রদান করব।
(বুখারি, হাদিস : ১৮৯৪)

রমজান সম্পর্কে হাদিস শরীফে আরও বলা আছে-

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)

অপর হাদিসে এসেছে, হযরত সাহ্ল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।
(বুখারী, মুসলিম)

আমাদের এত কষ্টগুলো তুষ্ট হয়ে সহ্যের কারণ তো একটাই, তা হলো একদিন জান্নাতে যাবো,সুখের সান্নিধ্য পাবো,রবের সাথে মিলবো, স্রষ্টাকে দেখার খুশিতে বাসবো। রোজা না রেখে যদি আমরা সে পথ বন্ধ করে দেই তাহলে সব কষ্টই তো বৃথা।

এই রমজান দোয়ার সময়,রাসুল (সা.) বলেছেন দোয়া ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদতের মগজ। (তিরমিজি, হাদিস নং: ৩২৯৩)
তিনি আরো বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত।
(তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৩৭০)

আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগলা রামাদান।
আল্লাহ আমাদের সম্পূর্ণ রোজা রাখার তাউফিক দান করুক আমিন।

_সিয়াম আহমেদ রাকিব
১৩ এপ্রিল ২০০০ একুশ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

“খোদায়ী খুশির কুহুতান”- সিয়াম আহমেদ রাকিব

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১

খোদায়ী খুশির কুহুতান
<================>

“রমজান এলো আবার
ঐশী খুশির খুশবু নিয়ে
শুষ্ক হৃদয় সতেজ হবে
খোদায়ী প্রেমের সুধা পিয়ে”

বছর ঘুরে আবার এলো, শান্তি সুখের নূরী আলো,
হেদায়েতের এলান নিয়ে,খোদা প্রেমের সুধা নিয়ে, পাষাণ হৃদয়ে ফুল ফোটাতে, পাপীর চোখে অশ্রু ঝড়াতে আসলো আবার মাহে রমজান।

রহমত, নাজাত আর মাগফেরাত, এ যেন রহমতের বারিধারা, স্রষ্টা হতে সৃষ্টির জন্য অমূল্য উপহার, প্রেম প্রেয়সীর প্রেমের সমাহার, গুনাগারের জন্য জান্নাতের সুমধুর নাহার, রহমতে এলাহীর দয়ার বাহার। গুনাহের ওজন কমিয়ে নেক আমলের পাল্লা ভারি করার এটাই মোক্ষম সময়। যে সারা বছর নামায পড়ে না এমন ব্যক্তি ও রমজান মাসে একদিন বা এক ওয়াক্তের জন্য হলেও নামায পড়তে আসে।এটাই রমজান মাসের বিশেষত্ব।

“পাষাণ অন্তর ও গাহে খোদা প্রেমের জয়গান
সুর তুলিল সবে আহলান সাহলান মাহে রামাদান
মুত্তাকীদের দলে যেথে রাখবো ৩০ রোজা
ইবাদত আর নেক আমলে করবো ঈমান তাজা”

রমজান সম্পর্কে আল কোরআনে বলা হয়েছে- হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্যে সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।

(সূরা বাকারা-২:১৮৩)

এ যেন মুত্তাকী( আল্লাহ ভীরু) হওয়ার অনন্য সুযোগ,রবের কাছে পৌছানোর জন্য রবের পক্ষ থেকেই উপহার, কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন যে রমজান আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দিবো।

মানুষের প্রত্যেকটি আমল বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় এ (রমজান) মাসে। একটি নেকী ১০ গুণ থেকে (ক্ষেত্র বিশেষে) ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: কিন্তু রোজার ব্যাপারটি ভিন্ন। কারণ রোজা আমার জন্য। সুতরাং তার প্রতিদান আমি নিজেই প্রদান করব।
(বুখারি, হাদিস : ১৮৯৪)

রমজান সম্পর্কে হাদিস শরীফে আরও বলা আছে-

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)

অপর হাদিসে এসেছে, হযরত সাহ্ল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।
(বুখারী, মুসলিম)

আমাদের এত কষ্টগুলো তুষ্ট হয়ে সহ্যের কারণ তো একটাই, তা হলো একদিন জান্নাতে যাবো,সুখের সান্নিধ্য পাবো,রবের সাথে মিলবো, স্রষ্টাকে দেখার খুশিতে বাসবো। রোজা না রেখে যদি আমরা সে পথ বন্ধ করে দেই তাহলে সব কষ্টই তো বৃথা।

এই রমজান দোয়ার সময়,রাসুল (সা.) বলেছেন দোয়া ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদতের মগজ। (তিরমিজি, হাদিস নং: ৩২৯৩)
তিনি আরো বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত।
(তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৩৭০)

আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগলা রামাদান।
আল্লাহ আমাদের সম্পূর্ণ রোজা রাখার তাউফিক দান করুক আমিন।

_সিয়াম আহমেদ রাকিব
১৩ এপ্রিল ২০০০ একুশ