গ্যাস্ট্রিক-কে জানান চিরতরে বিদায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২০ ৭০৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন ডেস্কঃ
গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা কম বেশি প্রায় সকলের হয়ে থাকে। স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া, খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম সহ বিভিন্ন কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে, পানি কম খেলে বা খাবারে আঁশের পরিমাণ কম থাকলেও পেটে গ্যাস তৈরি হতে পারে। প্রথমদিকেই সচেতন না হলে পরবর্তীতে আলসার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকিছু খাবার আছে যেগুলো খুব সহজেই আপনার গ্যাস্ট্রিক দূর করতে সাহায্য করবে। সম্মানিত সুধি চলুন তাহলে জেনে নিই খাবারগুলি সম্পর্কে-

আদা:- আদা সবচাইতে কার্যকরী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। আদা গ্যাসের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া, হজমে সমস্যা এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা দ্রুত সমাধানে সক্ষম। পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হলে কাঁচা আদা কুচি করে লবণ দিয়ে খান, দেখবেন গ্যাসের সমস্যার দ্রুত সমাধান পাবেন।
দই:- দইয়ে ল্যাকটোব্যাকিলাস, অ্যাসিডোফিলাস ও বিফিডাসের মতো নানা ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই সকল উপকারী ব্যাকটেরিয়া দ্রুত খাবার হজমে সাহায্য করে সেই সাথে খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। তাই দই খেলে হজম ভালো হয়, গ্যাস কমে। এই জন্যই খাবারের পর দই খাওয়া বেশ কার্যকর।

শসা:- শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে বেশ কার্যকরী একটি খাবার। কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। কারণ এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়। তাছাড়া এতে প্রচুর সিলিকা ও ভিটামিন সি আছে, যাঁরা দেহের ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
পেঁপে:- পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলে গ্যাসের সমস্যা কমে।

আনারস:- আনারসে রয়েছে ৮৫ শতাংশ পানি এবং ব্রোমেলিন নামক হজমে সাহায্যকারী প্রাকৃতিক এনজাইম যা অত্যন্ত কার্যকরী একটি পাচক রস। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। তাছাড়া আনারস ত্বকের জন্যও উপকারী।

হলুদ:- হজমসংক্রান্ত সব ধরনের সমস্যা সমাধানে হলুদ দারুণ কার্যকর। এটি চর্বিজাতীয় খাবার হজমে ভূমিকা রাখে। তাছাড়া হলুদে প্রদাহনাশক উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমায়।

কলা:- যাঁরা বেশি করে লবণ খান, তাদের গ্যাস ও হজমে সমস্যা হতে পারে। কলায় যে পটাশিয়াম থাকে, তাতে শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে। কলা হজমে সাহায্য করে। দেহ থেকে দূষিত পদার্থ দূর করে দেয়।

পানি:- পানি পানের সুফলের কথা সবাই জানেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই গ্লাস করে পানি পান করবেন, দেখবেন সারাদিন আর গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণা সইতে হবেনা। কারণ পানি হজম শক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। তাছাড়া পানি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতেও কাজ করে।

পরিশেষে বলব, গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া খুব বেশি কঠিন কিছু নয়। শুধু একটু নজর রাখতে হবে নিজের খাওয়া-দাওয়ার প্রতি। এখানে উল্লেখিত খবার গুলি নিয়মিত খাওয়া শুরু করুন তাহলে দেখবেন আপনাকে আর গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগতে হবেনা। মুক্তি পাবেন গ্যাস্ট্রিকের ক্ষতিকর ট্যাবলেটের হাত থেকেও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গ্যাস্ট্রিক-কে জানান চিরতরে বিদায়

আপডেট সময় : ১১:৩০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২০

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন ডেস্কঃ
গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা কম বেশি প্রায় সকলের হয়ে থাকে। স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া, খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম সহ বিভিন্ন কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে, পানি কম খেলে বা খাবারে আঁশের পরিমাণ কম থাকলেও পেটে গ্যাস তৈরি হতে পারে। প্রথমদিকেই সচেতন না হলে পরবর্তীতে আলসার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকিছু খাবার আছে যেগুলো খুব সহজেই আপনার গ্যাস্ট্রিক দূর করতে সাহায্য করবে। সম্মানিত সুধি চলুন তাহলে জেনে নিই খাবারগুলি সম্পর্কে-

আদা:- আদা সবচাইতে কার্যকরী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। আদা গ্যাসের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া, হজমে সমস্যা এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা দ্রুত সমাধানে সক্ষম। পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হলে কাঁচা আদা কুচি করে লবণ দিয়ে খান, দেখবেন গ্যাসের সমস্যার দ্রুত সমাধান পাবেন।
দই:- দইয়ে ল্যাকটোব্যাকিলাস, অ্যাসিডোফিলাস ও বিফিডাসের মতো নানা ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই সকল উপকারী ব্যাকটেরিয়া দ্রুত খাবার হজমে সাহায্য করে সেই সাথে খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। তাই দই খেলে হজম ভালো হয়, গ্যাস কমে। এই জন্যই খাবারের পর দই খাওয়া বেশ কার্যকর।

শসা:- শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে বেশ কার্যকরী একটি খাবার। কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। কারণ এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়। তাছাড়া এতে প্রচুর সিলিকা ও ভিটামিন সি আছে, যাঁরা দেহের ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
পেঁপে:- পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলে গ্যাসের সমস্যা কমে।

আনারস:- আনারসে রয়েছে ৮৫ শতাংশ পানি এবং ব্রোমেলিন নামক হজমে সাহায্যকারী প্রাকৃতিক এনজাইম যা অত্যন্ত কার্যকরী একটি পাচক রস। এটি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। তাছাড়া আনারস ত্বকের জন্যও উপকারী।

হলুদ:- হজমসংক্রান্ত সব ধরনের সমস্যা সমাধানে হলুদ দারুণ কার্যকর। এটি চর্বিজাতীয় খাবার হজমে ভূমিকা রাখে। তাছাড়া হলুদে প্রদাহনাশক উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমায়।

কলা:- যাঁরা বেশি করে লবণ খান, তাদের গ্যাস ও হজমে সমস্যা হতে পারে। কলায় যে পটাশিয়াম থাকে, তাতে শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে। কলা হজমে সাহায্য করে। দেহ থেকে দূষিত পদার্থ দূর করে দেয়।

পানি:- পানি পানের সুফলের কথা সবাই জানেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই গ্লাস করে পানি পান করবেন, দেখবেন সারাদিন আর গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণা সইতে হবেনা। কারণ পানি হজম শক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। তাছাড়া পানি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতেও কাজ করে।

পরিশেষে বলব, গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া খুব বেশি কঠিন কিছু নয়। শুধু একটু নজর রাখতে হবে নিজের খাওয়া-দাওয়ার প্রতি। এখানে উল্লেখিত খবার গুলি নিয়মিত খাওয়া শুরু করুন তাহলে দেখবেন আপনাকে আর গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগতে হবেনা। মুক্তি পাবেন গ্যাস্ট্রিকের ক্ষতিকর ট্যাবলেটের হাত থেকেও।