মোহাম্মদ জিপন উদ্দিন,
ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের হরিণাদিঘীর কৃতি সন্তান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপ-সচিব, বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার ডিএমডি (প্রশাসন) গোলাম হোসেন এর মা আলহাজ্ব আয়েশা খাতুন দীর্ঘদিন বার্ধক্য থাকার পর গত ৪এপ্রিল ২০২০ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি হাসপাতালে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭.৩০মিনিটে মৃত্যু বরণ করেন, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর।
আলহাজ্ব আশেয়া খাতুন ১৯৪০ সালে পাইন্দং এর একটি মুসলিম ঐতিহ্যবাহি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মরহুম ফজল আলী সওদাগরের দৌহিত্রী, মরহুম সুলতাম আহমদের কন্যা ও মরহুম নুরুল হক সওদাগরের সহধর্মিণী। তিনি একজন রত্নগর্ভা দানশীল গরীব দরদী ধার্মিক মহিলা ছিলেন। তিনি মৃত্যুকালে ৭ ছেলে ও ৩ জন মেয়ে, নাতিনাতনিসহ গুণীবাহি আত্নীয়স্বজন রেখে যান। তাঁর বড় ছেলে জনাব গোলাম হোসেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন উপ-সচিব, বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার ডিএমডি। মেঝ ছেলে লেখক ও সাহিত্যিক অধ্যাপক আবুল কাশেম, সেজ ছেলে গোলাম মাওলা, নজরুল, সিরাজ, সাহাদাত, ফারুক ও ৩ মেয়ে রোকেয়া বেগম, রুমা, শোমা এবং তাঁর পরিবারের প্রায় ৫০অধিক সদস্য আমেরিকায় শুনাম নিয়ে বসবাসরত আছেন, এছাড়াও তাঁর নাতিনাতনিরা আমেরিকার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, ডিগ্রী লাভ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত থেকে ফটিকছড়িসহ বাংলাদেশের সুনাম উজ্জ্বল রাখছে।
জনাব গোলাম হোসেন এর মায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন – চট্টগ্রাম ওয়সার এম.ডি প্রকৌশলী জনাব এ.কে.এম ফজলুল্লাহ, ওয়াসার প্রকৌশলী ও সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এসোসিয়েশন ৮২তম ব্যাচ, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের বিভিন্ন দপ্তররের কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রাম ল্যাবরেটরি স্কুলের পরিচালনা কমিটি শিক্ষক শিক্ষার্থী, হরিণাদিঘীর মাদ্রাসা সুপার, পরিচালনা কমিটিসহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, আমেরিকান চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি জিয়া উদ্দিনসহ সকল সদস্যরা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিচিতি ডাঃ ফেরদৌস, এ্যাটর্নী মঈন, আমেরিকার ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র ড. নীনা আহমেদ, আফার ডার্বি সিটির নির্বাচিত কাউন্সিলর ও আফার ডার্বি ইসলামীক সেন্টারের সভাপতি শেখ সিদ্দিক, নিউইয়র্কে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, চুয়েট এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাগ, মুসলিম ওম্মাহর অফ নর্থ আমেরিকার সভাপতি মওলানা দেলোয়ার, মুসলিম ওম্মাহর নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকার নেতৃবৃন্দ, শোক জানিয়েছন নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা, এছাড়াও পেন্সিলভেনীয় বসবাসরত ফটিকছড়ি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জনাব মোঃ শাহ্ আলম, নিউইয়র্কে বসবাসকারী অধ্যক্ষ জনাব রঞ্জিত, ইঞ্জিনিয়র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদিকুর রহমান, ডঃ শফিক সিদ্দিকী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জনাব নুরুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক নুরুল আমিন, লেখক ও গীতিকার অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন পাঠান, অধ্যাপক আব্দুল মালেক চৌধুরী, আরো শোক জানিয়েছে- মাসিক ফটিকছড়ি সংবাদের সম্পাদক আহম্মদ আলী, দৈনিক ফটিকছড়ি.কম এর নির্বাহী সম্পাদক সীরাত মঞ্জুর, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন, সংস্থা, কমিটি শোক জানিয়ে তাঁর আত্নার মাগফিরাত কামনা করেন।
জনাব গোলাম হোসেন এর ছোট ভাই শাহদাত হোসেন আমেরিকা থেকে আমাদের জানান-
আমার মা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত ছিল, মৃত্যুর ৩ মাস আগে তার পায়ের একটি অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অপারেশনের পরে তাকে নার্সিং হোমে দুই সপ্তাহ রাখা হয়, যেখানে তার সুস্থ হয়ে উঠার কথা ছিল, তখন এখানে় মহামারী (করোনা) ছিল না। তবে হঠাৎ মৃত্যুর ৪ দিন আগে ডাক্তার আমাদের জানিয়েছেন যে আমার মা খুব বেশি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থতা বোধ করছেন, তাই তারা সন্দেহ করেছিলেন যে তাঁর করোনভাইরাস থাকতে পারে, তার উপরে ভিত্তি করে একটি টেস্ট করা হয় এবং এটির রিপোর্ট পজেটিভ এসেছিল। আমরা একথা শুনে নির্বাক হয়ে গেলাম। আমরা তাঁকে শেষবারের মতো দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু করোনার ভাইরাসের কারণে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ আমাদের দেখার সুযোগ দেয়নি। আমরা আত্মীয়স্বজনসহ আমাদের পরিবারের প্রায় ৫০ অধিক সদস্য আমাদের মায়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি মারা যাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কারোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে কাউকেও তার সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। অতপর আমার মা ৪এপ্রিল ২০২০ শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সেই হাসপাতালেই মৃত্যু বরণ করেন। পরে তাঁকে আমরা দেশে নিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করলেও রাষ্ট্রীয় বিধি নিষেধ ও দেশের পরিস্থিতির কথা ভেবে সেটা আর করা হয়নি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল আমার মাকে আমাদের গ্রামের বাড়ি তথা ফটিকছড়ি যেখানে আমাদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে, সেখানে নিয়ে যাব এবং সেখানে তাকে দাফন করবো, সেটি আর হয়নি। পরিস্থিতির কারণে পরে উনার জামাতা মাওলানা নরুল আলম নিজামীর ইমামতিতে জানাজার মাধ্যমে তাঁকে নিউ জার্সির মালবারো মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হয়, জানাজায় অংশ নেন মরহুমার ছেলে- অধ্যাপক আবুল কাশেম, সাহাদাত হোসেন, দৌহিত্র দিহানসহ আরো কয়েকজন। অন্যদিক দেশ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জানাজায় অংশ নেন বড় ছেলে জনাব গোলাম হোসেনসহ তার পরিবারের সদস্য ও অনেক আত্নীয়স্বজন, মরহুমার গ্রামের বাড়ি হরিণাদিঘী বায়তুন নূর জামে মসজিদেও হরিণাদিঘী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শামসুদ্দিনের ইমামতিতে একটি গায়েবানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জনাব গোলাম হোসেন বলেন- যে সকল ব্যক্তিগণ, সংগঠন ও সংস্থা আমার মায়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, সকলে আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন, যেন তিনি জান্নাতের বাসিন্দা হন। আমিন!