এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
দেশের নিরাপত্তার কোনও বালাই নেই। মানুষের ছদ্মবেশে কিছু অমানুষ এই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসবাস করছে। সুযোগ পেলেই তারা বিভিন্ন দুঃসাহসীক অপরাধ করে যাচ্ছে। কিছু কিছু ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে এই দেশ মাতৃকায় বসবাস করা সহজ সরল মানুষগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছে। কোন মানুষের সেকেন্ডের নেই কোন গ্যারান্টি। বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িতদেরকে রাষ্ট্র বা প্রশাসন কঠোর শাস্তি দিয়ে আসলেও কিছুতেই দমানো যাচ্ছে না।আর নিত্য খুন,গুম, হত্যারসহ সমাজ বা রাষ্ট্রদ্রোহী কাজগুলি এই দেশের মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ঘটনার মতো এক অবিচ্ছেদ্য ঘটনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত কয়েকদিন আগে অভিমান করে চট্টগ্রামের এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় চলে গিয়েছিল চম্পা (১৯)। গতকাল সে চট্টগ্রাম থেকে নিজ বাড়িতে ফিরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে চকরিয়া পর্যন্ত পৌঁছে। ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। এ সময় নিহত চম্পা চকরিয়া থেকে কক্সবাজার খরুলিয়ার নিজ বাড়িতে আসার জন্য কোন যানবাহন না পেয়ে একটি সিএনজিতে উঠে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা তাকে কৌশলে ভুল পথে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যায়।
মানুষের মাধ্যমে খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ
উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুরুংঘোনা এলাকা থেকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে একটি যুবতীর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া মডেল থানার ওসি মোঃ হাবিবুর রহমান।
ওসি মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উল্লেখিত স্থানে এক যুবতীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন ফোন করে চকরিয়া মডেল থানায় অবহিত করে। পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে ওসি মোঃ হাবিবুর রহমান সহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করেন। ঘটনার খবর পেয়ে যুবতীর পিতা কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়ার রহুল আমিন উদ্ধারস্থলে গিয়ে তার কন্যার লাশটি সনাক্ত করেন।
পুলিশকে দেওয়া রুহুল আমিনের ভাষ্য মতে, চট্টগ্রাম থেকে তার কন্যা নিহত চম্পা চকরিয়া জনতাবাজার (গরুবাজার) বাস স্টেন্ড পর্যন্ত আসে। সেখান থেকে উপকুলীয় সড়ক দিকে কক্সবাজারে আসার জন্য একটি সিএনজি-তে উঠে। সন্ধ্যার দিকে পিতার সাথে নিহত চম্পার মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপকূলীয় রোডের কোনাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুরুংঘোনা এলাকায় স্থানীয় লোকজন রাস্তায় পড়ে থাকা চম্পার লাশটি দেখতে পায়।
চকরিয়া মডেল থানার ওসি মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, যুবতী চম্পা’র লাশটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। লাশটি উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে চকরিয়া মডেল থানা ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়েছে। থানায় নিহত তরুনী চম্পা’র পিতা-মাতা ও স্বজনেরা রয়েছে।
চম্পা হত্যার ক্লু বের করে আসামীদের আইনের আওতায় আনার জন্য রাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান চকরিয়া মডেল থানার ওসি মোঃ হাবিবুর রহমান।