চট্টগ্রাম নগরীতে অঘোষিত গণপরিবহন ধর্মঘট, জনসাধারণের ভোগান্তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ ১২২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুল করিম চট্টগ্রাম মহানগর:
চট্রগ্রাম নগরীর প্রায় সব সড়কের গণপরিবহন আজ সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে বন্ধ রেখেছে বাস মালিক ও শ্রমিকরা। যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে জনসাধারণের। কোনো রকম বাস চলাচল না করার সুযোগে কমে গেছে টেম্পু চলাচলও, সাথে চড়া দাম হাকছে ট্যাক্সি ড্রাইভাররা। বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান, এটা কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, মালিকরা নিজেদের গাড়ি বের করতে দেয়নি। যার কারণে এ ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নগরীর সড়কগুলোতে বাস চলাচল না করলেও হাতে গোনা কয়েকটি টেম্পু চলাচল করতে দেখা গেছে। যার কারণে সকাল থেকে ভোগান্তিতে পড়েছে অফিস, স্কুল-কলেজগামীসহ সকল কর্মব্যস্ত জনসাধারণ। অনেকে পায়ে হেঁটে বা রিকশা নিয়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছেছে।

জানা যায়, রবিবার (২০ অক্টোবর) নগরীর ১০নম্বর রুটের চট্টমেট্রো জ ১১-০৪১১ নম্বরের একটি বাস কালুরঘাট পর্যন্ত না গিয়ে চান্দগাঁও থানার সামনে থেকে ঘুরিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট এলাকায় না যাওয়ার কারণে বহদ্দারহাট মোড় থেকে বাসটি আটক করে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমান আদালত। আটক করার পর দেখা যায়, বাসটির পিছনের কাঁচটি প্রায় পুরোটাই ভাঙা।

যাত্রীদেরকে বাসের পেছনের অবস্থা দেখানো হলে তারাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং চালক-মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আদালতের কাছে। পরে বাসটির মালিককে মোবাইল কোর্টে হাজির করে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ বাস রাস্তায় কেন নামানো হয়েছে জিজ্ঞাসা করা হলে মালিক ও চালক কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। ফলে ফিটনেসবিহীন বাস রাস্তায় চালিয়ে ও চালাতে দিয়ে যাত্রীদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলার অপরাধে বাসের মালিক মো. মনির হোসেনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে এবং চালক মো. শামীম উদ্দিন ও হেলপার মো. আলমগীরকে ১ মাস করে কারাদণ্ড দেয়। এর কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে নগরীর বাস মালিক ও শ্রমিকরা আজ সোমবার কোনো প্রকার বাস নামতে দেয়নি। মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত তারা নেয়। যার কারণে সকাল থেকে কোনো বাস বের করতে পারেনি চালকেরা।

চট্টগ্রাম সড়ক মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান, আমরা চেষ্টা করছি বিকালের আগে বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে। মালিকদের সাথে আলাপ করে আমরা এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্টগ্রাম নগরীতে অঘোষিত গণপরিবহন ধর্মঘট, জনসাধারণের ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৫:২০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

আব্দুল করিম চট্টগ্রাম মহানগর:
চট্রগ্রাম নগরীর প্রায় সব সড়কের গণপরিবহন আজ সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে বন্ধ রেখেছে বাস মালিক ও শ্রমিকরা। যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে জনসাধারণের। কোনো রকম বাস চলাচল না করার সুযোগে কমে গেছে টেম্পু চলাচলও, সাথে চড়া দাম হাকছে ট্যাক্সি ড্রাইভাররা। বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান, এটা কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, মালিকরা নিজেদের গাড়ি বের করতে দেয়নি। যার কারণে এ ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নগরীর সড়কগুলোতে বাস চলাচল না করলেও হাতে গোনা কয়েকটি টেম্পু চলাচল করতে দেখা গেছে। যার কারণে সকাল থেকে ভোগান্তিতে পড়েছে অফিস, স্কুল-কলেজগামীসহ সকল কর্মব্যস্ত জনসাধারণ। অনেকে পায়ে হেঁটে বা রিকশা নিয়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছেছে।

জানা যায়, রবিবার (২০ অক্টোবর) নগরীর ১০নম্বর রুটের চট্টমেট্রো জ ১১-০৪১১ নম্বরের একটি বাস কালুরঘাট পর্যন্ত না গিয়ে চান্দগাঁও থানার সামনে থেকে ঘুরিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট এলাকায় না যাওয়ার কারণে বহদ্দারহাট মোড় থেকে বাসটি আটক করে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমান আদালত। আটক করার পর দেখা যায়, বাসটির পিছনের কাঁচটি প্রায় পুরোটাই ভাঙা।

যাত্রীদেরকে বাসের পেছনের অবস্থা দেখানো হলে তারাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং চালক-মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আদালতের কাছে। পরে বাসটির মালিককে মোবাইল কোর্টে হাজির করে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ বাস রাস্তায় কেন নামানো হয়েছে জিজ্ঞাসা করা হলে মালিক ও চালক কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। ফলে ফিটনেসবিহীন বাস রাস্তায় চালিয়ে ও চালাতে দিয়ে যাত্রীদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলার অপরাধে বাসের মালিক মো. মনির হোসেনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে এবং চালক মো. শামীম উদ্দিন ও হেলপার মো. আলমগীরকে ১ মাস করে কারাদণ্ড দেয়। এর কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে নগরীর বাস মালিক ও শ্রমিকরা আজ সোমবার কোনো প্রকার বাস নামতে দেয়নি। মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত তারা নেয়। যার কারণে সকাল থেকে কোনো বাস বের করতে পারেনি চালকেরা।

চট্টগ্রাম সড়ক মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান, আমরা চেষ্টা করছি বিকালের আগে বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে। মালিকদের সাথে আলাপ করে আমরা এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হবে বলেও জানান তিনি।