চট্টগ্রাম মেডিকেলে নাসির ও নওফেল গ্রুপের কর্মিদের সংঘর্ষ, আহত ১৯

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ ৫৬২ বার পড়া হয়েছে

Chattogram Tribune - চট্টগ্রাম ট্রিবিউন

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব সংবাদদাতা,
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলের সফরকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ। রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে এ সংঘর্ষে পুলিশ চার পুলিশ সদস্যসহ ১৯ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সকাল এগারোটায় আওয়ামী লীগের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সাথে স্বাক্ষাত করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান নওফেল। মেডিকেল কলেজে দুটি হাই ফ্লো নজেল ক্যানেলা হস্তান্তর করতে তারা সেখানে যান।

এসময় হাসপাতালের পরিচালকের রুমে চমেকের অধ্যক্ষ ডা. শামীম আহসান, উপাধক্ষ্য ডাঃ নাসির উদ্দিন মাহমুদ, এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চু, ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ ওসমান গণি, সাধারন সম্পাদক ডাঃ তাজওয়ার রহমান, চমেকসু’র জিএস এম এ আউয়াল রাফি উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষাত শেষে বের হয়ে উপমন্ত্রী গাড়িতে উঠার পরপরই নওফেল ও নাসিরের অনুসারীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস এম এ আউয়াল রাফি জানান, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেলকে আমরা ক্যাম্পাসে স্বাগত জানিয়েছি। উনি পরিচালকের রুমে থাকার সময় তার সাথে এমইএস কলেজের সাবেক জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চু উপস্থিত থাকলেও বহিরাগত কেউ ছিল। কিন্তু পরিচালকের রুমের গেটে বহিরাগতরা অবস্থান নেয়। উপমন্ত্রী মহোদয় ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পরপরই বহিরাগতরা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। হামলা ৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালের ২৫ নং ওয়ার্ডে, ১ জন ১৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ‘

রাফির অভিযোগ, বহিরাগতরাই সংঘর্ষের জন্য দায়ী।

অন্যদিকে, নিজেকে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারী হিসেবে দাবি করে মেডিকেল কলেজের ৩ য বর্ষের ছাত্র হোজাইফা বিন কবির বলেন, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের অবৈধ কমিটি কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমরা উপমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে এসব বিষয় উপস্থাপন করতে গিয়ে রোষানলের শিকার হয়েছি। হামলায় আমিসহ ৮ জন আহত হয়েছি। কিন্তু পুলিশ নিরব ভুমিকা পালন করেছে। ‘

তিনি জানান, সংঘর্ষে খোরশেদ বিন মেহেদী (৩য় বর্ষ)অভিজিত দাস, প্রণব দেব নাথ, (৩য় বর্ষ) ফাহাদুল ইসলাম (৩য় বর্ষ) ইমন শিকাদার, সাজেদুল ইসলাম (২য় বর্ষ) মিনহাজ রহমান (২য় বর্ষ) আহত হয়েছেন । আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি,এমইএস কলেজের সাবেক জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানান, উপমন্ত্রী হাসপাতাল পরিচালকের সাথে দেখা করে বের হবার পর দুই পক্ষ শ্লোগান দিতে থাকে। শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের গাড়ি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ত্যাগ করার পরপরই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ৷ এসময় পুলিশের চার সদস্যও আহত হয়। ‘

নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা দেবার জন্য শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল ও আমি পরিচালকের সাথে দেখা করি। এসময় কোন ধরনের উত্তেজনাও দেখিনি কারো মধ্যে। আমরা আসার পরে দলের ছেলেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে। আমাদের সাথে ছাত্রলীগের কেউ মেডিকেল কলেজে যায় নি। ‘

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্টগ্রাম মেডিকেলে নাসির ও নওফেল গ্রুপের কর্মিদের সংঘর্ষ, আহত ১৯

আপডেট সময় : ০৪:০২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০

নিজস্ব সংবাদদাতা,
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলের সফরকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ। রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে এ সংঘর্ষে পুলিশ চার পুলিশ সদস্যসহ ১৯ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সকাল এগারোটায় আওয়ামী লীগের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সাথে স্বাক্ষাত করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান নওফেল। মেডিকেল কলেজে দুটি হাই ফ্লো নজেল ক্যানেলা হস্তান্তর করতে তারা সেখানে যান।

এসময় হাসপাতালের পরিচালকের রুমে চমেকের অধ্যক্ষ ডা. শামীম আহসান, উপাধক্ষ্য ডাঃ নাসির উদ্দিন মাহমুদ, এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চু, ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ ওসমান গণি, সাধারন সম্পাদক ডাঃ তাজওয়ার রহমান, চমেকসু’র জিএস এম এ আউয়াল রাফি উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষাত শেষে বের হয়ে উপমন্ত্রী গাড়িতে উঠার পরপরই নওফেল ও নাসিরের অনুসারীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস এম এ আউয়াল রাফি জানান, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেলকে আমরা ক্যাম্পাসে স্বাগত জানিয়েছি। উনি পরিচালকের রুমে থাকার সময় তার সাথে এমইএস কলেজের সাবেক জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চু উপস্থিত থাকলেও বহিরাগত কেউ ছিল। কিন্তু পরিচালকের রুমের গেটে বহিরাগতরা অবস্থান নেয়। উপমন্ত্রী মহোদয় ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পরপরই বহিরাগতরা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। হামলা ৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালের ২৫ নং ওয়ার্ডে, ১ জন ১৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ‘

রাফির অভিযোগ, বহিরাগতরাই সংঘর্ষের জন্য দায়ী।

অন্যদিকে, নিজেকে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারী হিসেবে দাবি করে মেডিকেল কলেজের ৩ য বর্ষের ছাত্র হোজাইফা বিন কবির বলেন, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের অবৈধ কমিটি কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমরা উপমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে এসব বিষয় উপস্থাপন করতে গিয়ে রোষানলের শিকার হয়েছি। হামলায় আমিসহ ৮ জন আহত হয়েছি। কিন্তু পুলিশ নিরব ভুমিকা পালন করেছে। ‘

তিনি জানান, সংঘর্ষে খোরশেদ বিন মেহেদী (৩য় বর্ষ)অভিজিত দাস, প্রণব দেব নাথ, (৩য় বর্ষ) ফাহাদুল ইসলাম (৩য় বর্ষ) ইমন শিকাদার, সাজেদুল ইসলাম (২য় বর্ষ) মিনহাজ রহমান (২য় বর্ষ) আহত হয়েছেন । আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি,এমইএস কলেজের সাবেক জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানান, উপমন্ত্রী হাসপাতাল পরিচালকের সাথে দেখা করে বের হবার পর দুই পক্ষ শ্লোগান দিতে থাকে। শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের গাড়ি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ত্যাগ করার পরপরই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ৷ এসময় পুলিশের চার সদস্যও আহত হয়। ‘

নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা দেবার জন্য শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল ও আমি পরিচালকের সাথে দেখা করি। এসময় কোন ধরনের উত্তেজনাও দেখিনি কারো মধ্যে। আমরা আসার পরে দলের ছেলেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে। আমাদের সাথে ছাত্রলীগের কেউ মেডিকেল কলেজে যায় নি। ‘