চট্রগ্রামে থমকে গেছে ওয়াসার পাইপ লাইন বসানোর কাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২০ ১৫২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুল করিম, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে সড়কে ওয়াসার পাইপলাইন বসানোর কাজ অনেকটা থমকে গেছে। এ কারণে প্রকল্পের দাতা সংস্থার চাপে মুখে ওয়াসা।

চসিকের আপত্তির কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরী ও জেলার বিভিন্ন সড়কে দুই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসাচ্ছে ওয়াসা। কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ ও চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপ্লাই ইম্প্রুভমেন্ট এ- সেনিটেশন প্রকল্পের আওতায় তিন ও সর্বোচ্চ ৪৮ ইঞ্চির এসব পাইপ বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৪০ কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়েছে। অবশিষ্ট ২০ কিলোমিটার পাইপ বসানোর কাজ চলছে।

এসব পাইপলাইন বসাতে গিয়ে নগর জুড়ে সড়ক খোঁড়াখুড়ির এই দুর্ভোগ শুরু হয়। এর মধ্যে শুরু হয়েছে চসিক নির্বাচনের তোড়জোড়। আগামী মার্চে এ নির্বাচন হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কায় নগরীর সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি সীমিত করতে বলে ওয়াসা। এতে সমস্যায় পড়ে ওয়াসা। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে জানানো হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের দপ্তরে গত রবিবার চসিক ও ওয়াসাকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। এ বৈঠকে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে রাস্তা কাটার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ওয়াসা।

ওয়াসার রাস্তা কাটার কারণে নাগরিক দুর্ভোগ এবং ব্যয় নিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করে সিটি কর্পোরেশন। সামনে নির্বাচনে খোঁড়াখুঁড়ির প্রভাবও উঠে আসে বৈঠকে। অন্যদিকে শেষ পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ কোনো অবস্থাতেই আটকে রাখা সম্ভব নয় বলে দাবি করে ওয়াসা। এ অবস্থায় কিছু শর্তসাপেক্ষে ওয়াসাকে কাজ এগিয়ে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। শর্তগুলোর অন্যতম হলো- নির্ধারিত সড়কে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করে খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই কাজ শেষ করতে হবে। কোনো কারণে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে তা সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করতে হবে। নাগরিক দুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। কাজ ফেলে রেখে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না।বৈঠকে উপস্থিত থাকা চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘বৈঠকে জনগণের ভোগান্তি ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে চসিকের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো মিনিমাম ভোগান্তিতে কাজ করতে। কাজ করার আগে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করা, কোনো কারণে কাজ করতে দেরি হলে তাও সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন নাগরিক দুর্ভোগ না হয় সেটাকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার চিফ ইঞ্জিনিয়ার মাকসুদ আলম বলেন, ‘পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আর মাত্র ২০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হবে। এছাড়া ইন্টারকানেকশন রয়েছে ২০টির মতো। সুতরাং এ অবস্থায় এসে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে বেড়েছে প্রকল্পের দাতা সংস্থার চাপও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্রগ্রামে থমকে গেছে ওয়াসার পাইপ লাইন বসানোর কাজ

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২০

আব্দুল করিম, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে সড়কে ওয়াসার পাইপলাইন বসানোর কাজ অনেকটা থমকে গেছে। এ কারণে প্রকল্পের দাতা সংস্থার চাপে মুখে ওয়াসা।

চসিকের আপত্তির কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরী ও জেলার বিভিন্ন সড়কে দুই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসাচ্ছে ওয়াসা। কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ ও চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপ্লাই ইম্প্রুভমেন্ট এ- সেনিটেশন প্রকল্পের আওতায় তিন ও সর্বোচ্চ ৪৮ ইঞ্চির এসব পাইপ বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৪০ কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়েছে। অবশিষ্ট ২০ কিলোমিটার পাইপ বসানোর কাজ চলছে।

এসব পাইপলাইন বসাতে গিয়ে নগর জুড়ে সড়ক খোঁড়াখুড়ির এই দুর্ভোগ শুরু হয়। এর মধ্যে শুরু হয়েছে চসিক নির্বাচনের তোড়জোড়। আগামী মার্চে এ নির্বাচন হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কায় নগরীর সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি সীমিত করতে বলে ওয়াসা। এতে সমস্যায় পড়ে ওয়াসা। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে জানানো হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের দপ্তরে গত রবিবার চসিক ও ওয়াসাকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। এ বৈঠকে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে রাস্তা কাটার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ওয়াসা।

ওয়াসার রাস্তা কাটার কারণে নাগরিক দুর্ভোগ এবং ব্যয় নিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করে সিটি কর্পোরেশন। সামনে নির্বাচনে খোঁড়াখুঁড়ির প্রভাবও উঠে আসে বৈঠকে। অন্যদিকে শেষ পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ কোনো অবস্থাতেই আটকে রাখা সম্ভব নয় বলে দাবি করে ওয়াসা। এ অবস্থায় কিছু শর্তসাপেক্ষে ওয়াসাকে কাজ এগিয়ে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। শর্তগুলোর অন্যতম হলো- নির্ধারিত সড়কে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করে খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই কাজ শেষ করতে হবে। কোনো কারণে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে তা সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করতে হবে। নাগরিক দুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। কাজ ফেলে রেখে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না।বৈঠকে উপস্থিত থাকা চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘বৈঠকে জনগণের ভোগান্তি ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে চসিকের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো মিনিমাম ভোগান্তিতে কাজ করতে। কাজ করার আগে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করা, কোনো কারণে কাজ করতে দেরি হলে তাও সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন নাগরিক দুর্ভোগ না হয় সেটাকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার চিফ ইঞ্জিনিয়ার মাকসুদ আলম বলেন, ‘পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আর মাত্র ২০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হবে। এছাড়া ইন্টারকানেকশন রয়েছে ২০টির মতো। সুতরাং এ অবস্থায় এসে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে বেড়েছে প্রকল্পের দাতা সংস্থার চাপও।