চেয়ারম্যান এম.ওয়াহেদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০ ৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুল ওয়াহাব, লোহাগাড়া প্রতিনিধিঃ
লোহাগাড়ার কলাউজান ইউপি চেয়ারম্যান এম. ওয়াহেদের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আদারচর লতিয়ার পাড়ায় টংকাবতী খাল থেকে স্কেভেটর দিয়ে এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলনের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় সপ্তাহ খানেক থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি মহল আদারচর এলাকায় টংকাবতী খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে করে খালের তীরের ফসলী জমি ও খালের পাড় হুমকির মুখে পড়েছে। বালুবাহী ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে এলাকার কেউ সাহস পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এস্কেভের দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। স্পটে সারি সারি করে দাঁড়িয়ে আছে ডাম্পট্রাক। একটি বালু ভর্তি করে নিয়ে গেলে আরেকটি ডাম্পট্রাক বালু ভর্তির জন্য এস্কেভের পাশে আসছে। এভাবে ১০/১২টি ডাম্পট্রাক বিরতিহীনভাবে বালু ভর্তি করে পাচার করতে দেখা গেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের দুই পাড় ভেঙ্গে গেছে। বালু ভর্তি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন খাল পাড়ের লোকজন।

কলাউজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামশুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের চর এলাকার মাটি ক্রমাগত ভেঙ্গে পড়ায় কৃষকরা চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে খালের গর্ভে বিলীন হবে কৃষিজমি ও বসতঘর। নিঃস্ব হবে খাল পাড়ের মানুষ।

কলাউজান ইউপি চেয়ারম্যান এম. ওয়াহেদ জানান, এলাকার রাস্তার উন্নয়ন কাজের জন্য কিছু বালু উত্তোলন করেছি। তবে বালু উত্তোলনের জন্য কারো কাছ থেকে অনুমতি নেয়া হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিষেধ করার পর বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছি। এখন কে বা কারা বালু উত্তোলন করছেন তিনি জানেন না। তবে উত্তোলিত বালুগুলো ইটভাটায় যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান হাবীব জিতু জানান, কলাউজানের আদারচর এলাকায় টংকাবতী খাল থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বালু উত্তোলনের জন্য নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও যদি বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চেয়ারম্যান এম.ওয়াহেদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৩৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০

আব্দুল ওয়াহাব, লোহাগাড়া প্রতিনিধিঃ
লোহাগাড়ার কলাউজান ইউপি চেয়ারম্যান এম. ওয়াহেদের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আদারচর লতিয়ার পাড়ায় টংকাবতী খাল থেকে স্কেভেটর দিয়ে এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে বালু উত্তোলনের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় সপ্তাহ খানেক থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি মহল আদারচর এলাকায় টংকাবতী খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে করে খালের তীরের ফসলী জমি ও খালের পাড় হুমকির মুখে পড়েছে। বালুবাহী ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে এলাকার কেউ সাহস পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এস্কেভের দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। স্পটে সারি সারি করে দাঁড়িয়ে আছে ডাম্পট্রাক। একটি বালু ভর্তি করে নিয়ে গেলে আরেকটি ডাম্পট্রাক বালু ভর্তির জন্য এস্কেভের পাশে আসছে। এভাবে ১০/১২টি ডাম্পট্রাক বিরতিহীনভাবে বালু ভর্তি করে পাচার করতে দেখা গেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের দুই পাড় ভেঙ্গে গেছে। বালু ভর্তি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন খাল পাড়ের লোকজন।

কলাউজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামশুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের চর এলাকার মাটি ক্রমাগত ভেঙ্গে পড়ায় কৃষকরা চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে খালের গর্ভে বিলীন হবে কৃষিজমি ও বসতঘর। নিঃস্ব হবে খাল পাড়ের মানুষ।

কলাউজান ইউপি চেয়ারম্যান এম. ওয়াহেদ জানান, এলাকার রাস্তার উন্নয়ন কাজের জন্য কিছু বালু উত্তোলন করেছি। তবে বালু উত্তোলনের জন্য কারো কাছ থেকে অনুমতি নেয়া হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিষেধ করার পর বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছি। এখন কে বা কারা বালু উত্তোলন করছেন তিনি জানেন না। তবে উত্তোলিত বালুগুলো ইটভাটায় যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান হাবীব জিতু জানান, কলাউজানের আদারচর এলাকায় টংকাবতী খাল থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বালু উত্তোলনের জন্য নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও যদি বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।