জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে লকডাউনেও মাঠে রোভার স্কাউট ও স্কাউটস বান্দরবান!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুলাই ২০২১ ৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসিফ ইকবাল,
করোনাভাইরাস সংক্রমণ এমনিতেই লোকজনের চলাচল সীমিত। শহরের রাস্তাঘাট সরকারি বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে তৎপর প্রশাসনসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। এদের পাশাপাশি মাঠে দেখা গেছে আরেক দল স্বেচ্ছাসেবককে। এরা রোভার স্কাউট ও স্কাউটসের সদস্য।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি রাস্তায় কাজ করছেন জেলা রোভার স্কাউটসের ১৮ সদস্য সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই শিফটে ৯ জন করে রাস্তার কাজ করছেন তাঁরা। মূলত রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ, লোকজনকে অহেতুক রাস্তায় বের হতে না দেওয়া ও বের হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য কাজ করছেন তাঁরা।

সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই শিফটে কাজ করছেন মোট ১৮ রোভার স্কাউটস সদস্যরা। এজন্য তাঁরা কোনো পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না।

জেলা রোভার ও জেলা স্কাউটসের ১৮ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবীদের দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উত্তম কুমার দত্ত। দলের সহকারী টিম লিডার মো. ইসমাইল।

গতকাল দুপুরে টিম লিডার উত্তম কুমার দত্ত জানান, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২ টা ও দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই শিফটে কাজ চলে। শহরের বান্দরবান বাজার এলাকা মোড় ও বাসষ্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।

দলের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও কোনো পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না তাঁরা।

শুক্রবার সকাল ১০টায় বান্দরবান শহরের ক্যায়াং মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাহফুজুর রহমান সৈকত ও কোমল বিশ্বাস। রোভার সদস্য সৈকত বান্দরবান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তির অপেক্ষায় স্কাউট সদস্য কোমল বান্দরবান কালেক্টরেট স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। কঠোর লকডাউনে কাজ করে পেরে গর্ব প্রকাশ করে সৈকত বলেন,
সরকারের কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সহকারী টিম লিডার মোঃ ইসমাইল জানায়, লকডাউনে রাস্তায় কাজ করতে গিয়ে অন্যরকম। অনুভূতি কাজ করছে।

টিম লিডার উত্তম কুমার দত্ত বলেন, তাঁরা কঠোর লকডাউনে রাস্তায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করতে পারছেন, এটাই তাঁদের কাছে অন্যরকম পাওয়া।

টিমের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন বান্দরবান সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করার কাজে তিনি অংশ নিতে পেরে গর্বিত। যে ১৮ জন কাজ করছে, তারা সার্বক্ষণিক নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

উল্লেখ্য, আগামীকাল থেকে কোনো শিফটে ছাড়া সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত একটানা কাজ করে যাবে এই ১৮ জন স্বেচ্ছাসেবক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে লকডাউনেও মাঠে রোভার স্কাউট ও স্কাউটস বান্দরবান!

আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুলাই ২০২১

আসিফ ইকবাল,
করোনাভাইরাস সংক্রমণ এমনিতেই লোকজনের চলাচল সীমিত। শহরের রাস্তাঘাট সরকারি বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে তৎপর প্রশাসনসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। এদের পাশাপাশি মাঠে দেখা গেছে আরেক দল স্বেচ্ছাসেবককে। এরা রোভার স্কাউট ও স্কাউটসের সদস্য।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি রাস্তায় কাজ করছেন জেলা রোভার স্কাউটসের ১৮ সদস্য সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই শিফটে ৯ জন করে রাস্তার কাজ করছেন তাঁরা। মূলত রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ, লোকজনকে অহেতুক রাস্তায় বের হতে না দেওয়া ও বের হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য কাজ করছেন তাঁরা।

সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই শিফটে কাজ করছেন মোট ১৮ রোভার স্কাউটস সদস্যরা। এজন্য তাঁরা কোনো পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না।

জেলা রোভার ও জেলা স্কাউটসের ১৮ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবীদের দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উত্তম কুমার দত্ত। দলের সহকারী টিম লিডার মো. ইসমাইল।

গতকাল দুপুরে টিম লিডার উত্তম কুমার দত্ত জানান, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২ টা ও দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই শিফটে কাজ চলে। শহরের বান্দরবান বাজার এলাকা মোড় ও বাসষ্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।

দলের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও কোনো পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না তাঁরা।

শুক্রবার সকাল ১০টায় বান্দরবান শহরের ক্যায়াং মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাহফুজুর রহমান সৈকত ও কোমল বিশ্বাস। রোভার সদস্য সৈকত বান্দরবান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তির অপেক্ষায় স্কাউট সদস্য কোমল বান্দরবান কালেক্টরেট স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। কঠোর লকডাউনে কাজ করে পেরে গর্ব প্রকাশ করে সৈকত বলেন,
সরকারের কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সহকারী টিম লিডার মোঃ ইসমাইল জানায়, লকডাউনে রাস্তায় কাজ করতে গিয়ে অন্যরকম। অনুভূতি কাজ করছে।

টিম লিডার উত্তম কুমার দত্ত বলেন, তাঁরা কঠোর লকডাউনে রাস্তায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করতে পারছেন, এটাই তাঁদের কাছে অন্যরকম পাওয়া।

টিমের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন বান্দরবান সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করার কাজে তিনি অংশ নিতে পেরে গর্বিত। যে ১৮ জন কাজ করছে, তারা সার্বক্ষণিক নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

উল্লেখ্য, আগামীকাল থেকে কোনো শিফটে ছাড়া সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত একটানা কাজ করে যাবে এই ১৮ জন স্বেচ্ছাসেবক।