ট্যাক্সের নামে লুটতরাজ রুখে দাঁড়াও ছাত্রসমাজ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১ ৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব সংবাদদাতা,
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রস্তাবিত ১৫% ট্যাক্স আরোপের প্রতিবাদে আজ ১১জুন শুক্রবার বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম নগরের জামালখান মোড়ে NO TAX ON EDUCATION এর ব্যানারে একটি ছাত্র সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশের সঞ্চালনা করেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রাফি। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুর রুদ্র, বিজিএমইএ ফ্যাশন এন্ড ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রীতম বড়ুয়া, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো: রিয়াজুল হক আব্বাস, চট্টগ্রাম সাইন্স এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা এর শিক্ষার্থী সৈয়দ ইনজাম, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী রুমেল বড়ুয়া, বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অবিধা ফাইরুজ, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহান দাউদ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন ‘ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ১৯৯২ সালে প্রথম পাশ হয় ২০১০ সালের নতুন এক্টের মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এক্ট ২০১০ এর ৪২ ও ৪৩ ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের উৎস শিক্ষার্থীদের থেকে প্রাপ্ত অর্থ। সুতরাং এই ট্যাক্স প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আরোপিত হলেও তা শিক্ষার্থীদের উপরেই আরোপিত হওয়াকেই নির্দেশ করে।

প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু ট্রাস্টিজ বডি দ্বারা পরিচালিত, সেহেতু প্রস্তাবিত এই ট্যাক্স ট্রাস্ট আইনের পরিপন্থী। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো শিল্প কারখানা নয় যে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় করে মুনাফা অর্জন করবে। এবং সরকার চাইলেই এর উপর ট্যাক্স আরোপ করতে পারে। সুতরাং এই কর আরোপ এর প্রস্তাব নিন্দনীয়।

বক্তারা আরো বলেন, গত দেড় বছর ধরে করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা এবং শিক্ষার্থীদের পরিবার অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত। অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। এছাড়াও বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ঝরে পরার সম্ভাবনা বিদ্যমান। এমতাবস্থায় সরকার ট্যাক্স আরোপ না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করা উচিৎ।

এছাড়াও সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ব ব্যাংক ও ইউজিসি প্রণীত ২০ বছর মেয়াদী শিক্ষা সংকোচন ও বানিজ্যীকরণের কৌশলপত্র বাতিলের দাবি জানান৷

সমাপনী বক্তব্যে কর বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক সাইফুর রূদ্র, ‘শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান সংকট ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের গড়ে তোলার বিকল্প নেই এবং গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ট্যাক্সের নামে লুটতরাজ রুখে দাঁড়াও ছাত্রসমাজ!

আপডেট সময় : ০৮:১২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

নিজস্ব সংবাদদাতা,
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রস্তাবিত ১৫% ট্যাক্স আরোপের প্রতিবাদে আজ ১১জুন শুক্রবার বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম নগরের জামালখান মোড়ে NO TAX ON EDUCATION এর ব্যানারে একটি ছাত্র সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশের সঞ্চালনা করেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রাফি। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুর রুদ্র, বিজিএমইএ ফ্যাশন এন্ড ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রীতম বড়ুয়া, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো: রিয়াজুল হক আব্বাস, চট্টগ্রাম সাইন্স এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা এর শিক্ষার্থী সৈয়দ ইনজাম, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী রুমেল বড়ুয়া, বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অবিধা ফাইরুজ, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহান দাউদ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন ‘ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ১৯৯২ সালে প্রথম পাশ হয় ২০১০ সালের নতুন এক্টের মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এক্ট ২০১০ এর ৪২ ও ৪৩ ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের উৎস শিক্ষার্থীদের থেকে প্রাপ্ত অর্থ। সুতরাং এই ট্যাক্স প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আরোপিত হলেও তা শিক্ষার্থীদের উপরেই আরোপিত হওয়াকেই নির্দেশ করে।

প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু ট্রাস্টিজ বডি দ্বারা পরিচালিত, সেহেতু প্রস্তাবিত এই ট্যাক্স ট্রাস্ট আইনের পরিপন্থী। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো শিল্প কারখানা নয় যে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় করে মুনাফা অর্জন করবে। এবং সরকার চাইলেই এর উপর ট্যাক্স আরোপ করতে পারে। সুতরাং এই কর আরোপ এর প্রস্তাব নিন্দনীয়।

বক্তারা আরো বলেন, গত দেড় বছর ধরে করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা এবং শিক্ষার্থীদের পরিবার অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত। অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। এছাড়াও বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ঝরে পরার সম্ভাবনা বিদ্যমান। এমতাবস্থায় সরকার ট্যাক্স আরোপ না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করা উচিৎ।

এছাড়াও সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ব ব্যাংক ও ইউজিসি প্রণীত ২০ বছর মেয়াদী শিক্ষা সংকোচন ও বানিজ্যীকরণের কৌশলপত্র বাতিলের দাবি জানান৷

সমাপনী বক্তব্যে কর বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক সাইফুর রূদ্র, ‘শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান সংকট ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের গড়ে তোলার বিকল্প নেই এবং গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।’