কক্সবাজারে ব্যবসায়ীকে অপহরণসহ মুক্তিপণ আদায়, ডিবির ৭ সদস্যের ৭ বছর করে কারাদন্ড!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাজন বড়ুয়া সাজু, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের টেকনাফে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় কক্সবাজারের জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বহিস্কৃত সাত সদস্যকে ৭ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। সে সাথে প্রত্যেকজনকে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তৎকালীন ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ, এএসআই ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা ও আলাউদ্দিন এবং দুই কনস্টেবল আল আমিন ও মোস্তফা আজম। আসামীরা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা দায়রা ও জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এডভোকেট ফরিদুল আলম।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, টেকনাফে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় ৩৬৫ ধারায় প্রত্যেককে ৫ বছর ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড। অপর ৩৮৬ ধারায় প্রত্যেককে ৭ বছর করে কারাদন্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদন্ড দেয়া হয়।

আদালতের অবজারভেশনের বরাতে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজারবাগে পুলিশের যে ভুমিকা আমাদের ভুলার নয়। কিন্তু ডিবির সদস্যরা যা করেছে তা নৈতিকতার অভাব। তাই তাদের নৈতিকভাবে আরও গতিশীল করতে হবে।

জানা যায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানের ছোঠভাই ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর মেরিন ড্রাইভে নিয়ে ক্রসফায়ার দেয়ার মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার। টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোররাতে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি গফুরের স্বজনেরা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাচৌকির কর্মকর্তাকে জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর এই নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন করা হয়েছিল। মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যরা মাইক্রোবাসে মেরিন ড্রাইভ সড়কে চৌকির সেনাসদস্যরা মাইক্রোবাস তল্লাশি করে তাতে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন সেনাসদস্যরা।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বাদি হয়ে এ সাতজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।ঘটনার প্রায় ১০ মাস ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডিবির সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গেল ৫ সেপ্টেম্বর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ ২০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করার দিন ধায্য করেছিলেন বিজ্ঞ বিচারক। আসামীরা সবাই কারাগারে আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কক্সবাজারে ব্যবসায়ীকে অপহরণসহ মুক্তিপণ আদায়, ডিবির ৭ সদস্যের ৭ বছর করে কারাদন্ড!

আপডেট সময় : ০৮:১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

সাজন বড়ুয়া সাজু, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের টেকনাফে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় কক্সবাজারের জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বহিস্কৃত সাত সদস্যকে ৭ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। সে সাথে প্রত্যেকজনকে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তৎকালীন ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ, এএসআই ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা ও আলাউদ্দিন এবং দুই কনস্টেবল আল আমিন ও মোস্তফা আজম। আসামীরা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা দায়রা ও জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এডভোকেট ফরিদুল আলম।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, টেকনাফে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় ৩৬৫ ধারায় প্রত্যেককে ৫ বছর ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড। অপর ৩৮৬ ধারায় প্রত্যেককে ৭ বছর করে কারাদন্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদন্ড দেয়া হয়।

আদালতের অবজারভেশনের বরাতে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজারবাগে পুলিশের যে ভুমিকা আমাদের ভুলার নয়। কিন্তু ডিবির সদস্যরা যা করেছে তা নৈতিকতার অভাব। তাই তাদের নৈতিকভাবে আরও গতিশীল করতে হবে।

জানা যায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানের ছোঠভাই ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর মেরিন ড্রাইভে নিয়ে ক্রসফায়ার দেয়ার মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার। টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোররাতে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি গফুরের স্বজনেরা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাচৌকির কর্মকর্তাকে জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর এই নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন করা হয়েছিল। মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যরা মাইক্রোবাসে মেরিন ড্রাইভ সড়কে চৌকির সেনাসদস্যরা মাইক্রোবাস তল্লাশি করে তাতে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন সেনাসদস্যরা।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বাদি হয়ে এ সাতজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।ঘটনার প্রায় ১০ মাস ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডিবির সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গেল ৫ সেপ্টেম্বর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ ২০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করার দিন ধায্য করেছিলেন বিজ্ঞ বিচারক। আসামীরা সবাই কারাগারে আছেন।