তিন শতাধিক একর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ ২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুহাম্মদ জুয়েল,
বোয়ালখালী উপজেলার মনসার টেক-কালুরঘাট এলাকার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রায় ৩ শতাধিক একর জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পাঁচ শতাধিক কাঁচা-পাকা স্থাপনা। বৃহস্পতিবার ১০টা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মনসার টেক-কালুরঘাট জাতীয় মহাসড়কের পাশে বোয়ালখালী উপজেলা মিলিটারি পুল এলাকা থেকে কালুরঘাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। মনসার টেক-কালুরঘাট মহাসড়কের দু’পাশে বুলডোজর দিয়ে কাঁচা ও পাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেঙে পেলে টিন। উপড়ে ফেলা হয়েছে লোহার খুঁটি। একটার পর একটা স্থাপনা ভাঙা হচ্ছে। এসব স্থাপনা ও দোকানের মালিক ভেঙে ফেলা ঘরের ইট, কাঠ, লোহার রড, টিনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র কুড়িয়ে নিচ্ছেন। কয়েক শ মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এ উচ্ছেদ অভিযান দেখেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালীর এলাকায় মিলিটারি পুল-কালুরঘাট সড়কের দুপাশে অবৈধভাবে সওজের জায়গা দখল করে অনেকে দোকান, কমিউনিটি সেন্টার, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ছোটবড় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন। অনেকে দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন। এসব দখলদারকে সওজ ও বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ দখল ছাড়তে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির প্রতি কেউই গুরুত্ব দেননি। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা সরানোর জন্য দুই সপ্তাহ আগে থেকেই অবৈধ স্থাপনার মালিকদের গণবিজ্ঞপ্তিসহ মাইকিং করা হয়। কিন্তু কেউই জায়গা ছাড়তে চাননি। ফলে বৃহস্পতিবার থেকে সওজ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এতে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধ দখল থেকে প্রায় তিন শতাধিক একর জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এই জায়গার বাজারমূল্য প্রায় শত কোটি টাকা। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল হক চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ এর পটিয়া উপবিভাগ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এর উপ সহকারী প্রকৌশলী টোয়াইন চাকমা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসআই নেছার প্রমুখ। এছাড়াও অবৈধ স্থাপনা সমূহের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বোয়ালখালী জোনের সদস্যরা।

উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন অভিযানে প্রায় ৫ শতাধিক দোকান, কমিউনিটি সেন্টার, শিল্প প্রতিষ্ঠান এর বর্ধিত অংশ উচ্ছেদ করা হয় মিলিটারি পোল এলাকা থেকে কালুরঘাট সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত। দিনব্যাপী এই অভিযানে মিলিটারি পোল, শাকপুরা বাজার, ফুলতল বাজার, পেতন আউলিয়ার গেট, কালুরঘাট বাজার সংলগ্ন প্রায় ৩ শতাধিক একর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি উদ্ধার করা হয়।

বোয়ালখালী উপজেলার ইউএনও আছিয়া খাতুন বলেন, যারা দখলদার ছিল তাদের দু’সপ্তাহ আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। আজকে আমরা উচ্ছেদ করবো সেটা নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়ে ছিল এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল সরে যাওয়ার জন্য কিন্তু সরে নাই। তাই উচ্ছেদ অভিযান করে দখলমুক্ত করা হয়েছে। মিলিটারি পুল থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর পটিয়া উপবিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী টোয়াইন চাকমা বলেন, ‘আমরা অনেকবার দখলদারদের জায়গা ছাড়ার জন্য নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি। পরে মাইকিং করা হয়েছে। এরপর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তিন শতাধিক একর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন

আপডেট সময় : ০২:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

মুহাম্মদ জুয়েল,
বোয়ালখালী উপজেলার মনসার টেক-কালুরঘাট এলাকার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রায় ৩ শতাধিক একর জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পাঁচ শতাধিক কাঁচা-পাকা স্থাপনা। বৃহস্পতিবার ১০টা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মনসার টেক-কালুরঘাট জাতীয় মহাসড়কের পাশে বোয়ালখালী উপজেলা মিলিটারি পুল এলাকা থেকে কালুরঘাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। মনসার টেক-কালুরঘাট মহাসড়কের দু’পাশে বুলডোজর দিয়ে কাঁচা ও পাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেঙে পেলে টিন। উপড়ে ফেলা হয়েছে লোহার খুঁটি। একটার পর একটা স্থাপনা ভাঙা হচ্ছে। এসব স্থাপনা ও দোকানের মালিক ভেঙে ফেলা ঘরের ইট, কাঠ, লোহার রড, টিনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র কুড়িয়ে নিচ্ছেন। কয়েক শ মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এ উচ্ছেদ অভিযান দেখেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালীর এলাকায় মিলিটারি পুল-কালুরঘাট সড়কের দুপাশে অবৈধভাবে সওজের জায়গা দখল করে অনেকে দোকান, কমিউনিটি সেন্টার, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ছোটবড় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন। অনেকে দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন। এসব দখলদারকে সওজ ও বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ দখল ছাড়তে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির প্রতি কেউই গুরুত্ব দেননি। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা সরানোর জন্য দুই সপ্তাহ আগে থেকেই অবৈধ স্থাপনার মালিকদের গণবিজ্ঞপ্তিসহ মাইকিং করা হয়। কিন্তু কেউই জায়গা ছাড়তে চাননি। ফলে বৃহস্পতিবার থেকে সওজ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এতে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধ দখল থেকে প্রায় তিন শতাধিক একর জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এই জায়গার বাজারমূল্য প্রায় শত কোটি টাকা। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল হক চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ এর পটিয়া উপবিভাগ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এর উপ সহকারী প্রকৌশলী টোয়াইন চাকমা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসআই নেছার প্রমুখ। এছাড়াও অবৈধ স্থাপনা সমূহের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বোয়ালখালী জোনের সদস্যরা।

উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন অভিযানে প্রায় ৫ শতাধিক দোকান, কমিউনিটি সেন্টার, শিল্প প্রতিষ্ঠান এর বর্ধিত অংশ উচ্ছেদ করা হয় মিলিটারি পোল এলাকা থেকে কালুরঘাট সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত। দিনব্যাপী এই অভিযানে মিলিটারি পোল, শাকপুরা বাজার, ফুলতল বাজার, পেতন আউলিয়ার গেট, কালুরঘাট বাজার সংলগ্ন প্রায় ৩ শতাধিক একর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি উদ্ধার করা হয়।

বোয়ালখালী উপজেলার ইউএনও আছিয়া খাতুন বলেন, যারা দখলদার ছিল তাদের দু’সপ্তাহ আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। আজকে আমরা উচ্ছেদ করবো সেটা নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়ে ছিল এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল সরে যাওয়ার জন্য কিন্তু সরে নাই। তাই উচ্ছেদ অভিযান করে দখলমুক্ত করা হয়েছে। মিলিটারি পুল থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর পটিয়া উপবিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী টোয়াইন চাকমা বলেন, ‘আমরা অনেকবার দখলদারদের জায়গা ছাড়ার জন্য নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি। পরে মাইকিং করা হয়েছে। এরপর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।