থানা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম রায়, ৩ পুলিশের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন ডেস্ক:
থানা হেফজতে নিয়ে গাড়িচালক ইশতিয়া হোসেন জনিকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় রাজধানীর পল্লবী থানার তৎকালীন তিন পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একইসঙ্গে, পুলিশের দুই সোর্সকে সাতবছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

এ মামলার আসামিরা হলেন, পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদ, এএসআই রাশেদুল ইসলাম, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং পুলিশের সোর্স রাশেদ ও সুমন। এসআই জাহিদ ও সোর্স সুমনের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে, এসআই জাহিদ, এএসআই রাশেদুল ইসলাম, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে, এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এ জরিমানা দিতে না পারলে তাদের আরও ৬ মাস জেল খাটতে হবে। অর্থদণ্ড ছাড়াও তিন পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে নিহত জনির পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ টাকা দিতে না পারলে তারা আপিল করতে পারবেন না।

অন্যদিকে, পুলিশের সোর্স সুমন ও রাশেদকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আলোচিত এ মামলায় এসআই জাহিদ ও সোর্স সুমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আর এএসআই রাশেদুল ইসলাম পলাতক থাকলেও বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

জাতিসংঘের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ৭ বছর আগে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন পাস হয়। জনি হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলায় এই আইনে এটিই দেশের বিচারিক আদালতে প্রথম রায়। এ মামলায় ২৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। টানা ১০ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের এই দিন ঠিক করেন বিচারক।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি ইরানি ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. সাদেকের ছেলে মো. বিল্লালের গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠান ছিলো। এই অনুষ্ঠান থেকে ইশতিয়াক হোসেন জনি ও তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেনকে ধরে থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে জনির শরীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জনিকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে জনির ভাই ইমতিয়াজ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন পাঁচজনকে অভিযুক্ত এবং পাঁচজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকালে পুলিশের এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান মিন্টুকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল পল্লবী থানার এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু, সোর্স সুমন ও রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

থানা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম রায়, ৩ পুলিশের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন ডেস্ক:
থানা হেফজতে নিয়ে গাড়িচালক ইশতিয়া হোসেন জনিকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় রাজধানীর পল্লবী থানার তৎকালীন তিন পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একইসঙ্গে, পুলিশের দুই সোর্সকে সাতবছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

এ মামলার আসামিরা হলেন, পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদ, এএসআই রাশেদুল ইসলাম, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং পুলিশের সোর্স রাশেদ ও সুমন। এসআই জাহিদ ও সোর্স সুমনের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে, এসআই জাহিদ, এএসআই রাশেদুল ইসলাম, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে, এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এ জরিমানা দিতে না পারলে তাদের আরও ৬ মাস জেল খাটতে হবে। অর্থদণ্ড ছাড়াও তিন পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে নিহত জনির পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ টাকা দিতে না পারলে তারা আপিল করতে পারবেন না।

অন্যদিকে, পুলিশের সোর্স সুমন ও রাশেদকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আলোচিত এ মামলায় এসআই জাহিদ ও সোর্স সুমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আর এএসআই রাশেদুল ইসলাম পলাতক থাকলেও বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

জাতিসংঘের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ৭ বছর আগে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন পাস হয়। জনি হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলায় এই আইনে এটিই দেশের বিচারিক আদালতে প্রথম রায়। এ মামলায় ২৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। টানা ১০ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের এই দিন ঠিক করেন বিচারক।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি ইরানি ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. সাদেকের ছেলে মো. বিল্লালের গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠান ছিলো। এই অনুষ্ঠান থেকে ইশতিয়াক হোসেন জনি ও তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেনকে ধরে থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে জনির শরীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জনিকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে জনির ভাই ইমতিয়াজ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন পাঁচজনকে অভিযুক্ত এবং পাঁচজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকালে পুলিশের এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান মিন্টুকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল পল্লবী থানার এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু, সোর্স সুমন ও রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা।