এম এ সাত্তার, কক্সবাজারঃ
দেশের দীর্ঘদেহী কক্সবাজারের জিন্নাত আলীকে আর বাঁচানো গেল না। তার অকাল মৃত্যুতে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) দেশের হাজার হাজার শুভাকাঙ্ক্ষী সহ অনেকেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
জিন্নাত আলী! যাকে এক নজর দেখার জন্য সর্ব শ্রেণি-পেশার মানুষের কৌতুহল ছিল দেখার মতো। সে ঘর থেকে বের হলেই তাকে এক নজর দেখা ও তার সাথে ছবি তোলার জন্য তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে দীর্ঘ লাইন পড়ে যেত। এমনকি ব্যস্ততম রাস্তার পাশে ২/১ মিনিট দাঁড়ালেই পুরো রাস্তা যানজটে ব্লক হয়ে যেতো।সে যানজট মুক্ত করতে ট্রাফিক পুলিশের কয়েকঘন্টা সময় লেগে যেতো। তাকে নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে বলতে শোনা যেত অনেক মুখরোচক কথা ও কল্পকাহিনী। আজকের পর থেকে জিন্নাত আলীর আসার খবর শুনে দৌড়ে বের হবে না, কেউ বলবে না এই দীর্ঘদেহী সহজ সরল মানুষটির কথা।
দেশের এই দীর্ঘ মানব ও রামু উপজেলার বাসিন্দা জিন্নাত আলী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীর অবস্থায় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোররাতে মৃত্যু বরণ করেন।সে কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল গ্রামের আমির হামজার ছেলে। ৮ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা জিন্নাত আলী বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে লম্বা মানুষ ছিলেন।
জিন্নাতের বড় ভাই ইলিয়াছ আলী সাংবাদিকদেের জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জিন্নাত আলী ব্রেন টিউমার রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ তার অবস্থা বেগতিক হলে গত রোববার জিন্নাত আলীকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। প্রথমে তাকে হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে সোমবার নিউরোসার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছিল চিকিৎসকরা।
২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন জিন্নাত আলী। এরপর তাকে নিয়ে হইচই পড়ে যায়।১৯৯৬ সালের জিন্নাত আলী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। ১১ বছর বয়স থেকে জিন্নাত আলীর শরীরের অস্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধি শুরু হয়। সেটি একসময় বেড়ে ৮ ফুট ৬ ইঞ্চিতে গিয়ে দাঁড়ায়।
২০১৮ সালের অক্টোবরে জিন্নাত আলীকে চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। তখন চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, জিন্নাতের মস্তিষ্কে টিউমার রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া হরমোন সমস্যার কারণে তার উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ আমাদের জিন্নাত আলী ভাই হাসিয়ে কাঁদিয়ে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মহান আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতের সুউচ্চ স্থান দান করুন, আমিন।