নিউইয়র্কে নৃশংস হত্যার শিকার ফাহিমের খুনীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২০ ১০৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নৃশংস হত্যার শিকার সম্ভাবনাময় যুবক ফাহিম হত্যার খুনীদেরকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ দাবি করছে চাঞ্চল্যকর ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে তারা।একদিনের তদন্তে ফাহিমের হত্যাকারীকে শনাক্ত এবং খুনের কারণ জানতে পেরেছে পুলিশ। খুনিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চলছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) ম্যানহাটনে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে খুন হন পাঠাও-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ (৩৩)। ব্যবসায়িক লেনদেনের জেরে ফাহিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ কিংবা হত্যাকারী গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস এ খবর জানিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে দুটি লক্ষ্য থাকে। একটি হচ্ছে, মাফিয়া স্টাইলে অন্যদের ভয়াবহতার বার্তা দেওয়া। অন্যটি হচ্ছে ব্যক্তিকে একদম শেষ করে দেওয়া। শেষের যুক্তিটিই এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে। হত্যাকারী ফাহিমের মরদেহ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভর্তি করে। এ ফাঁকে ধুয়ে মুছে রক্ত পরিষ্কার করে। ঘটনাস্থলে তেমন রক্ত পাওয়া যায়নি। কেউ আসছে বা দরজায় বেল দিচ্ছে, এমন ঘটনার পর হত্যাকারী সাততলা অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে যায়। এ জন্য তাকে চাবি ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলে এ ধরনের এক্সিট পরিকল্পনা আগে থেকেই নেওয়া ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে ইলেকট্রিক করাতে ও অন্যত্র আঙুলের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নামলেও নিউইয়র্ক নগরী সর্বত্র এখন সিসি ক্যামেরার আওতায়। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র দেখে হত্যাকারীকে চিহ্নিত করা গেছে। অনেকটা করোনাভাইরাসের কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মতো হত্যাকারীকে ধরে ফেলতে পারবে বলে নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ফাহিম সালেহর অ্যাপার্টমেন্টের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ উদ্ধার করেছে। সেখানে দেখা যায়, সোমবার শেষবার তিনি বাসায় প্রবেশ করার পর আর বের হননি। এ সময় সন্দেহভাজন খুনি হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক ও স্যুট পরিহিত অবস্থায় ব্রিফকেস নিয়ে ফাহিম সালেহর পেছনে যেতে দেখা যায়। খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন খুনি ‘অত্যন্ত পেশাদার’ বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) ম্যানহাটনের ইস্ট হাউস্টন স্ট্রিটসংলগ্ন ফাহিম সালেহর অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মঙ্গলবার তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের পর এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই ব্যক্তি ফাহিমের সঙ্গে ভবনের সপ্তম তলায় তার অ্যাপার্টমেন্ট পর্যন্ত যান। এই ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে ধারণা করছে এনওয়াইপিডি। সোমবার থেকে ফাহিম সালেহর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে নিউইয়র্ক পুলিশকে টেলিফোনে জানান তার বোন। পরে পুলিশ ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে ফাহিমের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নিউইয়র্কে নৃশংস হত্যার শিকার ফাহিমের খুনীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২০

চট্টগ্রাম ট্রিবিউন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নৃশংস হত্যার শিকার সম্ভাবনাময় যুবক ফাহিম হত্যার খুনীদেরকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ দাবি করছে চাঞ্চল্যকর ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে তারা।একদিনের তদন্তে ফাহিমের হত্যাকারীকে শনাক্ত এবং খুনের কারণ জানতে পেরেছে পুলিশ। খুনিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চলছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) ম্যানহাটনে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে খুন হন পাঠাও-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ (৩৩)। ব্যবসায়িক লেনদেনের জেরে ফাহিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ কিংবা হত্যাকারী গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস এ খবর জানিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে দুটি লক্ষ্য থাকে। একটি হচ্ছে, মাফিয়া স্টাইলে অন্যদের ভয়াবহতার বার্তা দেওয়া। অন্যটি হচ্ছে ব্যক্তিকে একদম শেষ করে দেওয়া। শেষের যুক্তিটিই এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে। হত্যাকারী ফাহিমের মরদেহ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভর্তি করে। এ ফাঁকে ধুয়ে মুছে রক্ত পরিষ্কার করে। ঘটনাস্থলে তেমন রক্ত পাওয়া যায়নি। কেউ আসছে বা দরজায় বেল দিচ্ছে, এমন ঘটনার পর হত্যাকারী সাততলা অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে যায়। এ জন্য তাকে চাবি ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলে এ ধরনের এক্সিট পরিকল্পনা আগে থেকেই নেওয়া ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে ইলেকট্রিক করাতে ও অন্যত্র আঙুলের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নামলেও নিউইয়র্ক নগরী সর্বত্র এখন সিসি ক্যামেরার আওতায়। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র দেখে হত্যাকারীকে চিহ্নিত করা গেছে। অনেকটা করোনাভাইরাসের কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মতো হত্যাকারীকে ধরে ফেলতে পারবে বলে নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ফাহিম সালেহর অ্যাপার্টমেন্টের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ উদ্ধার করেছে। সেখানে দেখা যায়, সোমবার শেষবার তিনি বাসায় প্রবেশ করার পর আর বের হননি। এ সময় সন্দেহভাজন খুনি হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক ও স্যুট পরিহিত অবস্থায় ব্রিফকেস নিয়ে ফাহিম সালেহর পেছনে যেতে দেখা যায়। খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন খুনি ‘অত্যন্ত পেশাদার’ বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) ম্যানহাটনের ইস্ট হাউস্টন স্ট্রিটসংলগ্ন ফাহিম সালেহর অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মঙ্গলবার তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের পর এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই ব্যক্তি ফাহিমের সঙ্গে ভবনের সপ্তম তলায় তার অ্যাপার্টমেন্ট পর্যন্ত যান। এই ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে ধারণা করছে এনওয়াইপিডি। সোমবার থেকে ফাহিম সালেহর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে নিউইয়র্ক পুলিশকে টেলিফোনে জানান তার বোন। পরে পুলিশ ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে ফাহিমের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে।