নির্মাণাধীন বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১ ২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুহাম্মদ রায়হান আদনান,
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলায় নির্মাণাধীন দৃষ্টিনন্দিত, আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্নতায় তৈরী “বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ “ঘুরে দেখতে সীমান্তবর্তী মহামুনি এলাকায় প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত পর্যটক।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ এই সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে সাবেক মহকুমা শহর রামগড়ের আকাশে দেখা দিচ্ছে আলোর রেখা।এ সেতুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আর্থ -সামাজিকভাবে অগ্রগতির আশার আলো দেখেছিলেন স্থানীয়রা।তাই উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতুটি একনজর দেখার জন্য ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে সেতুর উপরে উঠতে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই সেতু দেখতে ঢাকা থেকে আসা নাসিমা আক্তার নামের এক পর্যটক বলেন, তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন।রামগড়ে তার পৈতৃকনিবাস।অনেক আগেই এই সেতু নির্মাণের খবর শুনে আনন্দিত হয়েছিলেন।স্বপ্নের এই সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার পর সেতুটি দেখতে তর সইছিল না তাঁর। তাই ছেলে এবং মেয়েকে সাথে নিয়ে সেতু দেখতে চলে এসেছেন।

রামগড় উপজেলা নির্বাহি অফিসার মু.মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় করার কথা তিনি শুনেছেন।সেতুটি সীমান্তবর্তী এলাকায় পড়ায় পরবর্তী মাসিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে সেতুর চারপাশে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরবেন।

রামগড় উপজেলা স্থানীয় বাসিন্দা কাওসিন হাবিব পবন জানান, এই শহরের বুকে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু শহরের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিবে।সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের পর স্থল বন্দরের কার্যক্রম চালু হলে খুলে যাবে আঞ্চলিক বানিজ্যের নতুন দুয়ার। এই স্থলবন্দর চালু হলে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্যঘাটতি কমবে বলেও আশা করেন তিনি।ফলে উন্মোচিত হবে অর্থনীতির নতুন দুয়ার।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৫ সালের ৬ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু -১ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে মহামুনি এলাকায় প্রায় ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করছে ভারত সরকার। ৪১২ মিটার দৈঘ্যের সেতুটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৮২ দশমিক ৫৭ কোটি রুপি।নির্মাণকাজ শেষ হলে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবব্রুম মহকুমায় সংযোগ স্থাপিত হবে।

ভারত সরকারে অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি চালু হলে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যসহ মেঘালয়, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচলের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হলে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী সেতুটি উদ্বোধন করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নির্মাণাধীন বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১

মুহাম্মদ রায়হান আদনান,
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলায় নির্মাণাধীন দৃষ্টিনন্দিত, আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্নতায় তৈরী “বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ “ঘুরে দেখতে সীমান্তবর্তী মহামুনি এলাকায় প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত পর্যটক।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ এই সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে সাবেক মহকুমা শহর রামগড়ের আকাশে দেখা দিচ্ছে আলোর রেখা।এ সেতুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আর্থ -সামাজিকভাবে অগ্রগতির আশার আলো দেখেছিলেন স্থানীয়রা।তাই উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতুটি একনজর দেখার জন্য ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে সেতুর উপরে উঠতে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই সেতু দেখতে ঢাকা থেকে আসা নাসিমা আক্তার নামের এক পর্যটক বলেন, তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন।রামগড়ে তার পৈতৃকনিবাস।অনেক আগেই এই সেতু নির্মাণের খবর শুনে আনন্দিত হয়েছিলেন।স্বপ্নের এই সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার পর সেতুটি দেখতে তর সইছিল না তাঁর। তাই ছেলে এবং মেয়েকে সাথে নিয়ে সেতু দেখতে চলে এসেছেন।

রামগড় উপজেলা নির্বাহি অফিসার মু.মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় করার কথা তিনি শুনেছেন।সেতুটি সীমান্তবর্তী এলাকায় পড়ায় পরবর্তী মাসিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে সেতুর চারপাশে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরবেন।

রামগড় উপজেলা স্থানীয় বাসিন্দা কাওসিন হাবিব পবন জানান, এই শহরের বুকে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু শহরের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিবে।সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের পর স্থল বন্দরের কার্যক্রম চালু হলে খুলে যাবে আঞ্চলিক বানিজ্যের নতুন দুয়ার। এই স্থলবন্দর চালু হলে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্যঘাটতি কমবে বলেও আশা করেন তিনি।ফলে উন্মোচিত হবে অর্থনীতির নতুন দুয়ার।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৫ সালের ৬ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু -১ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে মহামুনি এলাকায় প্রায় ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করছে ভারত সরকার। ৪১২ মিটার দৈঘ্যের সেতুটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৮২ দশমিক ৫৭ কোটি রুপি।নির্মাণকাজ শেষ হলে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবব্রুম মহকুমায় সংযোগ স্থাপিত হবে।

ভারত সরকারে অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি চালু হলে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যসহ মেঘালয়, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচলের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হলে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী সেতুটি উদ্বোধন করবেন।