বাঁশখালীতে পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিংবাজিতে অতিষ্ট জনজীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২০ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন, বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ৯৬ হাজার পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকের অতিষ্টতার যেন অন্ত নেই। ওই অঞ্চলে পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিং বাজিও বিদ্যুত সরবরাহ ব্যতীত বিরতিহীন মিটার রিডিং- কারামতি নৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রতিদিনই বিদ্যুৎতের লুকোচুরিতেই জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত। সভ্যতার চরম উৎকর্ষতায় কখনো বিদ্যুৎতের চরম হেয়ালীপনা থেকে রেহায় পায়নি বাঁশখালীবাসী। রাত আর দিন বলে নেই কোন তফাৎ, বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকলেও মাসিক মিটার রিডিং-এ নেই কোন কমতি। পুরো বছর জুড়েই বিদ্যুতের লুকোচুরি থাকে অস্বভাবিকভাবে। বিদ্যুৎতের এহেন লুকোচুরি খেলায় মারাত্মকভাবে অস্বস্তিতে দিনযাপন করছেন বাঁশখালীর সাধারণ মানুষ। রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকে বললেই চলে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্তত ১৫/২০ বার এমনকি তারও বেশি বিদ্যুৎতের লুকোচুরি হয় দীর্ঘসময় ধরে। সামান্য বৃষ্টিপাতে এবং হালকা বাতাসেও বিদ্যুৎ চলে যায় দীর্ঘ বিরতীতে।

সপ্তাহের শুক্রবার কখনো নোটিশে আবার কখনো গাছকাঁটার নামে বিনা নোটিশে পুরোদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখাসহ নানান তালবাহনাতেই গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার চলচাতরীতেই মাস গণনা করছে বাঁশখালী উপজেলার পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তারা। পুরো বছর জুড়েই গাছকাঁটা যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সোস্যাল এক্টিভিটিসদের মতে, বর্তমানে বাঁশখালীর এক নম্বর সমস্যা এখন পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিং বাজি।

মিটার রিডিং মিটারেই সীমাবদ্ধ রেখে অতিরিক্ত রিডিং দেখিয়ে করা হচ্ছে ভূতুড়ে বিল,বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকলেও মিটারের  রিডিং-যে মাসের শেষে গিয়ে বেশি হয়ে যায় সেই অলৌকিকতায়ও সাধারণ মানুষ চরমভাবে বিস্মিত।তার মানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়াও মিটার রিডিং- যে ঘুুুরতেই থাকে পল্লীবিদ্যুতের একেমন কারামতি? বিদ্যুৎ সংযোগের নামে দালালদের দৌরাত্ম্যেরও শেষ নেই, দালালদের রোড টু রোড সম্পর্ক রয়েছে সংশ্লীষ্ট কর্মকর্তাদের, দালালদের মোটা অংকের টাকা দিলেই মিটার মিলে কম সময়ে অন্যতায় মাসের পর মাস গুনতে হয় অপেক্ষার সময়,দালালদের মাধ্যমে জমাকৃত অনেক মিটার ডকুমেন্ট’সে(বিলের কাগজে)গ্রাহকদের নাম- পিতার নাম ও ঠিকানাসহ নানান ভুলে ভরপুর এমন আভিযোগও গ্রাহকদের।ঘনঘন লোডশেডিং এর কারণে বাড়ির নিত্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এমনও অভিযোগ করেছেন বাঁশখালী পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকের।

উল্লেখ্য, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলেও মিটার ভাড়া ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি নির্ধারিত মূল্যে এমন অভিযোগও  ভূক্তভোগীদের। দিনের এক-তৃতীয়াংশ সময় বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও প্রতিমাসেই অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে।বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়াও মিটার রিডিং চলমান থাকে কিভাবে তা নিয়েও কত প্রশ্ন অভিযোগকারীদের , সংযোগ পরীক্ষা করার নামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহকদের সাথে নগ্ন প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছে এমনকি নাম্বার উঠেনা এমন মিটার দিয়ে আইডিয়া(মনগড়া)করেই বিল তৈরি করে বলে   জানান গ্রাহকেরা।

বিশেষ করে সরকারী বেসরকারী অফিসের কাজ, পড়াশুনা, গৃহস্থলির কাজ, চিকিৎসা সেবা, ব্যবসা-বানিজ্যসহ সকল মানবিক কাজেও অসম্ভব ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে লোডশেডিংবাজিতে।বিদ্যুৎ নির্ভর বাসস্থানগুলোর আলো-বাতাস-পানি বন্ধ থাকার মত অনাকাংখিত ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে পড়ছেন বিদ্যুতের গ্রাহক ও ভুক্তভোগীরা। ঘনঘন লোডশেডিং যখন নিত্য রুটিনে পরিণত হয়েছে তখন উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে অনেকে দু’টাকার ম্যাচ নিয়ে এক কাঠিতে এগিয়ে আছে। ঘরে ঘরে, সোলার সিষ্টেম, আইপিএস, জেনারেটর, চার্জার লাইট-ফ্যান, মোমবাতি, কেরোসিন নিয়ে প্রস্তুত থাকেন বাঁশখালী পৌরসভাসহ স্বচ্ছল পরিবার গুলো।
পল্লীবিদ্যুতের স্বেচ্ছাচারিতাকে অনেকেই নিরীহভাবে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভূক্তভোগীদের অনেকে বলেন  তারা সংশ্লীষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি বার বার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও মিলছেনা কোন সমাধান। লকডাউনে স্কুল-মাদরাসা বন্ধ রয়েছে। দিনেরাতে সমানতালে লোডশেডিং থাকায় স্কুল মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পড়াশুনার ক্ষতি করছে। এসব অসঙ্গতি ও নির্বিচার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় এটা স্পষ্ট যে, এই দেশে কোনদিনই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে না। উপজেলার মানুষ কি বিদ্যুৎ-এর অনবরত লোডশেডিং এর কবল থেকে রেহাই পাবেনা? এমন প্রশ্ন উঠে আসে সচেতন মহল থেকে।

বাঁশখালী পল্লীবিদ্যুৎ অফিসসূত্রে জানা যায়, আবাসিক-অনাবাসিক সহ প্রায় ৯৬ হাজার গ্রাহকদের সেবা দিতে চট্টগ্রাম পল্লীবিদ্যুৎ সমিটি-১ জোনাল অফিস, সাব স্টেশন ৪ টিসহ মিলে ৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি আছে, যা চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল। তাছাড়া দোহাজারী থেকে সাতকানিয়া হয়ে দীর্ঘ ৪৬ কি.মি অতিক্রম করে বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ আসে। সড়কে গাছপালা থাকার কারণে অব্যবস্থাপনার ফলে বৃষ্টি-বাদলের সময় সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে।

বাঁশখালী পল্লীবিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশখালীতে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত লোড বেড়ে যাওয়াতে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।

তাছাড়া আমরা চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছিনা। বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনগুলো গাছপালার সাথে থাকাতে ঝড়বৃষ্টির সময় ও বাতাসে ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে। এতে সাময়িক অসুবিধার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়। দোহাজারী থেকে সাতকানিয়া হয়ে বিদ্যুৎ বাঁশখালীতে আসাতে ওখানেও কোন সমস্যা হলে তার প্রভাবও বাঁশখালীতে পড়ে, এক কথায় লোডশেডিংবাজি ও দালালদের দৌরাত্ম্য, বিদ্যুত সরবরাহ ছাড়া মোটা বিদ্যুত বিল সহ নানা ধরনের অনিয়মে যেন জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঁশখালীতে পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিংবাজিতে অতিষ্ট জনজীবন

আপডেট সময় : ০৫:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২০

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন, বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ৯৬ হাজার পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকের অতিষ্টতার যেন অন্ত নেই। ওই অঞ্চলে পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিং বাজিও বিদ্যুত সরবরাহ ব্যতীত বিরতিহীন মিটার রিডিং- কারামতি নৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রতিদিনই বিদ্যুৎতের লুকোচুরিতেই জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত। সভ্যতার চরম উৎকর্ষতায় কখনো বিদ্যুৎতের চরম হেয়ালীপনা থেকে রেহায় পায়নি বাঁশখালীবাসী। রাত আর দিন বলে নেই কোন তফাৎ, বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকলেও মাসিক মিটার রিডিং-এ নেই কোন কমতি। পুরো বছর জুড়েই বিদ্যুতের লুকোচুরি থাকে অস্বভাবিকভাবে। বিদ্যুৎতের এহেন লুকোচুরি খেলায় মারাত্মকভাবে অস্বস্তিতে দিনযাপন করছেন বাঁশখালীর সাধারণ মানুষ। রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকে বললেই চলে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্তত ১৫/২০ বার এমনকি তারও বেশি বিদ্যুৎতের লুকোচুরি হয় দীর্ঘসময় ধরে। সামান্য বৃষ্টিপাতে এবং হালকা বাতাসেও বিদ্যুৎ চলে যায় দীর্ঘ বিরতীতে।

সপ্তাহের শুক্রবার কখনো নোটিশে আবার কখনো গাছকাঁটার নামে বিনা নোটিশে পুরোদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখাসহ নানান তালবাহনাতেই গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার চলচাতরীতেই মাস গণনা করছে বাঁশখালী উপজেলার পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তারা। পুরো বছর জুড়েই গাছকাঁটা যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সোস্যাল এক্টিভিটিসদের মতে, বর্তমানে বাঁশখালীর এক নম্বর সমস্যা এখন পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিং বাজি।

মিটার রিডিং মিটারেই সীমাবদ্ধ রেখে অতিরিক্ত রিডিং দেখিয়ে করা হচ্ছে ভূতুড়ে বিল,বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকলেও মিটারের  রিডিং-যে মাসের শেষে গিয়ে বেশি হয়ে যায় সেই অলৌকিকতায়ও সাধারণ মানুষ চরমভাবে বিস্মিত।তার মানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়াও মিটার রিডিং- যে ঘুুুরতেই থাকে পল্লীবিদ্যুতের একেমন কারামতি? বিদ্যুৎ সংযোগের নামে দালালদের দৌরাত্ম্যেরও শেষ নেই, দালালদের রোড টু রোড সম্পর্ক রয়েছে সংশ্লীষ্ট কর্মকর্তাদের, দালালদের মোটা অংকের টাকা দিলেই মিটার মিলে কম সময়ে অন্যতায় মাসের পর মাস গুনতে হয় অপেক্ষার সময়,দালালদের মাধ্যমে জমাকৃত অনেক মিটার ডকুমেন্ট’সে(বিলের কাগজে)গ্রাহকদের নাম- পিতার নাম ও ঠিকানাসহ নানান ভুলে ভরপুর এমন আভিযোগও গ্রাহকদের।ঘনঘন লোডশেডিং এর কারণে বাড়ির নিত্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এমনও অভিযোগ করেছেন বাঁশখালী পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকের।

উল্লেখ্য, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলেও মিটার ভাড়া ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি নির্ধারিত মূল্যে এমন অভিযোগও  ভূক্তভোগীদের। দিনের এক-তৃতীয়াংশ সময় বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও প্রতিমাসেই অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে।বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়াও মিটার রিডিং চলমান থাকে কিভাবে তা নিয়েও কত প্রশ্ন অভিযোগকারীদের , সংযোগ পরীক্ষা করার নামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহকদের সাথে নগ্ন প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছে এমনকি নাম্বার উঠেনা এমন মিটার দিয়ে আইডিয়া(মনগড়া)করেই বিল তৈরি করে বলে   জানান গ্রাহকেরা।

বিশেষ করে সরকারী বেসরকারী অফিসের কাজ, পড়াশুনা, গৃহস্থলির কাজ, চিকিৎসা সেবা, ব্যবসা-বানিজ্যসহ সকল মানবিক কাজেও অসম্ভব ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে লোডশেডিংবাজিতে।বিদ্যুৎ নির্ভর বাসস্থানগুলোর আলো-বাতাস-পানি বন্ধ থাকার মত অনাকাংখিত ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে পড়ছেন বিদ্যুতের গ্রাহক ও ভুক্তভোগীরা। ঘনঘন লোডশেডিং যখন নিত্য রুটিনে পরিণত হয়েছে তখন উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে অনেকে দু’টাকার ম্যাচ নিয়ে এক কাঠিতে এগিয়ে আছে। ঘরে ঘরে, সোলার সিষ্টেম, আইপিএস, জেনারেটর, চার্জার লাইট-ফ্যান, মোমবাতি, কেরোসিন নিয়ে প্রস্তুত থাকেন বাঁশখালী পৌরসভাসহ স্বচ্ছল পরিবার গুলো।
পল্লীবিদ্যুতের স্বেচ্ছাচারিতাকে অনেকেই নিরীহভাবে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভূক্তভোগীদের অনেকে বলেন  তারা সংশ্লীষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি বার বার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও মিলছেনা কোন সমাধান। লকডাউনে স্কুল-মাদরাসা বন্ধ রয়েছে। দিনেরাতে সমানতালে লোডশেডিং থাকায় স্কুল মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পড়াশুনার ক্ষতি করছে। এসব অসঙ্গতি ও নির্বিচার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় এটা স্পষ্ট যে, এই দেশে কোনদিনই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে না। উপজেলার মানুষ কি বিদ্যুৎ-এর অনবরত লোডশেডিং এর কবল থেকে রেহাই পাবেনা? এমন প্রশ্ন উঠে আসে সচেতন মহল থেকে।

বাঁশখালী পল্লীবিদ্যুৎ অফিসসূত্রে জানা যায়, আবাসিক-অনাবাসিক সহ প্রায় ৯৬ হাজার গ্রাহকদের সেবা দিতে চট্টগ্রাম পল্লীবিদ্যুৎ সমিটি-১ জোনাল অফিস, সাব স্টেশন ৪ টিসহ মিলে ৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি আছে, যা চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল। তাছাড়া দোহাজারী থেকে সাতকানিয়া হয়ে দীর্ঘ ৪৬ কি.মি অতিক্রম করে বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ আসে। সড়কে গাছপালা থাকার কারণে অব্যবস্থাপনার ফলে বৃষ্টি-বাদলের সময় সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে।

বাঁশখালী পল্লীবিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশখালীতে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত লোড বেড়ে যাওয়াতে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।

তাছাড়া আমরা চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছিনা। বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনগুলো গাছপালার সাথে থাকাতে ঝড়বৃষ্টির সময় ও বাতাসে ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে। এতে সাময়িক অসুবিধার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়। দোহাজারী থেকে সাতকানিয়া হয়ে বিদ্যুৎ বাঁশখালীতে আসাতে ওখানেও কোন সমস্যা হলে তার প্রভাবও বাঁশখালীতে পড়ে, এক কথায় লোডশেডিংবাজি ও দালালদের দৌরাত্ম্য, বিদ্যুত সরবরাহ ছাড়া মোটা বিদ্যুত বিল সহ নানা ধরনের অনিয়মে যেন জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত।