বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি ড: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১ ৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রবিবার বিকেলে তিনি বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিক মাহমুদ রেজার বাড়িতে যান, এসময় সাংবাদিকদের বলেন,এ ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ, নিহত ব্যক্তিরা বেঁচে থাকলে আরও ৪০ বছর কাজ করতে পারতেন।

এস আলম কোম্পানি ও চায়না সেফকো’র যৌথভাবে গণ্ডামারায় নির্মাধীন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পক্ষে-বিপক্ষে নিয়ে বিগত ২০১৬ সালের ৪ঠা এপ্রিল পুলিশের গুলিতে ৪ জন নিহত হাওয়া শহীদদের রক্তের দাগ মাটি থেকে না শুকাতেই পাঁচ বছরের মাথায় নিরীহ শ্রমিকের বুকে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পাখির মতো আরো ৭ শ্রমিক হত্যা করা সত্যিই ন্যাক্কারজনক।

নিহত শ্রমিকদের জন্য পেনশন দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের নির্লিপ্ততায় ২০১৬ সাল থেকে প্রকল্পটিতে এ রকম খুনের ঘটনা শুরু হলেও সরকার যত্নবান ছিলো না।
তার দাবি, ঘটনার দিন পুলিশের সঙ্গে হেলমেট বাহিনীরা কারা? মাথায় শ্রমিকের হেলমেট আর পরনে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত ও পায়ে শ্রমিকের জুতা পরে পুলিশের সাথে স্বসস্ত্র হাতে নিয়ে নিরীহ শ্রমিকদের বুকে গুলি চালানোর এ্যাকশানে এরা কারা ছিলো? তাছাড়া সেইদিন পুলিশের গুলিতে নিহত অনেক শ্রমিকের লাশ বালি চাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে সুতরাং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। বিচারপতির নেতৃত্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটন করতে হবে। এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবিও জানান তিনি।

ডঃ জাফরুল্লাহ’র গণ্ডামারায় পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হতাহতের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি যথাযথ হলেও নিহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকার দাবী হাইকোর্ট রীটের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফত, রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক হাসনাত মারুফ কাইউম প্রমুখ।

ওই দিন বেলা আড়াইটায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রধান সমন্বয়কারী ফারুক আহমেদ ও বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবিরের সঙ্গে কথা বলেন।

ওই সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফটকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সব পুলিশ জনগণের শত্রু নয়, সরকার যে মুখ বন্ধ করে দিয়েছে, চাপটা পুলিশের ওপরও আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভীতসন্ত্রস্ত, তারা কথা বলতে রাজি নয়, তাঁরাও এক ধরনের জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুপুরে গন্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশাপাশি ২০০ পরিবারকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে খাদ্যসহায়তাও প্রদান করেন তাঁরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি ড: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

আপডেট সময় : ০৭:১৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রবিবার বিকেলে তিনি বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিক মাহমুদ রেজার বাড়িতে যান, এসময় সাংবাদিকদের বলেন,এ ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ, নিহত ব্যক্তিরা বেঁচে থাকলে আরও ৪০ বছর কাজ করতে পারতেন।

এস আলম কোম্পানি ও চায়না সেফকো’র যৌথভাবে গণ্ডামারায় নির্মাধীন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পক্ষে-বিপক্ষে নিয়ে বিগত ২০১৬ সালের ৪ঠা এপ্রিল পুলিশের গুলিতে ৪ জন নিহত হাওয়া শহীদদের রক্তের দাগ মাটি থেকে না শুকাতেই পাঁচ বছরের মাথায় নিরীহ শ্রমিকের বুকে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পাখির মতো আরো ৭ শ্রমিক হত্যা করা সত্যিই ন্যাক্কারজনক।

নিহত শ্রমিকদের জন্য পেনশন দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের নির্লিপ্ততায় ২০১৬ সাল থেকে প্রকল্পটিতে এ রকম খুনের ঘটনা শুরু হলেও সরকার যত্নবান ছিলো না।
তার দাবি, ঘটনার দিন পুলিশের সঙ্গে হেলমেট বাহিনীরা কারা? মাথায় শ্রমিকের হেলমেট আর পরনে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত ও পায়ে শ্রমিকের জুতা পরে পুলিশের সাথে স্বসস্ত্র হাতে নিয়ে নিরীহ শ্রমিকদের বুকে গুলি চালানোর এ্যাকশানে এরা কারা ছিলো? তাছাড়া সেইদিন পুলিশের গুলিতে নিহত অনেক শ্রমিকের লাশ বালি চাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে সুতরাং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। বিচারপতির নেতৃত্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটন করতে হবে। এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবিও জানান তিনি।

ডঃ জাফরুল্লাহ’র গণ্ডামারায় পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হতাহতের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি যথাযথ হলেও নিহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকার দাবী হাইকোর্ট রীটের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফত, রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক হাসনাত মারুফ কাইউম প্রমুখ।

ওই দিন বেলা আড়াইটায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রধান সমন্বয়কারী ফারুক আহমেদ ও বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবিরের সঙ্গে কথা বলেন।

ওই সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফটকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সব পুলিশ জনগণের শত্রু নয়, সরকার যে মুখ বন্ধ করে দিয়েছে, চাপটা পুলিশের ওপরও আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভীতসন্ত্রস্ত, তারা কথা বলতে রাজি নয়, তাঁরাও এক ধরনের জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুপুরে গন্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশাপাশি ২০০ পরিবারকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে খাদ্যসহায়তাও প্রদান করেন তাঁরা।