বাংলাদেশের একটি মানুষ কষ্ট পেলে বাবার আত্মা কষ্ট পাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের একটি মানুষ কষ্ট পেলে বাবার আত্মা কষ্ট পাবে: প্রধানমন্ত্রী

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের একটি মানুষও যদি কষ্ট পায় আমি জানি আমার বাবার আত্মা কষ্ট পাবে। কাজেই আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে করে এদেশের প্রতিটা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।’

প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও এটাই মনে রাখতে হবে যে, আমাদের পূর্বসূরীরা যেভাবে আত্মত্যাগ করে গেছেন ঠিক প্রত্যেক নেতাকর্মীকে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলতে হবে।’

তিনি এ সময় ভোট দিয়ে তার সরকারকে নির্বাচিত করায় দেশের উন্নয়নের গতিধারাটা অব্যাহত রাখতে পেরেছেন উল্লেখ করে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানাই যারা আওয়ামী লীগের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন, ভোট দিয়েছেন, নির্বাচিত করেছেন, বার বার নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ আমাদেরকে দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই এই উন্নয়ন আজকে আমরা করতে পেরেছি।’

তিনি এ সময় কোনোভাবে কোনো আত্ম অহংকারকে মনের মধ্যে ঠাঁই না দেওয়ার জন্য দলের অগণিত নেতাকর্মীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমরা অহমিকা করব না, মাটির সঙ্গে মিশে চলব। মানুষের সঙ্গে মিশে চলব। কিন্তু দেশের মানুষের যেন কল্যাণ হয় এবং বাংলাদেশের মানুষ যেন আন্তর্জাতিভাবে মর্যাদা নিয়ে সম্মানের সঙ্গে চলতে পারে দেশকে আমরা সেইভাবে গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ৭০ বছরে যে সংগ্রামের ইতিহাস এবং যে অর্জন, সেই অর্জনের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ আজ উজ্জ্বল।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীদের ওপর বার বার আঘাত এসেছে, ১৯৪৮, ’৫২ এবং ’৫৪ সালে যখন ৯২ ক ধারা দিয়ে যুক্তফ্রণ্টের মন্ত্রিসভা বাতিল করা হলো তখন বঙ্গবন্ধুসহ সব নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হলেন। এরপর ৫৮ সালে মার্শাল ল’ এলেও সবার আগে আঘাত আসলো আওয়ামী লীগের ওপর। প্রতিটি বার আওয়ামী লীগ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পাশাপাশি এই আওয়ামী লীগ কর্মীরাই জাতির পিতার বক্তব্যকে হৃদয়ে ধারণ করে নিজের জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে জীবন পর্যন্ত দিয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস যদি দেখি আমার মনে হয় না কোনো রাজনৈতিক দল একটা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এতটা আত্মত্যাগ করেছে, যতটা আওয়ামী লীগ করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এতটা নির্যাতন সহ্য করেছে যা আর কেউ করেনি।

তিনি বলেন, বিএনপি’র দুর্নীতি, খালেদা জিয়ার এতিমের অর্থ আত্মস্যাৎ, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও বাংলাভাই সৃষ্টি, সারাদেশে একযোগে ৫শ’ স্থানে বোমা হামলা, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, সংসদ সদস্য শাহ এএমএস কিবরিয়া এবং আহসানউলাহ মাষ্টার হত্যাকাণ্ড, হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি এবং মানুষের সম্পদ লুট করে খাওয়া, স্বজনপ্রীতি এবং তাদের দুঃশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর আওয়ামী লীগ সরকারে আসলে দেশের উন্নতি হয়, বাংলার মানুষ কিছু পায়- যেটা প্রমাণিত সত্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের একটি মানুষ কষ্ট পেলে বাবার আত্মা কষ্ট পাবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯

বাংলাদেশের একটি মানুষ কষ্ট পেলে বাবার আত্মা কষ্ট পাবে: প্রধানমন্ত্রী

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের একটি মানুষও যদি কষ্ট পায় আমি জানি আমার বাবার আত্মা কষ্ট পাবে। কাজেই আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে করে এদেশের প্রতিটা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।’

প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও এটাই মনে রাখতে হবে যে, আমাদের পূর্বসূরীরা যেভাবে আত্মত্যাগ করে গেছেন ঠিক প্রত্যেক নেতাকর্মীকে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলতে হবে।’

তিনি এ সময় ভোট দিয়ে তার সরকারকে নির্বাচিত করায় দেশের উন্নয়নের গতিধারাটা অব্যাহত রাখতে পেরেছেন উল্লেখ করে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানাই যারা আওয়ামী লীগের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন, ভোট দিয়েছেন, নির্বাচিত করেছেন, বার বার নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ আমাদেরকে দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই এই উন্নয়ন আজকে আমরা করতে পেরেছি।’

তিনি এ সময় কোনোভাবে কোনো আত্ম অহংকারকে মনের মধ্যে ঠাঁই না দেওয়ার জন্য দলের অগণিত নেতাকর্মীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমরা অহমিকা করব না, মাটির সঙ্গে মিশে চলব। মানুষের সঙ্গে মিশে চলব। কিন্তু দেশের মানুষের যেন কল্যাণ হয় এবং বাংলাদেশের মানুষ যেন আন্তর্জাতিভাবে মর্যাদা নিয়ে সম্মানের সঙ্গে চলতে পারে দেশকে আমরা সেইভাবে গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ৭০ বছরে যে সংগ্রামের ইতিহাস এবং যে অর্জন, সেই অর্জনের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ আজ উজ্জ্বল।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীদের ওপর বার বার আঘাত এসেছে, ১৯৪৮, ’৫২ এবং ’৫৪ সালে যখন ৯২ ক ধারা দিয়ে যুক্তফ্রণ্টের মন্ত্রিসভা বাতিল করা হলো তখন বঙ্গবন্ধুসহ সব নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হলেন। এরপর ৫৮ সালে মার্শাল ল’ এলেও সবার আগে আঘাত আসলো আওয়ামী লীগের ওপর। প্রতিটি বার আওয়ামী লীগ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পাশাপাশি এই আওয়ামী লীগ কর্মীরাই জাতির পিতার বক্তব্যকে হৃদয়ে ধারণ করে নিজের জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে জীবন পর্যন্ত দিয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস যদি দেখি আমার মনে হয় না কোনো রাজনৈতিক দল একটা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এতটা আত্মত্যাগ করেছে, যতটা আওয়ামী লীগ করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এতটা নির্যাতন সহ্য করেছে যা আর কেউ করেনি।

তিনি বলেন, বিএনপি’র দুর্নীতি, খালেদা জিয়ার এতিমের অর্থ আত্মস্যাৎ, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও বাংলাভাই সৃষ্টি, সারাদেশে একযোগে ৫শ’ স্থানে বোমা হামলা, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, সংসদ সদস্য শাহ এএমএস কিবরিয়া এবং আহসানউলাহ মাষ্টার হত্যাকাণ্ড, হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি এবং মানুষের সম্পদ লুট করে খাওয়া, স্বজনপ্রীতি এবং তাদের দুঃশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর আওয়ামী লীগ সরকারে আসলে দেশের উন্নতি হয়, বাংলার মানুষ কিছু পায়- যেটা প্রমাণিত সত্য।