বৃষ্টিতেও চলছে উখিয়ায় সড়কের উন্নয়নকাজ, দীর্ঘায়িত হচ্ছে জনদুর্ভোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া:
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে উখিয়া টেকনাফ সড়কে চলমান সড়ক সম্প্রসারণ উন্নয়ন কাজে ধীরগতি ও ভারী বর্ষণের সময় সড়কে রিজিড টেভমেন্ট (ঢালাই) সড়কের মাঝখানে বিদ্যমান বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ জংধরা নির্মাণসামগ্রী নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়নকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার উর্ধ্বে থেকে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে হবে। যেহেতু যে দুটি প্যাকেজে কাজ চলছে সেগুলো অত্যন্ত জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান বিধায় গুনগত মান সম্পন্ন উন্নয়ন কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার লিংক রোড থেকে উখিয়ায় নবনির্মিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজে নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সালেহ বাবুল ২০১৮ সালে কার্যাদেশ মোতাবেক কাজ শুরু করেন। প্রথম প্যাকেজের মরিচ্যা কিছু অংশ ও কোটবাজারসহ উখিয়ার আংশিক কাজ সম্পন্ন করে বাকিকাজ ফেলে রাখে।

দীর্ঘসূত্রতার কারণে সড়ক উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় খানাখন্দকে সৃষ্টি হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে পাশাপাশি সংকুচিত সড়কে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দিনের অধিকাংশ সময় যানজট লেগে থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন থেকে চলমান সড়কের উন্নয়নকাজ প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে জানা যায়, বৃষ্টির পানির উপর ঢালাই করা হচ্ছে। উখিয়া সদর জিপ মাইক্রো, বাস মিনিবাস মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো জানান, তিনিও একজন ঠিকাদারি কাজ করে থাকেন। যেধরনের উন্নয়নকাজ সড়কে চলছে তা কোন দিন মানসম্পন্ন হতে পারে না দাবি করে ওই শ্রমিক নেতা বলেন, বৃষ্টিতে সড়কে ঢালাই ও জংধরা নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলা রাখা সিমেন্ট বালি কংক্রিট প্রভৃতি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও উক্ত উন্নয়ন কাজ কোনদিন টেকসই হতে পারে না এমন অভিযোগ উত্থাপন করতে দেখা গেছে।

যানবাহন শ্রমিক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পর মানবতার শহর উখিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক যোগাযোগে দৃশ্যমান উন্নয়নযোগ করেছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প। এখন কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কজুড়ে উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত হচ্ছে ধীরগতিতে। যদিও উখিয়ায় যানজটে ও খানাখন্দকে পরিপূর্ণ সড়কে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। এরপরেও মানুষ অসহায়ের মতো অপারগ পক্ষে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। যানজট নিরসন, স্বস্তিদায়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নির্মাণকাজ দিনরাত বিরতিহীনভাবে চলার কথা থাকলেও তা স্বপ্নের শামিল। ব্যস্ত নাগরিক জীবনকে আরও সহজ ও আধুনিকতায় পরিপূর্ণ করতে সরকার কাজ করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এব্যাপারে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সড়কে চলমান উন্নয়ন কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা জলিল আহমদ জানান, বৃষ্টির সময় কাজ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া সড়কের বিভিন্নস্থানে যেসমস্ত বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে ওইসব খুঁটি অন্যত্রে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুতের সাথে চুক্তি হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটি সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বৃষ্টিতেও চলছে উখিয়ায় সড়কের উন্নয়নকাজ, দীর্ঘায়িত হচ্ছে জনদুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া:
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে উখিয়া টেকনাফ সড়কে চলমান সড়ক সম্প্রসারণ উন্নয়ন কাজে ধীরগতি ও ভারী বর্ষণের সময় সড়কে রিজিড টেভমেন্ট (ঢালাই) সড়কের মাঝখানে বিদ্যমান বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ জংধরা নির্মাণসামগ্রী নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়নকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার উর্ধ্বে থেকে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে হবে। যেহেতু যে দুটি প্যাকেজে কাজ চলছে সেগুলো অত্যন্ত জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান বিধায় গুনগত মান সম্পন্ন উন্নয়ন কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার লিংক রোড থেকে উখিয়ায় নবনির্মিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নকাজে নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সালেহ বাবুল ২০১৮ সালে কার্যাদেশ মোতাবেক কাজ শুরু করেন। প্রথম প্যাকেজের মরিচ্যা কিছু অংশ ও কোটবাজারসহ উখিয়ার আংশিক কাজ সম্পন্ন করে বাকিকাজ ফেলে রাখে।

দীর্ঘসূত্রতার কারণে সড়ক উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় খানাখন্দকে সৃষ্টি হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে পাশাপাশি সংকুচিত সড়কে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দিনের অধিকাংশ সময় যানজট লেগে থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন থেকে চলমান সড়কের উন্নয়নকাজ প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে জানা যায়, বৃষ্টির পানির উপর ঢালাই করা হচ্ছে। উখিয়া সদর জিপ মাইক্রো, বাস মিনিবাস মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো জানান, তিনিও একজন ঠিকাদারি কাজ করে থাকেন। যেধরনের উন্নয়নকাজ সড়কে চলছে তা কোন দিন মানসম্পন্ন হতে পারে না দাবি করে ওই শ্রমিক নেতা বলেন, বৃষ্টিতে সড়কে ঢালাই ও জংধরা নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলা রাখা সিমেন্ট বালি কংক্রিট প্রভৃতি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও উক্ত উন্নয়ন কাজ কোনদিন টেকসই হতে পারে না এমন অভিযোগ উত্থাপন করতে দেখা গেছে।

যানবাহন শ্রমিক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পর মানবতার শহর উখিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক যোগাযোগে দৃশ্যমান উন্নয়নযোগ করেছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প। এখন কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কজুড়ে উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত হচ্ছে ধীরগতিতে। যদিও উখিয়ায় যানজটে ও খানাখন্দকে পরিপূর্ণ সড়কে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। এরপরেও মানুষ অসহায়ের মতো অপারগ পক্ষে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। যানজট নিরসন, স্বস্তিদায়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নির্মাণকাজ দিনরাত বিরতিহীনভাবে চলার কথা থাকলেও তা স্বপ্নের শামিল। ব্যস্ত নাগরিক জীবনকে আরও সহজ ও আধুনিকতায় পরিপূর্ণ করতে সরকার কাজ করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এব্যাপারে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সড়কে চলমান উন্নয়ন কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা জলিল আহমদ জানান, বৃষ্টির সময় কাজ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া সড়কের বিভিন্নস্থানে যেসমস্ত বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে ওইসব খুঁটি অন্যত্রে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুতের সাথে চুক্তি হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটি সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।