ব্যর্থতার কাছে হেরে গিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ মার্চ ২০২১ ৫ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুহাম্মদ রায়হান আদনান
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধিঃ

খাগড়াছড়ির রামগড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে নাইমুল হাসান মিশন নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সকালে শোবার ঘর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। এ সময় একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়।

নাইমুল হাসান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি খাগড়াছড়ির রামগড়ের ফেনীর কুল এলাকার সেনাবাহিনীর সদস্য মোহাম্মদ কামাল উদ্দীনের বড় ছেলে। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ্য ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফেরেন মিশন। রাতের খাবার খেয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে যান তিনি। সকালে তার কক্ষের দরজা না খোলায় তার ছোট ভাই জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে মিশনকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে রুমে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ নামিয়ে আনে।

উদ্ধার করা সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই। তাই আমি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। ডারউইন বলেছিলেন ‘Survival for fittest. but i not even fit’, আমার জন্য কেউ কখনো যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে মাফ করে দিয়েন। আম্মু আমাকে মাফ করে দিয়েন। লিমনের (ছোট ভাই) খেয়াল রাখিয়েন। আব্বু আমাকে সফল করার জন্য অনেক কিছু সহ্য করেছেন। আমি পারিনি। তাই আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এ দুনিয়া আমার জন্য না। পারলে সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন। বিদায়।’

মিশনের পরিবারের সদস্যরা জানান, মিশন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বেশ কয়েকবার চিকিৎসাও করানো হয়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বিষন্নতা ও হতাশায় ভুগছিলেন।

এদিকে, মিশনের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে পুরো এলাকায়। তিনি খুবই মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে ভর্তি হবার কিছু দিন পর থেকে তিনি বিষন্নতায় ও হতাশায় ভুগতে থাকেন।

রামগড় থানার এসআই অজয় চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহত শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে তার পরিবার জানায়। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়িতে পাঠানো হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ব্যর্থতার কাছে হেরে গিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ মার্চ ২০২১

মুহাম্মদ রায়হান আদনান
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধিঃ

খাগড়াছড়ির রামগড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে নাইমুল হাসান মিশন নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সকালে শোবার ঘর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। এ সময় একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়।

নাইমুল হাসান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি খাগড়াছড়ির রামগড়ের ফেনীর কুল এলাকার সেনাবাহিনীর সদস্য মোহাম্মদ কামাল উদ্দীনের বড় ছেলে। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ্য ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফেরেন মিশন। রাতের খাবার খেয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে যান তিনি। সকালে তার কক্ষের দরজা না খোলায় তার ছোট ভাই জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে মিশনকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে রুমে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ নামিয়ে আনে।

উদ্ধার করা সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই। তাই আমি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। ডারউইন বলেছিলেন ‘Survival for fittest. but i not even fit’, আমার জন্য কেউ কখনো যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে মাফ করে দিয়েন। আম্মু আমাকে মাফ করে দিয়েন। লিমনের (ছোট ভাই) খেয়াল রাখিয়েন। আব্বু আমাকে সফল করার জন্য অনেক কিছু সহ্য করেছেন। আমি পারিনি। তাই আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এ দুনিয়া আমার জন্য না। পারলে সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন। বিদায়।’

মিশনের পরিবারের সদস্যরা জানান, মিশন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বেশ কয়েকবার চিকিৎসাও করানো হয়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বিষন্নতা ও হতাশায় ভুগছিলেন।

এদিকে, মিশনের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে পুরো এলাকায়। তিনি খুবই মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে ভর্তি হবার কিছু দিন পর থেকে তিনি বিষন্নতায় ও হতাশায় ভুগতে থাকেন।

রামগড় থানার এসআই অজয় চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহত শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে তার পরিবার জানায়। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়িতে পাঠানো হবে।’