রাউজানের চা বিক্রেতা মুসল্লিদের জন্য বাঁশ দিয়ে তৈরি করলেন সাঁকো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাসুদা আকতার তিশা
মসজিদে যাওয়ার জন্য সাধারণ বাশ দিয়ে মাত্র ২০ দিনে বিনা পারিশ্রমিকে সাঁকো তৈরি করলেন চট্টগ্রাম রাউজানের চা বিক্রেতা মোহাম্মদ ফজল।

মূলত এই যাতায়াতের জায়গা দিয়ে অল্প কিছু মানুষ যাতায়াত করেন। এবং কোনো সময় কোনো মানুষ মারা গেলে দাফন ও জানাজা এবং যিয়ারতের জন্য এ ব্রিজটি তারা ব্যবহার করেন।

মানুষের যাতায়াতের সমস্যা হওয়াতে মোহাম্মদ ফজল এই পর্যন্ত তার কষ্টার্যিত টাকাই দুইবার বাঁশ দিয়ে সে এ ব্রিজ নির্মাণ করেন।

অথচ এলাকায় ফজলের চেয়েও অনেক বড় বড় টাকাপয়সা ওয়ালা মানুষ বসবাস করেন। তাদের স্বপ্ন আরো টাকার পাহাড় গড়া। তবে ফজল তার ব্যতিক্রমি। একজন মানুষ যে নিজের সংসার চালাতে হিমশিম খায় সে আজ নিজের এলাকার মানুষের জন্য নিজের টাকাই সেতু বানিয়ে দেখিয়ে দিলেন সৎ কাজ মানুষকে দুনিয়ায় লোভ-লালসা থেকে দূরে রাখেন।

ব্রিজ নির্মাতা মোহাম্মদ ফজল বলেন এ ব্রিজ দিয়ে কিছু মানুষ যাতায়াত করে মসজিদে নামাজ পড়তে,কিছু মানুষ যাতায়াত করে কবরস্থানে যেতে।

তিনি আরো বলেন “আমার মতো যদি বাকিরাও এগিয়ে আসে দেশে কোনো দুর্নীতি থাকবেনা,ভালো কাজ করুন এবং ভালো কাজে সকলকে উদ্ভুদ্ধ করুন”। তিনি এ ব্রিজ নির্মাণ করতে গিয়ে তার হাতে এবং চোখে ব্যথা পেলেও তার কিছু বলার নাই। তার একটাই চাওয়া তার মতো সকলে এগিয়ে আসুক।

সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু লোভী মানুষ তাদের নজর সরকারের টাকার ওপর, দেশের উন্নয়নে নয়।

কিন্তু এই সামান্য চা বিক্রেতা একটি সাঁকো নির্মাণের মাধ্যমে দেখিয়ে দিলেন আমাদের সকলের মৃত্যুর আগে নিজের দেশের জন্য কিছু কাজ করে যাওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাউজানের চা বিক্রেতা মুসল্লিদের জন্য বাঁশ দিয়ে তৈরি করলেন সাঁকো

আপডেট সময় : ১০:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

মাসুদা আকতার তিশা
মসজিদে যাওয়ার জন্য সাধারণ বাশ দিয়ে মাত্র ২০ দিনে বিনা পারিশ্রমিকে সাঁকো তৈরি করলেন চট্টগ্রাম রাউজানের চা বিক্রেতা মোহাম্মদ ফজল।

মূলত এই যাতায়াতের জায়গা দিয়ে অল্প কিছু মানুষ যাতায়াত করেন। এবং কোনো সময় কোনো মানুষ মারা গেলে দাফন ও জানাজা এবং যিয়ারতের জন্য এ ব্রিজটি তারা ব্যবহার করেন।

মানুষের যাতায়াতের সমস্যা হওয়াতে মোহাম্মদ ফজল এই পর্যন্ত তার কষ্টার্যিত টাকাই দুইবার বাঁশ দিয়ে সে এ ব্রিজ নির্মাণ করেন।

অথচ এলাকায় ফজলের চেয়েও অনেক বড় বড় টাকাপয়সা ওয়ালা মানুষ বসবাস করেন। তাদের স্বপ্ন আরো টাকার পাহাড় গড়া। তবে ফজল তার ব্যতিক্রমি। একজন মানুষ যে নিজের সংসার চালাতে হিমশিম খায় সে আজ নিজের এলাকার মানুষের জন্য নিজের টাকাই সেতু বানিয়ে দেখিয়ে দিলেন সৎ কাজ মানুষকে দুনিয়ায় লোভ-লালসা থেকে দূরে রাখেন।

ব্রিজ নির্মাতা মোহাম্মদ ফজল বলেন এ ব্রিজ দিয়ে কিছু মানুষ যাতায়াত করে মসজিদে নামাজ পড়তে,কিছু মানুষ যাতায়াত করে কবরস্থানে যেতে।

তিনি আরো বলেন “আমার মতো যদি বাকিরাও এগিয়ে আসে দেশে কোনো দুর্নীতি থাকবেনা,ভালো কাজ করুন এবং ভালো কাজে সকলকে উদ্ভুদ্ধ করুন”। তিনি এ ব্রিজ নির্মাণ করতে গিয়ে তার হাতে এবং চোখে ব্যথা পেলেও তার কিছু বলার নাই। তার একটাই চাওয়া তার মতো সকলে এগিয়ে আসুক।

সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু লোভী মানুষ তাদের নজর সরকারের টাকার ওপর, দেশের উন্নয়নে নয়।

কিন্তু এই সামান্য চা বিক্রেতা একটি সাঁকো নির্মাণের মাধ্যমে দেখিয়ে দিলেন আমাদের সকলের মৃত্যুর আগে নিজের দেশের জন্য কিছু কাজ করে যাওয়া উচিত।