রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাসুদ আর শরিফুল যখন দিনমজুর!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২০ ৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ প্রতিবেদক,
মাসুদ রানা রাসেল ও শরিফুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা সেরা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র কেন দিনমজুর হলো বা তাদের উদ্দেশ্য কি ছিলো এটা অনেক ভাবার বিষয়। তবে এর উত্তর তরা দিয়েছেন।  তাদের বক্তব্য নিচে উল্লেখ কর হলো।

“এটি আমাদের একটি ছদ্মবেশী ট্যুর ছিল। একটি এক্সপেরিমেন্ট এর অংশ হিসেবে, পারফর্মিং আর্ট ও বলা যেতে পারে। স্থান হিসেবে আমাদের পাশের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঠিক করেছিলাম।

যেখানে আমরা দুজন (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী) সাধারন দিনমজুরের বেশে সারাদিন শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম।

আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মূলত সাধারন দিনমজুর হয়ে সারাদিন অতিবাহিত করা, তাদের ফিল করা এবং মানুষ তাদের কি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে বা ট্রিট করে তা বোঝার চেষ্টা করা। এবং বলা যেতে পারে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছিলাম। পোশাক যে সমাজে মানুষের শ্রেনীবিভাগ করার একটি শক্তিশালী মানদন্ড তা খুব ভালভাবেই বুঝতে পেরেছিলাম সেদিন। সবকিছু উল্লেখ করে লিখা দীর্ঘ করতে চাচ্ছি না, তবে বিশেষ কিছু ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়।

 

প্রথমেই বাস থেকে নামার পরে আমাদের হাতে স্মার্টফোন দেখে কয়েকজন ভেবে বসে ছিলেন আমরা মোবাইল চোর / চোরাই মোবাইল বিক্রেতা এবং আমাদের দিকে ছুটেও এসেছিল। যদিও আমাদের সাথে কথা বলার পর তাদের ভুল ধারণা দুর হয়, এর পর সারাদিন আমরা আর জনসমূক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করিনি।

আমরা প্রথমেই ঠিক করেছিলাম যাই কিছু হোক সবকিছু ফেস করবো এবং আমরা আমাদের পরিচয় প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবো। কয়েকজন ভিক্ষুকের মুখোমুখি হয়েছিলাম সারাদিনে তারা আমাদের আশেপাশে লোকদের কাছ থেকে সাহায্য(ভিক্ষা) চাইলেও আমাদেরকে এড়িয়ে গিয়েছিল প্রত্যেকবারই। একবার ইচ্ছাকরেই ১০০ টাকা ক্যাশ আউট করতে গিয়ে দোকানদারের বিরক্তিকর মন্তব্য শুনতে হয়েছিল। বাসে আসার সময় ভাঙ্গা সিটে বসতে হয়েছিল। বাস কাউন্টারের রেস্টরুমে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়েছিল।

একদিনের মধ্যে অনেক নতুন কিছু শিখেছিলাম সেদিন যা হয়ত নাটক সিনেমা দেখে বা বই পড়ে অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তবে সাধারণের সাথে মিশে যাওয়াটা খুব সহজ ছিল ওই পোশাকে, তারাও আমাদের তাদেরই একজন মনে করেছিল, ভাল পোশাকে তাদের সাথে মেশাটা হয়তো অতোটা গভীরে ভাবে সম্ভব হতো না। ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।”

সাথে আমাদের এক জুনিয়র ছোট ভাই তামিম ছিল যে গোপনে সব ছবিগুলো তুলেছিল।

তারিখ :১৫-১০-২০২০ ইং”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাসুদ আর শরিফুল যখন দিনমজুর!

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক,
মাসুদ রানা রাসেল ও শরিফুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা সেরা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র কেন দিনমজুর হলো বা তাদের উদ্দেশ্য কি ছিলো এটা অনেক ভাবার বিষয়। তবে এর উত্তর তরা দিয়েছেন।  তাদের বক্তব্য নিচে উল্লেখ কর হলো।

“এটি আমাদের একটি ছদ্মবেশী ট্যুর ছিল। একটি এক্সপেরিমেন্ট এর অংশ হিসেবে, পারফর্মিং আর্ট ও বলা যেতে পারে। স্থান হিসেবে আমাদের পাশের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঠিক করেছিলাম।

যেখানে আমরা দুজন (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী) সাধারন দিনমজুরের বেশে সারাদিন শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়িয়েছিলাম।

আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মূলত সাধারন দিনমজুর হয়ে সারাদিন অতিবাহিত করা, তাদের ফিল করা এবং মানুষ তাদের কি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে বা ট্রিট করে তা বোঝার চেষ্টা করা। এবং বলা যেতে পারে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছিলাম। পোশাক যে সমাজে মানুষের শ্রেনীবিভাগ করার একটি শক্তিশালী মানদন্ড তা খুব ভালভাবেই বুঝতে পেরেছিলাম সেদিন। সবকিছু উল্লেখ করে লিখা দীর্ঘ করতে চাচ্ছি না, তবে বিশেষ কিছু ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়।

 

প্রথমেই বাস থেকে নামার পরে আমাদের হাতে স্মার্টফোন দেখে কয়েকজন ভেবে বসে ছিলেন আমরা মোবাইল চোর / চোরাই মোবাইল বিক্রেতা এবং আমাদের দিকে ছুটেও এসেছিল। যদিও আমাদের সাথে কথা বলার পর তাদের ভুল ধারণা দুর হয়, এর পর সারাদিন আমরা আর জনসমূক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করিনি।

আমরা প্রথমেই ঠিক করেছিলাম যাই কিছু হোক সবকিছু ফেস করবো এবং আমরা আমাদের পরিচয় প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবো। কয়েকজন ভিক্ষুকের মুখোমুখি হয়েছিলাম সারাদিনে তারা আমাদের আশেপাশে লোকদের কাছ থেকে সাহায্য(ভিক্ষা) চাইলেও আমাদেরকে এড়িয়ে গিয়েছিল প্রত্যেকবারই। একবার ইচ্ছাকরেই ১০০ টাকা ক্যাশ আউট করতে গিয়ে দোকানদারের বিরক্তিকর মন্তব্য শুনতে হয়েছিল। বাসে আসার সময় ভাঙ্গা সিটে বসতে হয়েছিল। বাস কাউন্টারের রেস্টরুমে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়েছিল।

একদিনের মধ্যে অনেক নতুন কিছু শিখেছিলাম সেদিন যা হয়ত নাটক সিনেমা দেখে বা বই পড়ে অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তবে সাধারণের সাথে মিশে যাওয়াটা খুব সহজ ছিল ওই পোশাকে, তারাও আমাদের তাদেরই একজন মনে করেছিল, ভাল পোশাকে তাদের সাথে মেশাটা হয়তো অতোটা গভীরে ভাবে সম্ভব হতো না। ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।”

সাথে আমাদের এক জুনিয়র ছোট ভাই তামিম ছিল যে গোপনে সব ছবিগুলো তুলেছিল।

তারিখ :১৫-১০-২০২০ ইং”