সন্দ্বীপে ঢিলেঢালা কঠোর লকডাউন; স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১ ৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইলিয়াছ সুমন সন্দ্বীপ,
সন্দ্বীপে কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনে ঢিলেঢালা কঠোর লকডাউন চলছে। দেলোয়ার খাঁ গুপ্তছড়া সড়কে ভারি যানবাহন বন্ধ থাকলেও ইজিবাইক, মোটরযান চালিত রিক্সা, অটোরিকশা টেম্পু সহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করছে। এতে গাদা-গাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

সন্দ্বীপ শহরের কয়েকটি স্থানে পুলিশের পক্ষ থেকে চেকপোস্ট বসানো হলেও উপজেলার ১০/১২ ইউনিয়নের চিত্র আলাদা।

বসানো হয়েছে হাট-বাজারও। সেখানে চলছে কেনা-বেচা। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি। অনেকেই মাস্ক ছাড়া চলাচল করছেন। সকাল ১১ টায় সন্দ্বীপের টাণিং পয়েন্ট এনাম নাহার হাই স্কুলের মোড়ে গিয়ে দেখা যাই সারি সারি হোন্ডা চলাচল করছে, কোন কোন হোন্ডায় ২ থেকে ৩ জন ও আছে, এখানে দুজন পুলিশের কনেস্টাবল দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে, এত বেশি গাড়ির চাপ তাদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুনের নেতৃত্বে উত্তর সন্দ্বীপে বিভিন্ন বাজারে অভিযান চলে আইন অমান্য করায় ১ জন কে ৫শ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে।

বেলা ১২ টায় গুপ্তছড়া ঘাটে গিয়ে দেখা যাই যাত্রী দের প্রচুর চাপ মোতায়েন রয়েছে কোষ্টগাট তারা জরুরি রোগী ও ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি ব্যতিত কাউকে বোটে উঠাতে দিচ্ছে না।

এদিকে কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনে সন্দ্বীপ শহরের বিভিন্ন স্হানে দোকান পাট বন্ধ রয়েছে সেনের হাটের ও চিত্র একই তবে বন্ধ থাকার পর ও বিভিন্ন দোকানদার কে দোকান বন্ধ রেখে দোকানের সামনে দরজা একটু লাগিয়ে টুল নিয়ে সামনে বসে থাকে দেখা যাই, তারা চোর পুলিশ খেলা চলে এটা সদর রোডের অন্য রোডের চিত্র একই, তবে দেলোয়ার খাঁ রোডের মধ্যে কিছু দোকান বন্ধ রয়েছে বকতার হাট চৌমুহনী বাজার, এরশাদ মার্কেট, ঘাট মাঝির হাট, হকশাহের বাজার, এসব বাজারে দোকান একটু পাক করে চলে বেচাকিনা পুলিশের টের পাওয়ায় আগে সব বন্ধ আবার যখন তারা চলে যাই তখন আবার খোলে, উত্তর সন্দ্বীপের সব চেয়ে বড় বাজার আকবর হাটে লকডাউন কিছুটা মানতে দেখা যাই দক্ষিণ সন্দ্বীপের সব চেয়ে বড় বাজার শিবের হাটে ও কিছুটা মানতে দেখা যাই তবে চোর পুলিশ খেলা চলে, তবে করোনার এই ভয়াবহতার এ অবস্থায় ও সার্বিক ভাবে বলতে হচ্ছে মানুষ ঠিকই ঘর থেকে বের হয়ে যাই, সরকারের এই প্রজ্ঞাপন অনুসারে শুধু মাত্র ঔষধ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধি ব্যতিত কেউ যাতে রাস্তায় বের না হয়, কিন্তু সন্দ্বীপের চিত্র ভিন্ন সকালে উপজেলা শহরে ও গুপ্তছড়া বাজারে কয়েকজনকে প্রশ্ন করলে দেখা যাই বিভিন্ন বিস্কুট সিগারেট ও কেমিক্যাল সহ বিভিন্ন কোম্পানির লোকজনকে ও মার্কেটিং করতে দেখা যাই তারা বিভিন্ন আইডি কার্ড নিয়ে ঘুরে, এখান থেকে বুঝা তো যাই দোকান খোলা যদি দোকান বন্ধ থাকতো তাহলে তো তারা মার্কেটিং করতে পারতো না।

এদিকে সরকারের চলমান লকডাউনের কথা যদি সন্দ্বীপের ক্ষেত্রে বলতে হয় তাহলে বলতে হবে সন্দ্বীপের ১৫ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা চার লাখ লোকের বসবাস, অনেকে বলে লকডাউন শুধু মেইন রোড় কেন্দ্রীক আসলে তাই, মেইন রোড়ে তো মানুষ বের হলে বিভিন্ন অযুহাত দেয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে, কিন্তু মেইন রোড় ছাড়া সন্দ্বীপ আরে ২/৩ শ রোড আছে যেখানে অলিগলিতে শতশত দোকান এগুলিতে সার্বক্ষনিক আড্ডা চলে, পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ না থাকায় অলিগলিতে অভিযান করা যাচ্ছে না।

আমি গত ৩ দিন সন্দ্বীপের প্রায় এলাকা পরির্দশন করে দেখছি যে যদি মগধরার কথা বলি এখানে ৩ নং ইদ্রিস মুন্সী বাজার থেকে ৯ নম্বর ষোলশহর বা নামার বাজার পর্যন্ত ১০ টি বাজার রয়েছে গতকাল সন্ধ্য থেকে এসব বাজারে গেলে মনে হয় না দেশে কোন করোনা আছে। তবে পেলিশ্যবাজারে লকডাউন কিছুটা মানতে দেখা যাই।

সারিকাইত ইউনিয়নে কাজী বাজার বাংলা বাজার সওদাগর হাট, সায়েদ মার্কেটে লকডাউন মানতে দেখা যাই না যে যার যার মতো করে বিকিকিনি করছে।

মাইটভাংগা ইউনিয়নে চৌধুরী বাজার, নামার বাজার, সায়েদ সমিল, ফকিরের তেমাথা, সিনামা হল ও একই অবস্থা, মুছাপুর ইউনিয়নে সমিতির হাট, তহসিলদার গৌ তেমাথা, তাল পাতা মার্কেট, আলিমিয়ার বাজারে লকডাউন মানা হচ্ছে না চোর পুলিশ খেলা চলে।

পৌরসভা মার্কেটে চোর পুলিশ খেলা চলে দোকান খোলে আবার বন্ধ করে, সন্দ্বীপ টাউন বাজার, বাতেন মার্কেট ও একই অবস্থা, হরিশপুর তুলাতলীতে দোকান তেমন বন্ধ রাখেনা, কালাপানিয়া ও একই অবস্থা বুধার পুকুর, নামার বাজার বানীর হাটে সামান্য কিছু দোকান পাট বন্ধ রয়েছে, মুন্সির হাটে সব দোকান খোলা।

এ অবস্থায় সচেতন মহল মনে করে দ্বীপে লকডাউন বাস্তবায়ন করে মানুষ কে ঘরে রাখতে হলে প্রতিটি বাজারে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সিবিলে গিয়ে কারা দোকান খোলা রাখে তা যাচাই করে সেসব দোকানে তালা মেরে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সন্দ্বীপে ঢিলেঢালা কঠোর লকডাউন; স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত!

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১

ইলিয়াছ সুমন সন্দ্বীপ,
সন্দ্বীপে কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনে ঢিলেঢালা কঠোর লকডাউন চলছে। দেলোয়ার খাঁ গুপ্তছড়া সড়কে ভারি যানবাহন বন্ধ থাকলেও ইজিবাইক, মোটরযান চালিত রিক্সা, অটোরিকশা টেম্পু সহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করছে। এতে গাদা-গাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

সন্দ্বীপ শহরের কয়েকটি স্থানে পুলিশের পক্ষ থেকে চেকপোস্ট বসানো হলেও উপজেলার ১০/১২ ইউনিয়নের চিত্র আলাদা।

বসানো হয়েছে হাট-বাজারও। সেখানে চলছে কেনা-বেচা। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি। অনেকেই মাস্ক ছাড়া চলাচল করছেন। সকাল ১১ টায় সন্দ্বীপের টাণিং পয়েন্ট এনাম নাহার হাই স্কুলের মোড়ে গিয়ে দেখা যাই সারি সারি হোন্ডা চলাচল করছে, কোন কোন হোন্ডায় ২ থেকে ৩ জন ও আছে, এখানে দুজন পুলিশের কনেস্টাবল দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে, এত বেশি গাড়ির চাপ তাদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুনের নেতৃত্বে উত্তর সন্দ্বীপে বিভিন্ন বাজারে অভিযান চলে আইন অমান্য করায় ১ জন কে ৫শ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে।

বেলা ১২ টায় গুপ্তছড়া ঘাটে গিয়ে দেখা যাই যাত্রী দের প্রচুর চাপ মোতায়েন রয়েছে কোষ্টগাট তারা জরুরি রোগী ও ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি ব্যতিত কাউকে বোটে উঠাতে দিচ্ছে না।

এদিকে কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনে সন্দ্বীপ শহরের বিভিন্ন স্হানে দোকান পাট বন্ধ রয়েছে সেনের হাটের ও চিত্র একই তবে বন্ধ থাকার পর ও বিভিন্ন দোকানদার কে দোকান বন্ধ রেখে দোকানের সামনে দরজা একটু লাগিয়ে টুল নিয়ে সামনে বসে থাকে দেখা যাই, তারা চোর পুলিশ খেলা চলে এটা সদর রোডের অন্য রোডের চিত্র একই, তবে দেলোয়ার খাঁ রোডের মধ্যে কিছু দোকান বন্ধ রয়েছে বকতার হাট চৌমুহনী বাজার, এরশাদ মার্কেট, ঘাট মাঝির হাট, হকশাহের বাজার, এসব বাজারে দোকান একটু পাক করে চলে বেচাকিনা পুলিশের টের পাওয়ায় আগে সব বন্ধ আবার যখন তারা চলে যাই তখন আবার খোলে, উত্তর সন্দ্বীপের সব চেয়ে বড় বাজার আকবর হাটে লকডাউন কিছুটা মানতে দেখা যাই দক্ষিণ সন্দ্বীপের সব চেয়ে বড় বাজার শিবের হাটে ও কিছুটা মানতে দেখা যাই তবে চোর পুলিশ খেলা চলে, তবে করোনার এই ভয়াবহতার এ অবস্থায় ও সার্বিক ভাবে বলতে হচ্ছে মানুষ ঠিকই ঘর থেকে বের হয়ে যাই, সরকারের এই প্রজ্ঞাপন অনুসারে শুধু মাত্র ঔষধ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধি ব্যতিত কেউ যাতে রাস্তায় বের না হয়, কিন্তু সন্দ্বীপের চিত্র ভিন্ন সকালে উপজেলা শহরে ও গুপ্তছড়া বাজারে কয়েকজনকে প্রশ্ন করলে দেখা যাই বিভিন্ন বিস্কুট সিগারেট ও কেমিক্যাল সহ বিভিন্ন কোম্পানির লোকজনকে ও মার্কেটিং করতে দেখা যাই তারা বিভিন্ন আইডি কার্ড নিয়ে ঘুরে, এখান থেকে বুঝা তো যাই দোকান খোলা যদি দোকান বন্ধ থাকতো তাহলে তো তারা মার্কেটিং করতে পারতো না।

এদিকে সরকারের চলমান লকডাউনের কথা যদি সন্দ্বীপের ক্ষেত্রে বলতে হয় তাহলে বলতে হবে সন্দ্বীপের ১৫ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা চার লাখ লোকের বসবাস, অনেকে বলে লকডাউন শুধু মেইন রোড় কেন্দ্রীক আসলে তাই, মেইন রোড়ে তো মানুষ বের হলে বিভিন্ন অযুহাত দেয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে, কিন্তু মেইন রোড় ছাড়া সন্দ্বীপ আরে ২/৩ শ রোড আছে যেখানে অলিগলিতে শতশত দোকান এগুলিতে সার্বক্ষনিক আড্ডা চলে, পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ না থাকায় অলিগলিতে অভিযান করা যাচ্ছে না।

আমি গত ৩ দিন সন্দ্বীপের প্রায় এলাকা পরির্দশন করে দেখছি যে যদি মগধরার কথা বলি এখানে ৩ নং ইদ্রিস মুন্সী বাজার থেকে ৯ নম্বর ষোলশহর বা নামার বাজার পর্যন্ত ১০ টি বাজার রয়েছে গতকাল সন্ধ্য থেকে এসব বাজারে গেলে মনে হয় না দেশে কোন করোনা আছে। তবে পেলিশ্যবাজারে লকডাউন কিছুটা মানতে দেখা যাই।

সারিকাইত ইউনিয়নে কাজী বাজার বাংলা বাজার সওদাগর হাট, সায়েদ মার্কেটে লকডাউন মানতে দেখা যাই না যে যার যার মতো করে বিকিকিনি করছে।

মাইটভাংগা ইউনিয়নে চৌধুরী বাজার, নামার বাজার, সায়েদ সমিল, ফকিরের তেমাথা, সিনামা হল ও একই অবস্থা, মুছাপুর ইউনিয়নে সমিতির হাট, তহসিলদার গৌ তেমাথা, তাল পাতা মার্কেট, আলিমিয়ার বাজারে লকডাউন মানা হচ্ছে না চোর পুলিশ খেলা চলে।

পৌরসভা মার্কেটে চোর পুলিশ খেলা চলে দোকান খোলে আবার বন্ধ করে, সন্দ্বীপ টাউন বাজার, বাতেন মার্কেট ও একই অবস্থা, হরিশপুর তুলাতলীতে দোকান তেমন বন্ধ রাখেনা, কালাপানিয়া ও একই অবস্থা বুধার পুকুর, নামার বাজার বানীর হাটে সামান্য কিছু দোকান পাট বন্ধ রয়েছে, মুন্সির হাটে সব দোকান খোলা।

এ অবস্থায় সচেতন মহল মনে করে দ্বীপে লকডাউন বাস্তবায়ন করে মানুষ কে ঘরে রাখতে হলে প্রতিটি বাজারে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সিবিলে গিয়ে কারা দোকান খোলা রাখে তা যাচাই করে সেসব দোকানে তালা মেরে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই