সম্প্রতি কক্সবাজারে রহস্যজনকভাবে বেড়েছে বাসা-বাড়িতে চুরির ঘটনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজার সংবাদদাতা:
কক্সবাজার শহরে হঠাৎ বেড়ে গেছে চোরের উপদ্রব। দুই একদিনের ব্যবধানে একাধিক বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সঙ্ঘবদ্ধ চোরের দল সুযোগ বুঝে বাসা-বাড়িতে ঢুকে মূল্যবান মালামাল নিয়ে সটকে পড়ছে। সর্বস্ব হারিয়ে একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়ছে বাসাবাড়ির মালিকেরা।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে অধিকাংশ মানুষ শহর ছেড়ে গিয়ে গ্রামে অবস্থান করছে। তারা গ্রামে গেলেও মূল্যবান জিনিসপত্র শহরের বাড়িতেই রেখে যান। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে চোরেরা। তালাবদ্ধ বাসা-বাড়ি টার্গেট করে চোরের দল সাবাড় করছে সবকিছু।

সম্প্রতি শহরের বাজারঘাটা মসজিদ রোডের ‘জসিম পুষ্প বিতান’এর মালিক জসিম উদ্দিনের চাউল বাজার মদিনা মঞ্জিলের ভাড়া বাসা থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় চোরের দল।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাসায় গিয়ে সবকিছু এলোমেলো দেখে জসিম উদ্দিন।
তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা গ্রামের বাড়ি সদরের খুরুশকুলের কাউয়ার পাড়ায় চলে যান। ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখেন সব তছনছ। আলমারি ভেঙে সব লুটে নিয়ে গেছে চোরের দল। ওই ভবন মালিকের নাম মো. সায়দুল হক। এ ঘটনায় মালিক পক্ষের কেহ সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা জসিমের। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ জসিম।

গত সোমবার (৬ জুলাই) শহরের হাসপাতাল সড়কস্থ বঙ্গপাহাড়ে ডাঃ পিংকেল দাশের ভাড়া বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। ওইদিন সকালে তিনি প্রাইভেট চেম্বারে যান। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও বিভিন্ন প্রয়োজনে বাইরে যায়। এই সুযোগে চোরের দল তার বাড়িতে ঢুকে ২২ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। বঙ্গপাহাড় এলাকার ননী গোপাল ধরের মালিকানাধীন পলাশ বিল্ডিংয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে তিনি সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

এছাড়া কিছুদিন আগে পর্যটন ব্যবসায়ী আরজু বড়ুয়া করোনার কারণে গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশে চলে যান। সেখান থেকে কলাতলী চন্দ্রিমা এলাকায় তার বাড়িতে এসে দেখেন সবকিছু ওলটপালট। চোরেরা নিয়ে গেছে মূল্যবান মালামাল।

করোনার এই দুঃসময়ে সবকিছু হারিয়ে পথে বসার উপক্রম সৃষ্টি হচ্ছে চুরির শিকার হওয়া মানুষের। চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভাড়াটিয়া।

এই ব্যাপারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. শাহজাহান কবির বলেন, শহরে পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে। তারপরও ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরের দলকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সম্প্রতি কক্সবাজারে রহস্যজনকভাবে বেড়েছে বাসা-বাড়িতে চুরির ঘটনা

আপডেট সময় : ০৮:০০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০

কক্সবাজার সংবাদদাতা:
কক্সবাজার শহরে হঠাৎ বেড়ে গেছে চোরের উপদ্রব। দুই একদিনের ব্যবধানে একাধিক বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সঙ্ঘবদ্ধ চোরের দল সুযোগ বুঝে বাসা-বাড়িতে ঢুকে মূল্যবান মালামাল নিয়ে সটকে পড়ছে। সর্বস্ব হারিয়ে একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়ছে বাসাবাড়ির মালিকেরা।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে অধিকাংশ মানুষ শহর ছেড়ে গিয়ে গ্রামে অবস্থান করছে। তারা গ্রামে গেলেও মূল্যবান জিনিসপত্র শহরের বাড়িতেই রেখে যান। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে চোরেরা। তালাবদ্ধ বাসা-বাড়ি টার্গেট করে চোরের দল সাবাড় করছে সবকিছু।

সম্প্রতি শহরের বাজারঘাটা মসজিদ রোডের ‘জসিম পুষ্প বিতান’এর মালিক জসিম উদ্দিনের চাউল বাজার মদিনা মঞ্জিলের ভাড়া বাসা থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় চোরের দল।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাসায় গিয়ে সবকিছু এলোমেলো দেখে জসিম উদ্দিন।
তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা গ্রামের বাড়ি সদরের খুরুশকুলের কাউয়ার পাড়ায় চলে যান। ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখেন সব তছনছ। আলমারি ভেঙে সব লুটে নিয়ে গেছে চোরের দল। ওই ভবন মালিকের নাম মো. সায়দুল হক। এ ঘটনায় মালিক পক্ষের কেহ সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা জসিমের। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ জসিম।

গত সোমবার (৬ জুলাই) শহরের হাসপাতাল সড়কস্থ বঙ্গপাহাড়ে ডাঃ পিংকেল দাশের ভাড়া বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। ওইদিন সকালে তিনি প্রাইভেট চেম্বারে যান। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও বিভিন্ন প্রয়োজনে বাইরে যায়। এই সুযোগে চোরের দল তার বাড়িতে ঢুকে ২২ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। বঙ্গপাহাড় এলাকার ননী গোপাল ধরের মালিকানাধীন পলাশ বিল্ডিংয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে তিনি সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

এছাড়া কিছুদিন আগে পর্যটন ব্যবসায়ী আরজু বড়ুয়া করোনার কারণে গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশে চলে যান। সেখান থেকে কলাতলী চন্দ্রিমা এলাকায় তার বাড়িতে এসে দেখেন সবকিছু ওলটপালট। চোরেরা নিয়ে গেছে মূল্যবান মালামাল।

করোনার এই দুঃসময়ে সবকিছু হারিয়ে পথে বসার উপক্রম সৃষ্টি হচ্ছে চুরির শিকার হওয়া মানুষের। চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভাড়াটিয়া।

এই ব্যাপারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মো. শাহজাহান কবির বলেন, শহরে পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে। তারপরও ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরের দলকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।