সীতাকুণ্ডে সর্দি-কাশি ও জ্বরের নারীর মৃত্যু নিয়ে আতঙ্ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০ ৩৩৭ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সীতাকুন্ড উপজেলা এলাকায় সর্দি-কাশি ও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে রেনু আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে ।তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় পুরো সীতাকুন্ড উপজেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, তার সর্দি-কাশি ও জ্বর ছিল। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।সীতাকুণ্ডের পৌর সদরে গত কাল রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঐ নারীর বয়স ৬৬ বছর বলে জানা গেছে

ওই নারীর দেবর বলেন, ভাবি ছিলেন একই উপজেলার আরেক ইউনিয়নে বাবার বাড়িতে। সপ্তাহখানেক আগে ভাবির মা মারা গেছেন বার্ধক্যজনিত কারণে। তার জ্বর, সর্দি ও কাশি ছিল। মাকে সেবা করতেন ভাবি। সেখানে গিয়ে তিনি অসুস্থ হন। তারও জ্বর, সর্দি ও কাশি হয়। মঙ্গলবার গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করেনি। সন্ধ্যায় বাবার বাড়িতে না নিয়ে তাকে নিজ বাড়িতে আনা হয়। বাড়িতে আনার পর তার মৃত্যু হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর উদ্দীন বলেন, ওই নারীর হার্টের রোগী ছিলেন, তার মায়ের শ্বাসকষ্ট ছিল। মাকে নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অনেকদিন। মায়ের সেবা করতে গিয়ে সম্ভবত তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার মা করোনার রোগী ছিলেন না।

সীতাকুণ্ড পৌর কাউন্সিলর হারাধন চৌধুরী বাবু বলেন, প্রথমে তাকে বলা হলো-ওই নারী সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরে আবার জানানো হলো স্ট্রোক করে মারা গেছেন। মরদেহ দাফন করার জন্য কবরস্থানে নেওয়া হয়। তিনি (কাউন্সিলর) সেখানে যাচ্ছেন, এমন খবর শুনে কালো রঙের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মরদেহ অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ফিরে আসার পর আবার অ্যাম্বুলেন্সেযোগে মরদেহটি আনা হয়। বুধবার সকালে আবার দাফনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় এর সাথে এই বিষয়ে কথা বল্লে তিনি জানা, ওই নারী জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগে মারা গেছেন। তাই তার স্বজনদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ওই নারীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়নি, তাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

নিহত ওই মহিলার স্বামী কামাল হোসেন জানান গত কাল সন্ধ্যা সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হলে ডা. তাকে ভর্তি না করে বাড়িতে নিয়ে জেতে বলে এর পর তাকে পৌর সদরে আনলে রাতে তার মৃত্যু ঘটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সীতাকুণ্ডে সর্দি-কাশি ও জ্বরের নারীর মৃত্যু নিয়ে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সীতাকুন্ড উপজেলা এলাকায় সর্দি-কাশি ও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে রেনু আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে ।তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় পুরো সীতাকুন্ড উপজেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, তার সর্দি-কাশি ও জ্বর ছিল। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।সীতাকুণ্ডের পৌর সদরে গত কাল রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঐ নারীর বয়স ৬৬ বছর বলে জানা গেছে

ওই নারীর দেবর বলেন, ভাবি ছিলেন একই উপজেলার আরেক ইউনিয়নে বাবার বাড়িতে। সপ্তাহখানেক আগে ভাবির মা মারা গেছেন বার্ধক্যজনিত কারণে। তার জ্বর, সর্দি ও কাশি ছিল। মাকে সেবা করতেন ভাবি। সেখানে গিয়ে তিনি অসুস্থ হন। তারও জ্বর, সর্দি ও কাশি হয়। মঙ্গলবার গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করেনি। সন্ধ্যায় বাবার বাড়িতে না নিয়ে তাকে নিজ বাড়িতে আনা হয়। বাড়িতে আনার পর তার মৃত্যু হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর উদ্দীন বলেন, ওই নারীর হার্টের রোগী ছিলেন, তার মায়ের শ্বাসকষ্ট ছিল। মাকে নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অনেকদিন। মায়ের সেবা করতে গিয়ে সম্ভবত তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার মা করোনার রোগী ছিলেন না।

সীতাকুণ্ড পৌর কাউন্সিলর হারাধন চৌধুরী বাবু বলেন, প্রথমে তাকে বলা হলো-ওই নারী সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরে আবার জানানো হলো স্ট্রোক করে মারা গেছেন। মরদেহ দাফন করার জন্য কবরস্থানে নেওয়া হয়। তিনি (কাউন্সিলর) সেখানে যাচ্ছেন, এমন খবর শুনে কালো রঙের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মরদেহ অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ফিরে আসার পর আবার অ্যাম্বুলেন্সেযোগে মরদেহটি আনা হয়। বুধবার সকালে আবার দাফনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় এর সাথে এই বিষয়ে কথা বল্লে তিনি জানা, ওই নারী জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগে মারা গেছেন। তাই তার স্বজনদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু ওই নারীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়নি, তাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

নিহত ওই মহিলার স্বামী কামাল হোসেন জানান গত কাল সন্ধ্যা সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হলে ডা. তাকে ভর্তি না করে বাড়িতে নিয়ে জেতে বলে এর পর তাকে পৌর সদরে আনলে রাতে তার মৃত্যু ঘটে।