‘স্রষ্টার পথে আহবান’- মাহমুদুর রহমান সাকিব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২০ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘স্রষ্টার পথে আহবান’

মাহমুদুর রহমান সাকিব,
আল্লাহ তায়ালা এই বিশ্বে মানবজাতি সৃষ্টির প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে জীন জাতি সৃষ্টি করে তাদের দিয়ে এই বিশ্বকে আবাদ রেখেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে তারা আল্লাহর হুকুম আহকাম অবজ্ঞা করাই আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছে তার ইবাদত করার জন্য থাকে ভয়করে তার সকল হুকুম আহকাম মেনে তার আনুগত্য করার জন্য। কিন্তু আমরা মানব জাতি কি আজ আল্লাহ তায়া’লার আমাদেরকে সৃষ্টির সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্যে আছি?? আমাদের অন্তরে কি আল্লাহর ভয় আদোও আছে??? আমরা সেই লানত প্রাপ্ত জিন জাতির মতো আল্লাহর অবাধ্য হয়ে তার সাথে নাফরমানী করছি। আমরা আজ এমন এক পর্যায়ে এসে পড়েছি যেখানে বেহায়াপনা, খুন, ধর্ষন, জুলুম নির্যাতন এগুলো আমাদের জন্য অতি সাধারণ ঘটনাই রুপান্তর হয়েছে। আমরা নির্দ্বিধায় একে অন্যের প্রতি জুলুম নির্যাতন করছি দূর্বলদের সম্পদ ছিনিয়ে নিচ্ছি অথচ আমাদের বিন্দু পরিমাণ ভয় আর পরিতাপ নেই হারিয়ে গেছে আমাদের মনুষ্যত্ব। আমাদের এরকম কর্মের জন্য মহান আল্লাহ আমাদের অনেক আগেই সতর্ক করে বলেছেন

**হে মানবমণ্ডলী তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের একজন ব্যাক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের থেকে অসংখ্য নর নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন
(সূরা নিসা, আয়াত নং ১)
কেন আমরা আল্লাহ তায়া’লার এই সতর্ক বাণীর অবজ্ঞা করছি?? কিসের এতো অহংকার আমাদের সকলেই তো আদম সন্তান তবে কেন এতো ভেদাভেদ আমাদের? কেন আমরা দূর্বলের উপর এতো জুলুম নির্যাতন করছি এক মাটি থেকেই তো সৃষ্টি সকলের তবে কিসের এতো আভিজাত্য। আমরা পারবনা সেই কঠিন হাশরের দিনে আল্লাহর কাছে আমাদের আভিজাত্য দেখাতে। সেদিন অসহায় থাকবো আমরা আর এই আভিজাত্যের অহংকার আমাদের বিপক্ষে সাক্ষী দিবে। কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হব আমরা এই অহংকারের জন্য। তাহলে কেন আমরা আল্লাহকে ভয় করছি না। আসেন সব অহংকার, অন্যায় অভিচার, জুলুম নির্যাতন, আর ভেদাভেদ বিসর্জন দিয়ে ফিরে যায় সৃষ্টিকর্তার আহবানে। নিশ্চয় তিনি আমাদের ক্ষমা করবেন তিনিই তো ঘোষণা দিয়েছেন
** নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালবাসেন এবং ভালবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীকে।
(সূরা বাকারাহ’,আয়াত ২২২)
পাহাড় সমান পাপ নিয়ে বান্দা যখন আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করে তার পথে ফিরে আসে তখন আল্লাহ এমন খুশি হয় যেমন একজন মা তার হারানো সন্তান ফিরে পেয়ে খুশি হয়।

পাপ যদিও হয়
পাহাড় সমান
স্রষ্টা যে মোদের
মহা দয়াবান।
অশ্রুজলে লুটিয়ে পরো
তাহারই চরণে
ক্ষমা করবেন সকল অপরাধ
আপন দয়াল মনে।

লেখাঃ মাহমুদুর রহমান সাকিব
শিক্ষার্থীঃ কাগতিয়া কামিল এম এ মাদ্রাসা।
অনার্স ১ম বর্ষ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘স্রষ্টার পথে আহবান’- মাহমুদুর রহমান সাকিব

আপডেট সময় : ০৪:১৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২০

‘স্রষ্টার পথে আহবান’

মাহমুদুর রহমান সাকিব,
আল্লাহ তায়ালা এই বিশ্বে মানবজাতি সৃষ্টির প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে জীন জাতি সৃষ্টি করে তাদের দিয়ে এই বিশ্বকে আবাদ রেখেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে তারা আল্লাহর হুকুম আহকাম অবজ্ঞা করাই আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছে তার ইবাদত করার জন্য থাকে ভয়করে তার সকল হুকুম আহকাম মেনে তার আনুগত্য করার জন্য। কিন্তু আমরা মানব জাতি কি আজ আল্লাহ তায়া’লার আমাদেরকে সৃষ্টির সেই লক্ষ্য উদ্দেশ্যে আছি?? আমাদের অন্তরে কি আল্লাহর ভয় আদোও আছে??? আমরা সেই লানত প্রাপ্ত জিন জাতির মতো আল্লাহর অবাধ্য হয়ে তার সাথে নাফরমানী করছি। আমরা আজ এমন এক পর্যায়ে এসে পড়েছি যেখানে বেহায়াপনা, খুন, ধর্ষন, জুলুম নির্যাতন এগুলো আমাদের জন্য অতি সাধারণ ঘটনাই রুপান্তর হয়েছে। আমরা নির্দ্বিধায় একে অন্যের প্রতি জুলুম নির্যাতন করছি দূর্বলদের সম্পদ ছিনিয়ে নিচ্ছি অথচ আমাদের বিন্দু পরিমাণ ভয় আর পরিতাপ নেই হারিয়ে গেছে আমাদের মনুষ্যত্ব। আমাদের এরকম কর্মের জন্য মহান আল্লাহ আমাদের অনেক আগেই সতর্ক করে বলেছেন

**হে মানবমণ্ডলী তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের একজন ব্যাক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের থেকে অসংখ্য নর নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন
(সূরা নিসা, আয়াত নং ১)
কেন আমরা আল্লাহ তায়া’লার এই সতর্ক বাণীর অবজ্ঞা করছি?? কিসের এতো অহংকার আমাদের সকলেই তো আদম সন্তান তবে কেন এতো ভেদাভেদ আমাদের? কেন আমরা দূর্বলের উপর এতো জুলুম নির্যাতন করছি এক মাটি থেকেই তো সৃষ্টি সকলের তবে কিসের এতো আভিজাত্য। আমরা পারবনা সেই কঠিন হাশরের দিনে আল্লাহর কাছে আমাদের আভিজাত্য দেখাতে। সেদিন অসহায় থাকবো আমরা আর এই আভিজাত্যের অহংকার আমাদের বিপক্ষে সাক্ষী দিবে। কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হব আমরা এই অহংকারের জন্য। তাহলে কেন আমরা আল্লাহকে ভয় করছি না। আসেন সব অহংকার, অন্যায় অভিচার, জুলুম নির্যাতন, আর ভেদাভেদ বিসর্জন দিয়ে ফিরে যায় সৃষ্টিকর্তার আহবানে। নিশ্চয় তিনি আমাদের ক্ষমা করবেন তিনিই তো ঘোষণা দিয়েছেন
** নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালবাসেন এবং ভালবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীকে।
(সূরা বাকারাহ’,আয়াত ২২২)
পাহাড় সমান পাপ নিয়ে বান্দা যখন আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করে তার পথে ফিরে আসে তখন আল্লাহ এমন খুশি হয় যেমন একজন মা তার হারানো সন্তান ফিরে পেয়ে খুশি হয়।

পাপ যদিও হয়
পাহাড় সমান
স্রষ্টা যে মোদের
মহা দয়াবান।
অশ্রুজলে লুটিয়ে পরো
তাহারই চরণে
ক্ষমা করবেন সকল অপরাধ
আপন দয়াল মনে।

লেখাঃ মাহমুদুর রহমান সাকিব
শিক্ষার্থীঃ কাগতিয়া কামিল এম এ মাদ্রাসা।
অনার্স ১ম বর্ষ