চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান নান্দনিক সাজে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুল করিম চট্টগ্রাম মহানগর:
ফুটপাত আছে, তবে হাঁটার সুযোগ নেই। এখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনার পুঁতিময় দুর্গন্ধ। সড়কে নেই পর্যাপ্ত আলো। রাতের শহরটা কেমন ভূতুড়ে আতঙ্ক। এমন বাস্তবতার সঙ্গে যোজন ফারাক নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড জামালখান। নগরীর ৪১ ওয়ার্ড থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এটি। সাজানো, গোছানো, পরিপাটি-যেন নগরীর একখন্ড স্বর্গ।

জামালখানের সড়ক ধরে এদিক ওদিক ঘুরিয়ে একবার হেঁটে গেলে হবে। চোখের প্রশান্তি জুড়াবে এমন অনেক কিছুই ধরা পড়বে। ভেতর থেকে অজান্তেই বেরুবে কয়েকটি শব্দ-সবুজ, পরিপাটি, গোঁছানো।

দেয়ালে দেয়ালে দেশবরণ্য মনিষিদের ম্যুরাল। চারপাশে সবুজ আর রঙ বেরঙের আলোর ঝলকানি। সন্ধ্যা নামলে আকাশ থেকে নামে নীল পানির ফোয়ারা। এ যেন সত্যি এক স্বপ্নের রাজ্য।
এখানে সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা দল বেঁধে খোশ গল্পে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। বাদ যান না শিশু-কিশোরাও। অথচ একসময় যেখানে রাত নামতো ভয়াবহ আতঙ্ক নিয়ে। সন্ধ্যা না নামতেই বিরাজ করতো মধ্য রাতের নির্জনতা। এখন আমূল পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। রাত-দিন এখানে সমান।

এমন সৌন্দর্যে্যর যিনি রূপকার তিনি জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন।
তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলাম আধুনিক মানের একটি ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবো । জীবনের শৈশব কৈশোর সবই কাটিয়েছি এই এলাকায়। নিজের এলাকার জন্য কিছু করতে পারলে ভালোলাগে। আমি যখন নির্বাচিত হই তখন দেখতাম স্কুলের সামনে পোস্টার ফেস্টুন দিয়ে খুবই খারাপ অবস্থা। সেগুলোকে উচ্ছেদ করে আমি ম্যুরাল করে দিয়েছি। ৪১টি ডাস্টবিন স্থাপন করেছি। সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা। তাছাড়া মাননীয় মেয়রের গ্রিন সিটি ক্লিন সিটির একটি অংশ এটি।

তিনি বলেন, জামালখান সড়কের পাশেই নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম এক্যুরিয়াম পার্ক। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকার একটি টোকেন ফি দিয়ে থ্রিডি ছবির মাধ্যমে ছোট বাচ্চারা সাগর তলদেশের নানা বৈচিত্র দৃশ্য উপভোগ করতে পারবে।

জিনু পদ বড়ুয়া নামের এক ব্যবসায়ি জানান, পাথরঘাটা থেকে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন কাজে জামালখানে আসি। খুবই ভালো লাগে এ এলাকাটি।
বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, ছুটির দিনগুলোতে নান্দনিক জামালখান গোল চত্বরটাতে বসে আড্ডা মারি। অন্য কোনো এলাকায় সড়কের পাশে বসার এমন ব্যবস্থা নেই। সত্যি জামালখানে এলে মন জুড়িয়ে যায়। নগরীর সব ওয়ার্ড এমন অবয়বে গড়ে উঠুক এই প্রত্যাশা করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান নান্দনিক সাজে

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯

আব্দুল করিম চট্টগ্রাম মহানগর:
ফুটপাত আছে, তবে হাঁটার সুযোগ নেই। এখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনার পুঁতিময় দুর্গন্ধ। সড়কে নেই পর্যাপ্ত আলো। রাতের শহরটা কেমন ভূতুড়ে আতঙ্ক। এমন বাস্তবতার সঙ্গে যোজন ফারাক নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড জামালখান। নগরীর ৪১ ওয়ার্ড থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এটি। সাজানো, গোছানো, পরিপাটি-যেন নগরীর একখন্ড স্বর্গ।

জামালখানের সড়ক ধরে এদিক ওদিক ঘুরিয়ে একবার হেঁটে গেলে হবে। চোখের প্রশান্তি জুড়াবে এমন অনেক কিছুই ধরা পড়বে। ভেতর থেকে অজান্তেই বেরুবে কয়েকটি শব্দ-সবুজ, পরিপাটি, গোঁছানো।

দেয়ালে দেয়ালে দেশবরণ্য মনিষিদের ম্যুরাল। চারপাশে সবুজ আর রঙ বেরঙের আলোর ঝলকানি। সন্ধ্যা নামলে আকাশ থেকে নামে নীল পানির ফোয়ারা। এ যেন সত্যি এক স্বপ্নের রাজ্য।
এখানে সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা দল বেঁধে খোশ গল্পে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। বাদ যান না শিশু-কিশোরাও। অথচ একসময় যেখানে রাত নামতো ভয়াবহ আতঙ্ক নিয়ে। সন্ধ্যা না নামতেই বিরাজ করতো মধ্য রাতের নির্জনতা। এখন আমূল পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। রাত-দিন এখানে সমান।

এমন সৌন্দর্যে্যর যিনি রূপকার তিনি জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন।
তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলাম আধুনিক মানের একটি ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবো । জীবনের শৈশব কৈশোর সবই কাটিয়েছি এই এলাকায়। নিজের এলাকার জন্য কিছু করতে পারলে ভালোলাগে। আমি যখন নির্বাচিত হই তখন দেখতাম স্কুলের সামনে পোস্টার ফেস্টুন দিয়ে খুবই খারাপ অবস্থা। সেগুলোকে উচ্ছেদ করে আমি ম্যুরাল করে দিয়েছি। ৪১টি ডাস্টবিন স্থাপন করেছি। সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা। তাছাড়া মাননীয় মেয়রের গ্রিন সিটি ক্লিন সিটির একটি অংশ এটি।

তিনি বলেন, জামালখান সড়কের পাশেই নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম এক্যুরিয়াম পার্ক। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকার একটি টোকেন ফি দিয়ে থ্রিডি ছবির মাধ্যমে ছোট বাচ্চারা সাগর তলদেশের নানা বৈচিত্র দৃশ্য উপভোগ করতে পারবে।

জিনু পদ বড়ুয়া নামের এক ব্যবসায়ি জানান, পাথরঘাটা থেকে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন কাজে জামালখানে আসি। খুবই ভালো লাগে এ এলাকাটি।
বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, ছুটির দিনগুলোতে নান্দনিক জামালখান গোল চত্বরটাতে বসে আড্ডা মারি। অন্য কোনো এলাকায় সড়কের পাশে বসার এমন ব্যবস্থা নেই। সত্যি জামালখানে এলে মন জুড়িয়ে যায়। নগরীর সব ওয়ার্ড এমন অবয়বে গড়ে উঠুক এই প্রত্যাশা করেন তিনি।