নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দনাইশ:
চন্দনাইশে থানার ওসি ও পুলিশ পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করায় চন্দনাইশ থানায় মামলা দায়ের করেছেন রায়ছড়ি চাঁদপুরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম প্রকাশ নাহিদ (২০)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রবিউল তার খালাতো বোন তানিয়া আকতার (১৮), খালাতো ভাই নাজমুল হোসেন (১২) কচুয়া চাদপুরসহ কক্সবাজার আত্মীয় বাড়ি থেকে চাদপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম রেলষ্টেশনে আসে। ট্রেন ছেড়ে দেয়ায় নিরুপায় হয়ে চাদপুর যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাস খোজে। এসময় চালক সেজে সাতকানিয়ার ঢেমশার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে মোবারক হোসেন প্রকাশ সাদেক প্রকাশ শাহাদাৎ মাইক্রোবাস (চট্ট-মেট্রো-চ-১১-২০৯৯) গাড়ির চালক সেজে চাদপুর যাওয়ার জন্য ৭ হাজার টাকায় দরদাম করে। পরে তাদের গাড়িতে নিয়ে রাত ১১টায় মাইক্রোবাসটি রওনা দেয়। মাইক্রোবাসটি নতুন ব্রীজ পার হলে রবিউল কেন কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছে জানতে চাইলে গাড়ির চালক নিজেকে চন্দনাইশ থানার ওসির ড্রাইভার হিসেবে পরিচয় দিয়ে চুপ থাকতে বলে এবং তারা ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে হুমকি দেয়। গাড়িটি নিয়ে রাত ১টার সময় দোহাজারী আবুল কাশেম লেদু পেট্রোল পাম্পে আসে। এসময় চালক ও তার সহযোগিকে মোবাইলে ওসি ও দারোগা পরিচয় দিয়ে ডাকে। এসময় ইসতিয়াক উদ্দিন রিয়াদ নিজেকে চন্দনাইশ থানার ওসি, রুবেল নিজেকে দারোগা পরিচয় দিয়ে তারা অবৈধ ইয়াবার ব্যবসা করে বলে ধমক দিয়ে কিল ঘুষি লাথি মারে। এসময় রবিউলের নিকট থাকা ১৫ হাজার টাকা মুল্যের মোবাইল, ৯ হাজার ৩শ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তাদেরকে চন্দনাইশ থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। না গেলে ৫০ হাজার টাকা দিতে বলে। তাদের কিল, ঘুষি, লাথি মেরে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এসময় তারা মাইক্রো নিয়ে বিভিন্ন সড়কে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। পরে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপনের জন্য রবিউলের মা সালেহা বেগমের মোবাইল ০১৮৮৪১২৫১১৮ নাম্বারে কল করে মুক্তিপনের ৫০ হাজার টাকা দিতে বলে। এসময় তারা শোরচিৎকার করলে টহলরত পুলিশ তাদের মাইক্রোবাসকে ধাওয়া করলে অনুমান ২টা ৪৫ মিনিটের সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাঠানীপুল এলাকায় গাড়ি থামিয়ে পালানোর সময় পুলিশ তাদেরকে ধরে ফেলে।
এব্যাপারে রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে গত ১১ জুন রাতে ধৃত ৩ জনকে আসামী করে চন্দনাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানা অফিসার ইনচার্জ কেশব চক্রবর্ত্তী। গত ১২ জুন গ্রেপ্তারকৃত আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।