নিজস্ব সংবাদদাতা,
রাউজানের হলদিয়া আইলী খীল সড়কের ডাবুয়া খালের উপর ব্রীজ নির্মান কাজের জন্য খালের মধ্যে মাটির বাধ দিয়ে উজান থেকে আসা পানি আটক করায় ব্রীজ নির্মানের স্থান থেকে নিচে খালের পানি না আসায় বিপুল পরিমান সব্জি ক্ষেত, বোরো ধানের চাষাবাদে সেচ সংকট কৃষকেরা সেচের পানির জন্য হাহাকার করছে।
রাউজান উপজেলা হলদিয়া ইউনিয়ন ও ডাবুয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হলদিয়া আইলী খীল সড়কে ডাবুয়া খালের উপর ব্রীজটি গত কয়েক বৎসর পূর্বে বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের শ্রোতের পানিতে বিধস্ত হয়। ব্রিজটি বিধস্ত হওয়ার পর হলদিয়া আইলী খীল এলাকার জনগনের চলাচলে ব্যাপক দুভোর্গ পোহাতে হয়।
এলাকার জনগনের দুভোর্গ লাঘবে রাউজানের সংসদ এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর হলদিয়া আইলী খীল সড়কে নতুন ব্রীজ নির্মানের জন্য টেন্ডার আহবান করে।
৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৩ হাজার ৩শত ৯০ টাকা ব্যয়ে ডাবুয়া খালের উপর ৩৮ মিটার দৈর্ঘ্য লংকাট ব্রীজ নির্মানের টেন্ডার নেয় দিদারুল এন্ড মাজেদা এন্টার প্রাইজ জেবি। ঠিকাদারী প্রতিষ্টান গত ২০ জানুয়ারী ব্রিজের নির্মান কাজ শুরু করে। ঠিকাদারী প্রতিষ্টান ব্রিজের নির্মান কাজ শুরু করার সময়ে ডাবুয়া খালের মাঝখানে মাটি দিয়ে বাধ দিয়ে উজান থেকে আসা পানি আটক করে।
খালের মাঝখানে মাটি দিয়ে বাধ দিয়ে উজান থেকে আসা পানি আটক করার সময়ে বাধের বিকল্প স্থান দিয়ে পানি নামার ব্যবস্থা করা হয়নি। ব্রীজের নির্মান স্থান থেকে নিচে পূর্ব ডাবুয়া, হাসান খীল, কান্দি পাড়া, রামনাথ পাড়া, কেউকদাইর, চিকদাইর ইউনিয়নের পাঠান পাড়া, সন্দ্বীপ পাড়া, রাউজান পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সুলতানপুর কাজী পাড়া, পশ্চিম সুলতান পুর এলাকায় শুস্ক মৌসুমে সবজি ক্ষেত ও বোরো ধানের চাষাবাদে সেচ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ডাবুয়া খালের উজানের পানি বাধের কারনে না আসায় বিপুল পরিমান সবজি ক্ষেত ও বোরো ধানের চাষাবাদে এলাকার কৃষকেরা সেচের পানি দিতে পারছেনা । সেচের পানির অভাবে বিপুল পরিমান সবজি ক্ষেত ও বোরো ধানের চাষাবাদ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দাবী করে। এলাকার কৃষকেরা সেচের পানি পাওয়ার জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবিরের কাছে আবেদন করেন।
সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায় ব্রীজ নির্মাণের স্থানে ডাবুয়া খালের মাঝখানে মাটির বাধ দিয়ে উজান থেকে আসা পানি আটক করা হয়। বাধের মাঝখানে ৮ ইঞ্চি গোলাকার আয়তনের একটি পাইপ বসানো হয়েছে। পাইপ দিয়ে বাধের আটকানো পানি থেকে পানি নামছে কম।
রাউজানের হাসানখীল এলাকার কৃষক আবু তাহের বলেন, শুস্ক মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে আলু, মরিচ, পেলন সহ নানা সবজি ক্ষেতের চাষাবাদ করেছেন । ডাবুয়া খালের মধ্যে ব্রীজ নির্মান করার স্থানে বাধ দিয়ে পানি আটক রাখায় ডাবুয়া খালে পানি না থাকায় সবজি ক্ষেতে সেচ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সবজি ক্ষেত ক্ষতি হচ্ছে।
রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসের আওতাধীন ডাবুয়া ইউনিয়ন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিদারুল আলম বলেন, ব্রীজের নির্মান করার স্থানে ডাবুয়া খালের নিচের অংশে পানি নামার কোন ব্যবস্থা না রেখে ডাবুয়া খালের মাঝখানে মাটির বাধ দিয়ে পানি আটক করায় নিচু এলাকার সবজি ক্ষেত ও বোরো ধানের চাষাবাদে কৃষকেরা সেচের পানি পাচ্ছেনা।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিদারুল আলম আরো জানান, এ ব্যাপারে সবজি ক্ষেত ও বোরো ধানের চাষাবাদে সেচ সংকট নিরসনের জন্য এলাকার কৃষকেরা রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ বরাবরে আবেদন করেছেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের মালিক মোঃ রাশেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খালের মধ্যে মাটি দিয়ে বাধ নির্মান করে উজান থেকে আসা পানি আটক করে ব্রীজের নির্মান কাজ করেছি । খালের মাঝখানে বাধের থেকে নিচে পানি নামার জন্য পাইপ বসানো হয়েছে ।
এ ব্যাপারে রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালম বলেন, কৃষক বাচঁলে দেশ বাচঁবে, ব্রীজের নির্মান কাজের স্থানে খালের মধ্যে মাটি দিয়ে বাধ থেকে নিচে পানি নামার জন্য পাইপ বসানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরো পাইপ বসানো হবে ।