Home আমার চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম জেলা রাউজানের মহামুনি বৌদ্ধ বিহার এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না মহামুনি মেলা

রাউজানের মহামুনি বৌদ্ধ বিহার এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না মহামুনি মেলা

মাসুদা আকতার তিশা,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামে রাউজানে প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মুহামুনিতে বৈশাখী মেলা এবার হচ্ছে না। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় অবস্থিত এই গ্রামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো বাংলার প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী মহামুনি মেলা।

নতুন বর্ষ কে বরণ করে ও পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে আদিবাসীরা রাউজানে প্রাচীন ঐতিহাসিক মহামুনি বৌদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করে এই মেলা এবং তাদের উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি।কিন্তু করোনা দ্বিতীয় ঢেউ বেড়ে যাওয়ার ১৩ ও ১৪ই এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি পাহাড়ি বাঙালি দের মিলন মেলা স্থগিত রেখেছে প্রশাসন।

প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এ মেলা প্রতি বছর চৈত্র্য সংক্রান্তির শেষ দিন থেকে শুরু করে তিনদিনব্যাপী চলতে থাকে। ঐতিহাসিক এ মেলা চট্টগ্রাম জেলার এবং পার্বত্য আদিবাসী এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এক মিলনমেলায় পরিনিত হয়। রাউজানে মহামুনি মেলাকে ঘিরে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড় জমে থাকে। এই মেলার প্রধান আর্কষণ হলো পানি খেলা। পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী মেয়েরা বিভিন্ন রকম রং পানি একে অন্যের দিকে ছুড়ে মারে। বর্ষবরণ উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আলেচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটকসহ গ্রামের মেয়েদের নৃত্যানুষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও ব্যাপক আয়োজন করতো।কিন্তু এবার এ মেলা বন্ধ রাখার কারণে স্থানটি তে তেমন কোনো আয়োজন নেই।

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন পাহাড়তলী ইউনিয়নের পাহাড়তলী গ্রামের ঠিক মধ্যস্থলে একটি অনুচ্চ টিলার উপর বিহারটি অবস্থিত। এ বিহারটি প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে মতবিরোধ আছে।কারও ধারণা, ১৮১৩ সালে পুণ্যাত্মা ভিক্ষু চাইংগা ঠাকুর স্বগ্রামবাসীর সামগ্রিক সহায়তায় এ বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ড।

রামচন্দ্র বড়ুয়ার মতে, মহামুনি মূর্তি ও মন্দির ১৮০৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছে “ ১২৬৭ মগাব্দের ১০০ বছর পূর্বে (১৮০৫ খ্রিঃ) মহামুনি মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে”( চট্টগ্রামের মগের ইতিহাস প্রাগুক্ত, পৃ, ১৬।) এমনতাবস্থায় নিঃসন্দেহে বলা যায় উনবিংশ শতকের প্রথম দুদশকের মধ্যেই এ বিহার ও মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

মন্দিরটিকে কেন্দ্র করে ১৮৪৩ সালে মং সার্কেল রাজা চৈত্র্যের শেষ তারিখে মেলার আয়োজন করেন। পরবর্তী সময়ে মেলাটি মহামুনি মেলা নামে পরিচিত লাভ করে। চৈত্র্য সংক্রান্তির দিন তিন পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পুণ্যার্থীরা সারাদিন অবস্থান শেষে সন্ধ্যায় বুদ্ধের পুণ্য লাভের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয় নতুন বছরকে। একই সাথে তারা সেখানে রাত্রি যাপন করতো।

রাউজানের জন্য এ মেলা খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু এবার এটি না হওয়া এখানে আসা আদিবাসী রা তাদের নিজ গৃহে তাদের উৎসব পালন করবেন।স্থানীয়রা আশাবাদী বিপর্যয় কাটিয়ে উঠলে আবারো তারা উক্ত স্থান আবারো উৎসবমুখর হয়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here