কক্সবাজার সংবাদদাতা:
পিএমখালীর মানুষের নিত্য আতঙ্ক ডাকাত সর্দার এলাকার ত্রাস বহু অপকর্মের হোতা একাধিক মামলার ফেরারি আসামি অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ইয়াবা ব্যবসায়ী চাঁদাবাজ আব্দুল মালেককে গ্রেফতারের খবরে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন সাধারণ মানুষ। সাথে থানা পুলিশকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সাধুবাদ জানিয়েছেন অত্র ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলােই) রাত ৯ টার দিকে পিএমখালীর চেরাংঘাটা বাজার থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ উল্লাহর নেতেৃত্বে চৌকস একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। সে মাইজপাড়া এলাকার মৃত কবির আহমদের পুত্র। তাকে গ্রেপ্তার করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির।
গ্রেপ্তারকৃত মালেকের নেতৃত্বে রয়েছে একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ইয়াবা ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিদিন কোন না কোন স্পর্শ কাতর কয়েক স্থানে তাদের কয়েকজন সদস্যকে আতঙ্কগ্রস্ত ভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
প্রিয়াঙ্কার ইউনিয়নের কথিত আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় এলাকার সহজ-সরল মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করে গোপনে/প্রকাশ্য চাঁদাবাজিসহ নানান অপকর্ম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকার মানুষের। সিন্ডিকেট কর্তৃক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হলেও নুরুল আলম হুমায়ুন কবিরের মত নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস করে না।
সম্প্রতিকালে গ্রেপ্তারকৃত মালেকের নেতৃত্বে চুরি ডাকাতি ছিনতাই চাঁদাবাজিসহ একাধিক হতাহতের ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পর তাকেসসহ অন্যান্যদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল এলাকাবাসী। এরই মধ্যে গত ৪ জুলাই শনিবার মৃত মাওলানা কবির আহমদের পুত্র হুমায়ুন কবিরকে নূর মোহাম্মদ চৌধুরী বাজারের মসজিদের সামনে বাজারে আগত কয়েক শত মানুষের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে মোটরসাইকেল টাকা মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে মারাত্মক আহত করে মৃতপ্রায় ফেলে যায় তারা।
তৎকালীন গ্রীন সোসাইটির আদলে চুরি ছিনতাই ডাকাতি জবরদখল সহ নানান অপরাধের প্রবর্তক আবদুল মালেক গ্যাংয়ের জোর যুলুম ও নির্যাতনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কেউ বাদ যাচ্ছেনা। দুই একদিনের ব্যবধানে একের পর এক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে মালেক গ্যাং।
গত ৮ জুন পিএমখালীর চেরাংঘর বাজারের টেন্ডার ফেলাকে কেন্দ্র করে কোন কারণ ছাড়া স্থানীয় ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আলমকে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে শতশত মানুষের সামনে মারধর করে আহত করেন আওয়ামী নামধারী সন্ত্রাসী মালেক, আলাল, বাবুলসহ একাধিক ব্যক্তি। এ ঘটনার বিবরণ উপজেলা পরিষদর সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া যাবে।
গত ২৬ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের মাছুয়াখালী বাজার পাড়ায় আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারন সম্পাদক নুরুল আলমসহ পরিবারের ৪ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করেন। ওই ঘটনায় সদর থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অবশেষে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আব্দুল মালেক ওরফে কেতা মালেক।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসি কার্যক্রম ও ভূমিদস্যুতা করে আসছিল চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। প্রায় সময় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটে এমন ঘটনায় তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে বাধা দিতেন নুরুল আলম। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মার্চ রাতের তার বাড়ির লাগোয়া প্রবাসী শাহ আলমের বাড়িতে ডাকাতির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ডাকাতদল অতর্কিত ভাবে নুরুল আলমের উপর হামলে পড়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন।এক পর্যায়ে নুরুল আলমের মাথায় আঘাত করলে ডান কান ছিড়ে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায় সে।
এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসলে ছোট বোন নুরুন নাহার (২৫) ও তার মা মোতাহেরা বেগম, ছোট ভাই নুরুল হাকিমকেও (২০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসিরা। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ সময় আহত নুরুল আলম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-জিআর-২৯৬/২০২০। এই মামলাতেই গ্রেপ্তার হয়েছেন আব্দুল মালেক ওরফে কেতা মালেক।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলো পিএমখালীর পোকপাড়া এলাকার মাহমুদুর রহমানের ছেলে মৌলভী মুজিব ওরফে লম্বা মুজিব (৫০), কাটালিয়া মোড়া এলাকার মৃত শফিউল আলমের ছেলে আবু তাহের (৪০), মাইজ পাড়া এলাকার কবির আহমদের ছেলে কলিম উল্লাহ (২৭), মৃত শফিউল আলমের ছেলে মতিউর রহমান (২৫), চৌধুরী পাড়া এলাকার মৃত ফজল আহমদের ছেলে মোঃ মঞ্জুর (২৮), ঘোনার পাড়া এলাকার মনির আহমদের ছেলে ওসমান (২৮), শফিউল আলমের ছেলে শেকু (৩৫), আজহার (২৪), মাইজ পাড়া এলাকার মৃত ফোরকানের ছেলে খোরশেদ (২৩), সাইফুলসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জন।
সূত্র মতে, উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা নারী নির্যাতন সহ বিভিন্ন অপরাধের এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ জিআর ২৮০/১১, জিআর ১৯৬/০২, জিআর ২৩৮/০১, জিআর ১৪৯/১১, জিআর ৭৮/০২, জিআর ৪৭৭/০২, জিআর ২৫৩/০৯, জিআর ৩৫১/০১ জিআর ৫৯৭/১১, জিআর ২৯৬/২০, এসটি ১৯২/০৩ ও এসটি ২৫৫/১৩।
পিএমখালী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।